জাতীয়

বইমেলার পর্দা উঠছে আজ

হাসনাত শাহীন : করোনা মহামারির কারণে হবে না হবে না করেও শেষ পর্যন্ত প্রাণেরমেলা ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২১’ হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপি এই বইমেলা। এটি হবে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র ইতিহাসের সাঁইত্রিশতম আসর।

আর, সব কিছু ঠিক থাকলে এবারের এ সাঁইত্রিশতম বইমেলা শেষ হবে আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন। বইপ্রেমীদের জন্য বইমেলাটি ১৯ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত চলবে এবারের বইমেলা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে শুরু হতে যাওয়া এবারের এই বইমেলা উৎসর্গ করা হয়েছে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি’। অন্যদিকে, এবছরটা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ; যে কারণে মেলার আয়োজক কর্তৃপক্ষ এবারের বইমেলার প্রতিপাদ্য করেছে ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’। জাতির পিতার জীবন ও কর্ম-অধ্যয়ন এবং স্বাধীনতার মর্মবাণী জাতীয় জীবনে প্রতিফলিত করা লক্ষ্যে মেলার আয়োজক কর্তৃপক্ষ এই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে।


শুরুর অপেক্ষায় বইমেলা (ছবি : হাসনাত শাহীন)

বইমেলাটি বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) বিকেল ৩ টায় মেলার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থেকে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবং বইমেলার মূলমঞ্চ বাংলা একাডেমি রবীন্দ্র চত্বরের মঞ্চে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ বদরুল আরেফীন। স্বাগত বক্তব্য দেবেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত ও বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘আমার দেখা নয়াচীন’-এর ইংরেজি অনুবাদ ‘" New Chaina 1952"’-এর আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করবেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২০’ প্রদান করা হবে। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে মেলা সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

প্রথমবারের মতো বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ১৫ লাখ বর্গফুট জায়গায় জুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের বইমেলা। এবং বিগত ২০১৪ সালের ধারাবাহিকতায় দুই প্রাঙ্গণের এবারের এ মেলারও মূলপ্রাঙ্গণ সোহরাওয়ার্দী প্রাঙ্গণ। যেখানে প্রবেশ করলেই দেখা মিলবে স্বাধীনতা স্তম্ভের সঙ্গে কৃত্রিম লেকের দুই প্রান্তেই বইমেলার স্টল সাজানো হয়েছে; যা মেলার ইতিহাসে প্রথম।


অমর একুশে গ্রন্থমেলার সাঁইত্রিশতম আসরের প্রস্তুতি (ছবি : হাসনাত শাহীন)

এবারই প্রথম প্রকাশকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব প্রান্তে (অর্থ্যাৎ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট/ রমনা প্রান্তে) নতুন একটি প্রবেশ ও বাহির পথ এবং গাড়ি পার্কিং-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও সোহরাওয়ার্দীতে ২টি প্রবেশ পথ ও ২টি বাহির পথ থাকবে। এবারই প্রথম বৃষ্টি ও ঝড়ের আশংকা বিবেচনায় রেখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪টি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রত্যেক প্রবেশ পথের সঙ্গে একটি করে আশ্রয় কেন্দ্র থাকবে; যাতে বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে মানুষ আশ্রয় নিতে পারেন। সেই সঙ্গে বৃষ্টির পানি মেলা প্রাঙ্গণ থেকে দ্রুত নিষ্কাষণের ব্যবস্থা ও মেলার লেখক বলছি মঞ্চ ও গ্রন্থ উন্মোচনের স্থান বিশেষভাবে নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়াও মেলার মূলপ্রাঙ্গণ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ৬৮০টি ইউনিটের স্টল এবং ৩০টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। বিগত বছরের মতো এবারও লিটল ম্যাগাজিন চত্বর থাকছে উদ্যানের মূল মেলা প্রাঙ্গণে। সেখানে ১৩৫টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দের পাশাপাশি ৫টি উন্মুক্ত স্টলসহ ১৪০টি স্টল দেওয়া হয়েছে।

একক ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে যারা বই প্রকাশ করেছেন তাদের বই ও বিক্রি/প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্টলে। বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫% কমিশনে বই বিক্রি করবে।

বাংলা একাডেমির ৩টি প্যাভিলিয়ন, শিশুকিশোর উপযোগী বইয়ের জন্য ১টি এবং সাহিত্য মাসিক উত্তরাধিকার-এর ১টি স্টল থাকবে। এবারও শিশুচত্বর মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকবে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারই প্রথম মেলার প্রথমদিকে ‘শিশুপ্রহর’ থাকছে না।


প্রস্তুত মেলার বিভিন্ন স্টল (ছবি : হাসনাত শাহীন)

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে। এবং বইমেলার প্রচার কার্যক্রমের জন্য একাডেমিতে বর্ধমান ভবনের পশ্চিম বেদিতে ১টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩টি তথ্যকেন্দ্র থাকবে।

মেলার এমনই বিষয় নিয়ে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক জালাল আহমেদ সান নিউজকে জানান, এবারই প্রথমবারের মতো মেলার বিন্যাসে ব্যাপক মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। যার মাধমে এবার স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলো এমনভাবে বিন্যাস করা হয়েছে যাতে কোনো এলাকা প্রান্তিক বা অবহেলিত বলে প্রতীয়মান না হয়। এবং নামাজের ঘর, টয়লেট ব্যবস্থা সম্প্রসারিত ও উন্নত করা হয়েছে। মহিলাদের জন্য সম্প্রসারিত নামাজ ঘর থাকবে। পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কাছে একটি ব্রেস্টফিডিং কর্নার থাকবে। প্রতি বছরের মতো এবারও হুইল-চেয়ার সেবা থাকবে। তবে গতবারের চেয়ে বেশি সংখ্যায় স্বেচ্ছাসেবী এ-কাজে নিয়োজিত থাকবেন। এবার হুইল চেয়ারের সংখ্যা বাড়বে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে দুটি ফুডকোর্ট থাকবে।

সান নিউজ/এইসএস/এম

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা