সান নিউজ ডেস্ক : দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফের এসেছে পবিত্র মাহে রমজান। রোজার প্রথমদিন রাজধানীর অনেক বাসায় জ্বলেনি চুলা। হঠাৎ করেই উদ্ভুত এ সমস্যার ফলে অনেক বাসা-বাড়িতে রোববার তৈরি হয়নি ইফতারি।
আরও পড়ুন : পানির অপচয়রোধ ও যত্ন নেওয়ার পরামর্শ
রাজধানীতে চলমান এই গ্যাস সংকট কাটিয়ে উঠতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গ্যাস সরবরাহ সমস্যার সমাধান হতে আরও কয়েকদিন অর্থাৎ ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের স্বল্প চাপের সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে কিছু কিছু গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে কোনো কোনো এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। অভিজ্ঞ প্রকৌশলীবৃন্দ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ করে যাচ্ছেন। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে আশা করা যাচ্ছে।
এদিকে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পেজে একটি পোস্টে লিখেছেন, বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বেশকিছু এলাকার গ্রাহকবৃন্দ গ্যাস সংকটে পড়েছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ভোগান্তির জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
আরও পড়ুন : প্রাথমিকে ছুটি বাড়ছে না
রাজধানী ঢাকার আগারগাঁও, শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর, কাফরুল, আদাবর, বনশ্রী, রামপুরা, আজিমপুর, লালবাগ, ধামমন্ডি, সিদ্ধেশ্বরী, কাঁঠালবাগান, মিরপুর, ক্রিসেন্ট রোড, জিগাতলা, শ্যামলী, কল্যাণপুর, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, মতিঝিল, সেগুনবাগিচা, নারিন্দা, মিরপুর ১, ২ ও ১০ নম্বর এলাকায় গতকাল গ্যাসের সংকট দেখা দেয়।
পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ বিষয়ে বলেন, বিবিয়ানার কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের সময় বালি উঠতে শুরু করে। এ কারণে বন্ধ করে দিতে হয় উৎপাদন। এতে রাতে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংকট দেখা দেয়। আবাসিক এলাকায় সাধারণত প্রায় ২৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এখন সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ১৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
আরও পড়ুন : শ্রীলঙ্কায় সব মন্ত্রীর পদত্যাগ
তিনি বলেন, কূপ মেরামত করতে কিছুটা সময় লাগবে, ফলে কিছুটা ঘাটতি থেকে যাবে। ৮ এপ্রিল আমাদের একটি এলএনজির কার্গো পৌঁছাবে। এরপর ১০ এপ্রিল নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
রমজানে এমন গ্যাস সংকটের বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। মোহম্মাদপুর এলাকার বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান বলেন, আমার বাসায় সকালের দিকে গ্যাস চলে যায়, পরে ইফতারের কিছু আগে গ্যাস আসলেও চাপ ছিল খুব কম। যা দিয়ে কোনো কিছু রান্না করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন : কাঁচা মরিচের ঝাল বেড়েই চলছে!
শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন কারওয়ান বাজারের একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। গ্যাস না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, কাল হঠাৎ দুপুরের পর আমার স্ত্রী ফোন করে বললো ইফতারি বাইরে থেকে কিনে আনতে হবে, বাসায় গ্যাস নেই। যে কারণে অফিস শেষে ইফতারি বাইরে থেকে কিনে নিয়ে বাসায় গেলাম।
আজও স্ত্রী ফোন করে জানিয়েছে গ্যাসের চাপ কম। রমজান মাসে ইফতারি সেহেরিসহ কত কিছু থাকে, এরমধ্যে যদি গ্যাস না পাওয়া যায় তাহলে এই ভোগান্তির সমাধান কী?
আরও পড়ুন : কক্সবাজার কারাগারে হাজতির মৃত্যু
প্রসঙ্গত, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য হ্রাসকৃত হারে গ্যাস সরবরাহের কারণে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস স্বল্পতার সৃষ্টি হতে পারে।
সান নিউজ/এইচএন