স্পোর্টস ডেস্ক: শুরু থেকে টোকিও অলিম্পিক নিয়ে নানা আলোচনায় হয়েছে। আবার আলোচনার জন্ম দিলো গতকাল (১৭ জুলাই)। হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল জার্মানির অলিম্পিক দল। ম্যাচের তখন পাঁচ মিনিট বাকি। তখনই ঘটল এক বিস্ময়কর ঘটনা। মাঠ ছেড়ে গেল জার্মান ফুটবল দল। পরে জানা গেল দলের ডিফেন্ডার জর্ডান টনারিগার প্রতি করা হয়েছিল বর্ণবাদী আচরণ, এটাই কারণ জার্মান দলের ক্ষোভের।
শুরু দিকে ডগলাস মার্টিনেজের গোলে ২১ মিনিটে এগিয়ে যায় জার্মানি অনূর্ধ্ব ২৩ ফুটবল দলের । এরপর ৮৪ মিনিটে ফেলিক্স ওদুখাইয়ের লক্ষ্যভেদ ম্যাচে সমতায় ফেরায় হন্ডুরাসকে। এরপরই মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় জার্মানি।
জাপানের ওয়াকাইয়ামায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ছিল না কোনো দর্শক। ফাঁকা গ্যালারি থাকার ফলে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ তুললে সেটা গিয়ে বর্তায় প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় কিংবা ম্যাচ অফিসিয়ালদের ওপর।
এমন ঘটনা নতুন কিছু নয় আদৌ। ম্যাচ শেষে টুইটারে জার্মান দল জানায়, ‘পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে খেলা যখন ১-১ সমতায়, তখনই ম্যাচটা শেষ হয়ে যায়। জর্ডান টুনারিগা বর্ণবাদের শিকার হওয়ায় জার্মান খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে যান।’
এমন আচরণ প্রতিপক্ষের কাছ থেকেই এসেছে, বিষয়টা অবশেষে জানা গেছে হন্ডুরাসের টুইট থেকে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে যাওয়ায় ৮৭ মিনিটেই খেলা বন্ধ হয়ে গেছে, কারণ জার্মান এক খেলোয়াড় হন্ডুরাস দলের একজনের ওপর বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন। এই বিষয়ে হন্ডুরাস ফুটবল ফেডারেশন জানাচ্ছে যে, পরিস্থিতিটা সৃষ্টি হয়েছে মাঠে দুই পক্ষের ভুল বোঝাবুঝি থেকে।’
নিজেদের সিদ্ধান্তকেই সঠিক মনে করছেন জার্মান কোচ স্টেফান কুন্টজ। বলেছেন, ‘যদি আমাদের কেউ বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়, তাহলে খেলে যাওয়ার কোনো অর্থ হয় না।’
কোচ আরও বড় অভিযোগ এনেছেন এরপর। জানিয়েছেন টুনারিগার প্রতি এ আচরণ প্রথম বারেই শেষ হয়ে যায়নি, চলেছে আরও অনেকবার। সে কারণেই এসেছে এই সিদ্ধান্ত। বললেন, ‘তাকে ম্যাচে রাখাই যাচ্ছিল না। তার ওপর খুব বাজেভাবে এর প্রভাব পড়ছিল, কারণ সে বলেছিল যে তার প্রতি বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ ক্রমাগত চলেই আসছিল। আমাদের জন্য এটা পরিষ্কার যে এটা আমাদের মূল্যবোধের পরিপন্থী, আমরা এটা সহ্যই করতে পারি না। আমরা আমাদের খেলোয়াড়কে পুরোপুরি সুরক্ষায় রাখব।’
তবে কোচ জানিয়েছেন, মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর পুরো হন্ডুরাস দলই এসে ক্ষমা চেয়েছে টুনারিগার কাছে। ফলে বিষয়টার নিষ্পত্তি হয়ে গেছে সেখানেই।
জার্মান দলের মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার এই সিদ্ধান্তকেই সঠিক মানছেন অধিনায়ক ম্যাক্সিমিলিয়ান আরনল্ড।
এর আগেও বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন জর্ডান। গত ফেব্রুয়ারিতে হার্থা বার্লিনের এই ডিফেন্ডারকে তীর্য্যক মন্তব্য করেছেন শালকের সমর্থকরা। যে কারণে দলটিকে ৫০ হাজার ইউরো (প্রায় ৫০ লাখ টাকা) জরিমানা করেছিল বুন্দেসলিগা কর্তৃপক্ষ।
সাননিউজ/এএসএম