নিজস্ব প্রতিবেদক: গণপরিবহনে এখন প্রায় অর্ধেক যাত্রী মাস্ক ছাড়া চলাচল করছেন। আর পরিবহন শ্রমিকদের অবস্থা আরও করুণ। তাদের অধিকাংশই মাস্ক পরছেন না। শুধু ভাড়া আদায়ের সময় কেউ কেউ মাস্ক পরছেন, আদায় শেষে খুলছেন অথবা থুতনিতে ঝুলিয়ে রাখছেন। সেক্ষেত্রে অজুহাত হিসেবে বলছেন, মাস্ক পরলে যাত্রীরা কথা শুনতে পান না।
বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। যেখানে গত ১১ আগস্ট থেকে সারাদেশে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতির প্রধান শর্ত ছিল স্বাস্থ্যবিধি মানা। যা এখন কাগজে কলমে রয়ে গেছে। বাস্তবে কোথাও নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই।
দেখা যায়, অর্ধেকের বেশি যাত্রীর সঙ্গে মাস্ক থাকলেও কার্যকরভাবে পরছেন খুব কম মানুষ। যারা পরেছেন তাদের বেশিরভাগই মাস্ক ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি মানছেন না। বেশিভাগের মাস্ক রাখা থুতনিতে, কেউ কেউ আবার নাক বাদ দিয়ে শুধু মুখ ঢেকে রেখেছেন। এভাবে গণপরিবহনে প্রায় অর্ধেক যাত্রী মাস্ক ছাড়া চলাচল করছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে বাসগুলো যেখানে দাঁড়ায় সেসব জায়গায় একজন আরেকজনের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছেন আগের মতো। কিছু কাউন্টারের আশপাশে মানুষ দাঁড়িয়ে রয়েছেন, তাদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক নেই। আর যাদের মুখে মাস্ক নেই, তারা প্রশ্ন করলে হুট করে পকেট থেকে মাস্ক বের করে পরে ফেলছেল। আবার যারা আগে থেকে মাস্ক পরে রয়েছেন তারা কথা বলার সময় মাস্ক নামিয়ে কথা বলছেন।
রাজধানীতে চলাচলকারী একটি বাসের হেলপার বলেন, মানুষের মধ্যে তো করোনার কোনো ভয় নেই। মাস্ক পরলেও তা থুতনিতে নামিয়ে রাখে। আমরা করব কী বলেন? আমাদের কথা তো কেউ শোনে না। ঠেলাঠেলি করে মাস্ক ছাড়া উঠে পড়ে। বললে, কিছুক্ষণ রাখে, পরে খুলে ফেলে।
এদিকে, লকডাউন শিথিল করে গণপরিবহন চালুর এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। গণপরিবহন চালুর সময় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ‘দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করা যাবে না’ মর্মে নির্দেশনা দিয়েছিল। এখন সেটি প্রায় ভুলতে বসেছেন সবাই। অফিসের সময় প্রায় প্রতিটি পরিবহনেই নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী।
সান নিউজ/এনকে