বাণিজ্য

সিঙ্গাপুর-কলম্বো বন্দরে জট, অস্থির দেশের রপ্তানি বাণিজ্য

চট্টগ্রাম ব্যুরো:
করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে সিঙ্গাপুর-কলম্বো বন্দরে জাহাজ ও কনটেইনার জট তৈরি হয়েছে। ফলে রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার জট তৈরী হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরেও। এতে অস্থিরতা নেমে এসেছে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে।

বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাকালীন গত একবছরে লকডাউনে শ্রমিক সংকট, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্বের প্রায় সব বন্দরেই পণ্য পরিবহনে সংকট তৈরি হয়েছে। বন্দরগুলোর জেটিতে জাহাজ ভিড়তে ৮ থেকে ১০ দিন লেগে যাচ্ছে।

এতে বাংলাদেশ, ভারত, কম্বোডিয়ার মতো ছোট বন্দর থেকেও ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের মাধ্যমে বড় জাহাজে রপ্তানি পণ্য তুলতে বিলম্ব হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সিঙ্গাপুর ও কলম্বো বন্দরে পৌঁছার পর মাদার ভেসেলে কানেকশন পেতে প্রায় দুই সপ্তাহ লাগছে।

তবে এ অবস্থায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট হিসেবে সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর বিকল্প বন্দর খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সিঙ্গাপুর কলম্বোতে জাহাজ জট তৈরি হলে আন্তর্জাতিক দুটি শিপিং কো¤পানি রপ্তানি পণ্যের বুকিং বন্ধ করে দেয়। এতে দেশের ১৯টি বেসরকারি ডিপোতে প্রায় ১৪ হাজার রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার জমে যায়। অন্যদিকে আমদানি পণ্যের প্রায় ৩০ হাজার কনটেইনার জমে যায় সিঙ্গাপুর-কলম্বোতে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট হিসেবে ব্যবহার হয় সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর। এছাড়া মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং হয়েও কিছু পণ্য পরিবহন হয়। সম্প্রতি পণ্য পরিবহন বেড়ে গেলে সিঙ্গাপুর ও কলম্বো বন্দরে জাহাজ জট দেখা দেয়। তখন জট কমাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ধরনের চার্জ আরোপ করে। এতে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েন।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর জানান, বাংলাদেশ থেকে অধিকাংশ রপ্তানি পণ্য মার্কস লাইন পরিবহন করে। সিঙ্গাপুর-কলম্বোতে জটের কারণে তারা এখন বুকিং নিচ্ছে না। তাই একাধিক শিপিং লাইনে পণ্য পরিবহনের সুযোগ থাকা উচিত। চীনের সাংহাই, গোয়াংঝুসহ একাধিক বন্দর ব্যবহার করে সরাসরি পণ্য পরিবহন করলে সময় এবং অর্থের সাশ্রয় হবে। যেসব এমএলও চীন থেকে সরাসরি জাহাজ পরিচালনা করবে সেই জাহাজগুলোকে চট্টগ্রাম বন্দরে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশে অধিকাংশ কাঁচামাল চীন থেকে আমদানি হয়। পণ্য আসে সিঙ্গাপুর হয়ে। অথচ সরাসরি এলে দুই সপ্তাহের মধ্যে পণ্য পৌঁছবে চট্টগ্রাম বন্দরে, যা সিঙ্গাপুর থেকে আসতে মাস পার হয়ে যায়। আবার ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি হয়। বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয় দেশগুলোতে। আমদানি পণ্য মাদার ভেসেল বা বড় জাহাজে করে সিঙ্গাপুর বন্দরে আসে। সেখান থেকে ফিডার ভেসেলে বাংলাদেশের বন্দরে আসে। রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে কারখানা থেকে পণ্য পাঠানো হয় বেসরকারি ডিপোতে। সেখান থেকে কনটেইনারে করে সরাসরি ফিডার জাহাজে তোলা হয়। সেটি সিঙ্গাপুর বা কলম্বো বন্দরে নিয়ে যায়। সেখান মাদার ভেসেলে করে গন্তব্যে পৌঁছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, কনটেইনার ও জাহাজ জট নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এটি চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো সংকট নয়। এটি ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্টগুলোর সংকট। মেইন লাইন অপারেটর বা এমএলও যারা আছেন তাদের কনটেইনার পরিবহনের সংকট। এমএলওদের মধ্যে ডাইরেক্ট ইন্টারচেঞ্জ চুক্তি থাকলে এ সংকটের সুরাহা সহজ হয়। কমন ক্যারিয়ার অ্যাগ্রিমেন্টও যদি তাদের মধ্যে থাকত, তাহলে এই সংকট হতো না।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দর ও ১৯টি বেসরকারি ডিপোতে বর্তমানে ৪০ হাজারের বেশি খালি কনটেইনার আছে। অফডকে ২০ ফুটের ১৩ হাজার ৬৪৭ ও ৪০ ফুটের ১২ হাজার ৬৮৯ এবং বন্দরে ২০ ফুটের ২ হাজার ৪৩১ ও এক হাজার ৪৭৭টি ৪০ ফুটের কনটেইনার রয়েছে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, বর্তমানে জাহাজ ও কনটেইনার সংকট নেই। আন্তর্জাতিকভাবে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় এমএলওরা বুকিং নিচ্ছে না। তাই কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সিঙ্গাপুর-কলম্বো বন্দর থেকে বাংলাদেশের রপ্তানি কনটেইনার দ্রুত পরবর্তী গন্তব্যে পরিবহনের জন্য দুই দেশে নিয়োজিত বাংলাদেশের হাইকমিশনারদের তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সান নিউজ/আইকে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা