জাতীয়

বাউল ছদ্মবেশে মডেল, বিশ বছর পর র‍্যাবের হাতে ধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়া শহরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিজের অবস্থান জানান দিতে তিন জনকে হত্যা করে হেলাল হোসেন (৪৫)। ওই হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলা থেকে নিজেকে আড়াল করতে গত ২০ বছর ধরে বাউল ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। অবশেষে র‌্যাবের জালে ধরা পড়েছে খুনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান খন্দকার আল মঈন। তিনি জানান, হেলাল হোসেন বাউল সেলিম, সেলিম ফকির, খুনি হেলাল ও হাত লুলা হেলালসহ বিভিন্ন নামে পরিচিত।

খন্দকার আল মঈন বলেন, হেলাল হোসেন আমাদের বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি, বগুড়ায় ২০০১ সালের বিদ্যুৎ হত্যাকাণ্ডের চার আসামির মধ্যে সে একজন। ওই হত্যাকাণ্ডের মামলায় তার যাবজ্জীবন সাজা হয়। বগুড়ায় ১৯৯৭ সালে সংঘটিত আরও একটি হত্যা মামলারও আসামি সে। একইসঙ্গে ২০০৬ সালে রবিউল হত্যা মামলার আসামিও সে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলা এবং চুরির একটি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তিনি আরও বলেন, হত্যা মামলায় সাজা হওয়ার পর এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করে এবং বাউলের বেশ বেছে নেয় হেলাল। এভাবে দেশের বিভিন্ন রেল স্টেশনে গত সাত বছর আত্মগোপনে ছিল সে। বাউলের বেশ ধরে গান গেয়ে জীবিকাও নির্বাহ করে হেলাল।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, বছর ছয়েক আগে ইউটিউবে একটি গানের ভিডিও প্রকাশিত হয়। ‘ভাঙা তরী ছেঁড়া পাল’ শিরোনামের ভিডিওটিতে কয়েক সেকেন্ডের জন্য বাউল বেশধারী এক ব্যক্তিকে দেখানো হয়। বাউল বেশধারী ওই ব্যক্তি আসলে দুর্ধর্ষ এক খুনি। যে অন্তত তিনটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

কিন্তু এত পুরোনো একটি ভিডিও হঠাৎ কীভাবে এলো র‌্যাবের নজরে? র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলছেন, মাস ছয়েক আগে এক ব্যক্তি র‌্যাবকে জানায়, বগুড়ায় ২০০১ সালে চাঞ্চল্যকর বিদ্যুৎ হত্যাকাণ্ডের আসামি হেলাল হোসেনের চেহারার সঙ্গে ওই বাউল মডেলের চেহারার মিল রয়েছে। এ সন্দেহের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ-খবর শুরু করে র‌্যাব। বিদ্যুৎ হত্যা মামলার এজাহার থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারে, এই মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হেলাল হোসেন।

তদন্তে নেমে র‌্যাব জানতে পারে, গানটির শুটিং হয়েছিল নারায়ণগঞ্জের রেল স্টেশনে। সেখান থেকে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য পাওয়া যায়। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে র‍্যাব-৩ এর একটি দল গতকাল (বুধবার) রাতে ভৈরব স্টেশন থেকে মিউজিক ভিডিওতে বাউলের মডেল হওয়া ওই ব্যক্তি অর্থাৎ হেলাল হোসেনকে গ্রেফতার করে।

এদিকে, এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সেই ভিডিওর গানের শিল্পী কিশোর পলাশ। তিনি বলেন, ‘গানটির ভিডিও করার জন্য আমরা ঢাকার পাশে লোকেশন বেছে নেই। ভিডিওটির নির্মাতা নোমান রবিন ভাই। মূলত আমাদের কোনো মডেল ছিল না। আমরা রাস্তার পাশে যাকে পাই তাকেই আমাদের গল্পের সঙ্গে মিলে গেলে তাকে অফার করছি। দেখবেন, আমাদের গানে একজন মুচি, রাস্তার মানুষ ও ওই বাউলশিল্পী মানে যিনি সিরিয়াল কিলার, আসলে উনি যে সিরিয়াল কিলার; এত খারাপ একজন মানুষ তা আমাদের পক্ষে কোনোভাবেই বোঝা সম্ভব ছিল না।’

কিশোর পলাশ বলেন, ‘আমরা ওইদিন নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশনের আশেপাশে শুটিং করছিলাম। হঠাৎ বাউল সেলিমকে দেখতে পাই রেললাইন দিয়ে কোথায় যেন হেঁটে যাচ্ছে। মনে হলো লোকটাকে ভিডিওতে সামান্য সময়ের জন্য ধরতে পারলে ভালো হতো। যে ফোক, কিছুটা আধ্যাত্মিক ধরনের গান। উনাকে বললাম, সে এক কথায় রাজি হয়ে গেল। আমরা শুটিং করলাম। এই শুটিং ঘটনা ৫ বছর আগের, আর এই মুহূর্তে এসে জানলাম লোকটা সিরিয়াল কিলার। আমার এমন একটা জনপ্রিয় গানে খুনি, ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। ঘটনাটি শোনার পর থেকে খুব খারাপ লাগছে।’

সান নিউজ/এমকেএইচ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা