বাণিজ্য

স্বস্তিদায়ক শেয়ারবাজারে অস্বস্তির নাম অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক : অনেকদিন ধরে দেশের প্রধান দুই শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী। উভয় ক্ষেত্রে লেনদেনও রয়েছে স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে। এ স্বস্তির ভেতরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে ধীরে ধীরে আতঙ্ক বিরাজ করছে যার নাম অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। সূচকের চেয়ে অনেকবেশি দ্রুতগামী কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম। এতে কোম্পানির মৌলভিত্তির তুলনায় শেয়ারের দামের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে।

নতুন তালিকাভুক্ত এসোসিয়েটেড অক্সিজেন নামের কোম্পানির কথা। মাত্র ৯ কার্যদিবসে এটির শেয়ারের দাম বেড়ে হয়েছে ৫ গুণ। যে শেয়ার কোম্পানির উদ্যোক্তারা বিক্রি করলেন ১০ টাকায়। আর বাজারে আসতে না আসতেই সেটির দাম উঠেছে ৫০ টাকায়।

স্বাভাবিকভাবেই তাই প্রশ্ন জাগতেই পারে—এ কী করে সম্ভব? শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া খুবই সহজ। আর সেটি হলো, কারসাজির মাধ্যমেই কেবল ৯ দিনে ১০ টাকার শেয়ারকে ৫০ টাকা বানানো সম্ভব শেয়ারবাজারে।

যাদের হাতে বর্তমানে এ কোম্পানীর শেয়ার আছে, তারা এ উত্থানে বেজায় খুশি। কারণ, যত বেশি দাম, তত বেশি মুনাফা। কিন্তু অযৌক্তিক দাম কখনো টেকসই হয় না। তাই একটা না একটা পর্যায়ে যেভাবে দাম বেড়েছে, সেভাবে কমবেই। অতীত অভিজ্ঞতা তাই বলে। আর তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই।

অতীতে দেখা গেছে, স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কোম্পানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করে বিএসইসিতে প্রতিবেদন পাঠানো হতো। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ কারসাজির বিভিন্ন প্রমাণও পেত।

এশিয়া ইনস্যুরেন্স মাত্র ৪ মাসের ব্যবধানে কোম্পানির শেয়ারের দাম ১৭ টাকা থেকে ১০০ টাকা ছুঁই ছুঁই। একই সময়ের ব্যবধানে এশিয়া প্যাসিফিক ইনস্যুরেন্সের শেয়ারের দাম ১৯ টাকা থেকে ৩৩৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮২ টাকা। কারসাজি ছাড়া এ রকম অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির আর কোনো কারণ নেই।

অতীতে দেখা গেছে, স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কোম্পানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করে বিএসইসিতে প্রতিবেদন পাঠানো হতো। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ কারসাজির বিভিন্ন প্রমাণও পেত। কিন্তু এখন সেই স্টক এক্সচেঞ্জ আছে, বন্ধ হয়ে গেছে তার ভালো কাজগুলো।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায়ও এখন বাজার তদারকির আধুনিক সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থা রয়েছে। যেকোনো ধরনের কারসাজির ঘটনা তাতে তাৎক্ষণিক ধরা পড়ার কথা। কিন্তু কিছু কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম কারসাজির কারণে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লেও নিয়ন্ত্রক সংস্থাও তদন্তের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।

এতে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের মধ্যে হতাশাও তৈরি হচ্ছে। আমাদের শেয়ারবাজারের সবচেয়ে বড় সংকট আস্থার। বেশ কিছু দিন ধরে নানা কারণে বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের যে আস্থা ফিরেছে, সেটি ধরে রাখা জরুরি। আর তার জন্য দরকার বাজারে সুশাসন নিশ্চিত করা। বর্তমান নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে সেটিই সবার চাওয়া।

সান নিউজ/এসএ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা