স্পোর্টস ডেস্ক: বর্তমানে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক গুলো মধ্যে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) একটি। এবার প্রথমবার ফাইনালে উঠেই শিরোপা জিতেছে মুলতান সুলতানস।
প্রতিযোগিতার ষষ্ঠ আসরের ফাইনালে পেশোয়ার জালমিকে ৪৭ রানে হারিয়েছে মোহাম্মদ রিজওয়ানের দল। মুলতানের শিরোপা জেতার পেছনে অন্যতম কারিগর ছিলেন তরুণ পেসার শাহনেওয়াজ ধানি। দুর্দান্ত বোলিংয়ে টুর্নামেন্ট সেরা তরুণ ক্রিকেটার ও সেরা বোলারের পুরস্কার জিতেছেন তিনি।
কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে ওয়াসিম আকরাম বলেছিলেন যে, পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ তারকা হবেন শাহনেওয়াজ ধানি। তিনি তাকে ‘প্রিন্স অব সিন্ধ’ নামে উপাধি দিয়েছিলেন। বলা যায় সে পথেই এগুচ্ছেন তিনি।
অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এরই মধ্যে পাকিস্তানের উইন্ডিজ সফরের দলে জায়গা করে নিয়েছেন ধানি। অথচ এই ধানিই কি না একটা সময় ট্রায়াল দেয়ার জন্য এসেছিলেন অন্যের জুতো ধার করে!
শাহনেওয়াজ এমন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে থাকেন যেখানে সচরাচর টেলিভিশনের দেখা মেলে না। এমনকি ইন্টারনেট, স্মার্টফোনও সেখানে খুব একটা ব্যবহার হয় না। বলা যায় পিএসএল, আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টের খবরই রাখে না সেই গ্রামের বাসিন্দারা।
পিএসএলে শাহনেওয়াজের অংশ নেয়ার পরই তার গ্রামের মানুষ এই টুর্নামেন্টের নাম জানতে পারে। এর চাইতেও অবাক করার বিষয়, ক্রিকেট খেলার জন্য ধানির কাছে ব্যাট-বল কিছুই ছিল না। এমনটি তার কাছে ছিল না জুতাও।
বন্ধুর কাছ থেকে জুতা ধার করে অনূর্ধ্ব-১৯ এর ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন ধানি। সেখানেই বদলে যায় তার ভাগ্য। পাকিস্তানের বেশ কিছু গণমাধ্যমে উঠে এসেছে এই বোলারের দারিদ্রপীড়িত জীবন ও সেখান থেকে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার গল্প।
জানা যায়, পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের লারকানার খুহাওর খান ধাহানি নামের এক ছোট্ট গ্রামে থাকেন ধানি। গ্রামে টেপ টেনিস বলে খেলেই শিখেছেন ক্রিকেট। দারিদ্রপীড়িত পরিবার ধানির এই ক্রিকেটাসক্ত পছন্দ করত না। ধানির বাবা সবসময় চাইতেন ছেলে পড়াশুনায় বেশি মনোযোগ দিক।
পড়াশুনার ফাঁকে বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করতেন ধানি। গম ও ধান চাষে বাবাকে সহায়তা করতেন তিনি। এরই ফাঁকে চালিয়ে যেতেন পড়ালেখা ও ক্রিকেট। ধানির বাবা চাইতেন ছেলে পড়ালেখা করে সরকারি চাকরি পাবে। সংসারের অনটন ঘুঁচাবে।
ধানি ঠিকই পড়াশুনা করেছেন। এগিয়ে যাচ্ছিলেন বাবার স্বপ্ন পূরণের দিকে। অর্জন করেন বি-কম ডিগ্রি। এরইমধ্যে মারা যায় তার বাবা। এমন সময় ক্রিকেটের প্রতি ছোটভাইয়ের প্রবল ঝোঁক দেখে ধানির বড়ভাই তাকে উৎসাহ দেন। ভাইয়ের উৎসাহে বন্ধুর কাছ থেকে জুতা ধার করে অনূর্ধ্ব-১৯ এর ট্রায়ালে অংশ গ্রহণ করেন ধানি। ট্রায়ালে নির্বাচিত হয়ে আন্ত:জেলা অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে সুযোগ পেয়ে যান তিনি।
এরপর পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) মুলতান সুলতান্স তাকে দলে নেয়। সেখানে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন এই পেসার। টুর্নামেন্টে ১১ ম্যাচে ২০ উইকেট শিকার করে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির খেতাবটা নিজের করে নিয়েছেন ২২ বছর বয়সী ধানি। একই সঙ্গে জিতে নিয়েছেন সেরা ইমার্জিং ক্রিকেটারের পুরস্কারও।
ধানির এই পথচলা কতদূর যাবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে কষ্ট করে যতদূর এসেছেন, তাতে এই পথ বেশ লম্বা হবে এমন আশা করাই যায়।
সাননিউজ/এএসএম