মাহমুদুল আলম: সোশ্যাল মিডিয়া, সিটিজেন জার্নালিজমের অবাধ প্রবাহ মনিটর করতে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যদিও আগে থেকেই এসব বিষয় দেখভালের জন্য দেশে তথ্য-প্রযুক্তি (আইসিটি) বা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আছে। সংশ্লিষ্ট আইন গণমাধ্যমের জন্য হুমকি বলে বিস্তর সমালোচনাও আছে।
গত বুধবার (গত ১৭ ফেব্রুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নিয়মিত বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুক, ইউটিউবসহ অনান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বাংলাদেশে তাদের অফিস দিয়ে বাংলাদেশে যারা সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা সিটিজেন জার্নালিজম করে তাদের মনিটর করার দায়িত্ব দিতে চায়। তাদের বলবে, রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী আইডি, পোর্টাল বা অন্য যেকোনো সোশ্যাল মাধ্যম যেন তারা কড়া নজরদারি করে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় অবাধ তথ্য প্রবাহের কারণে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কার্যালয় বাংলাদেশে করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে বিটিআরসিকে উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অবাধ তথ্য প্রবাহের কারণে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অপপ্রচার, অপসংস্কৃতি, বিভ্রান্তি রোধ করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজার হাজার কোটি টাকার বিজ্ঞাপন যাচ্ছে। কারা এসব দিচ্ছে, কেন দিচ্ছে, এসব বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়ার জন্য এনবিআরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ আলোচিত বিষয়ে সম্প্রতি কথা হয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হোসেন ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের সঙ্গে।
নতুন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিংয়ে উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাননিউজকে বলেন, সম্প্রতি আল জাজিরায় কী নিউজ হয়েছে- সে জন্য নয়। এটা হচ্ছে ইউটিউবসহ এসব সামাজিক মাধ্যম আমাদের সন্তানরাও দেখে। সেখানে যেন অসামাজিক কিছু দেখানো না হয়, হলে যেন তা বন্ধ করা যায়- সেজন্য।
মন্ত্রী বলেন, কিন্তু এসব বিষয় আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বলতে গেলে আমাদের দেশে তো তাদের অফিস থাকা প্রয়োজন। এই প্রয়োজন বোধ থেকেই আমরা কথাগুলো বলছি।
জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সাননিউজকে বলেন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কোনো আইন প্রণয়ন করবে না। ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিটিআরসিকে কেউ নির্দেশ দিবে। বিটিআরসি নিজে কোন ব্যবস্থা নিতে পারে না।
নির্দেশনা আপনাদের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় হয়েই তো যাবে বা আপনারাই বিটিআরসিকে নির্দেশ দেবেন? জবাবে মন্ত্রী বলেন- না,আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিটিআরসিকে যা করতে বলবে, বিটিআরসি সেই ভাবে কাজ করে। বিটিআরসি নিজে কোন সিদ্ধান্ত নেয় না।‘বিটিআরসিকে নির্দেশ দিলে, বিটিআরসি আমাদের অনুমোদন নেয়।
আইন সংশোধনের জন্য আমরা কোনো নির্দেশনা দেইনি বা বিটিআরসি থেকেও আইন সংশোধন সংক্রান্ত কোন অনুমোদনের জন্য আমাদের কাছে পাঠায়নি।
আপনারা এই আইন সংশোধনের কোন প্রয়োজন বোধ করছেন কিনা? এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যেহেতু আমরা ডিসিশন মেকার না, সেহেতু আমাদের বোধশক্তি ইমপর্টেন্ট না।
প্রসঙ্গত এর আগে ফেসবুকের সিঙ্গাপুর অফিসে গিয়েছিলো সরকারের প্রতিনিধিরা। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি ছিলেন ওই প্রতিনিধি দলের প্রধান। ফেসবুকের সিঙ্গাপুরের প্রধান ছিলেন ভারতীয় বংশদ্ভুত একজন নারী। দিপু মনি টিমের সাথে আলোচনার পর বাংলাদেশের অনেক সরকারবিরোধী আইডি ফেসবুক বাতিল করে দিয়েছিলো। সেটা ছিলো ২০১৪ সাল এবং ১৯ সালের নির্বাচনের আগে।
গত বছর, ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাদের ওই কর্মকর্তাকে বহিস্কার করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিজেপির হয়ে কাশ্মির ইস্যুতে ঘৃনা ছড়ানোর জন্য দায়ী।
সাননিউজ/এমএ/টিএস/বিএস/আরআই