জাতীয়

চরম জীবিকা সংকটে প্রবাস ফেরত ৩ লাখ কর্মী

সান নিউজ ডেস্ক : চলমান করোনাভাইরাস মহামারিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অব্যাহতভাবে দেশে ফিরছেন প্রবাসী কর্মীরা। প্রতিদিনই মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত আসছেন তারা। চলতি বছরের গত ১ এপ্রিল থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ২লাখ ৭২ হাজার ১৮৫ জনেরও বেশি প্রবাসী কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪১ হাজার ১৫২ জন এবং নারী ৩১ হাজার ৩৩জন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই (৫৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ) ফিরেছেন সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে।

তাদের মধ্যে বৈধ পাসপোর্টের মাধ্যমে ফিরেছেন ২ লাখ ৩৫ হাজার ৪০৪ জন এবং আউটপাসের মাধ্যমে ফিরেছেন ৩৬ হাজার ৭৮১ জন।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ফিরে আসা শ্রমিকদের অধিকাংশই বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন প্রবাসে। এছাড়া, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে কাজ না থাকা, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া, প্রতারিত হওয়া এবং ভিসার মেয়াদ শেষ বা আকামা (কাজের অনুমতি) না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে ফেরত আসতে হয়েছে তাদের।

এদের মধ্যে অনেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফিরে যেতে পারবেন জানালেও সিংহভাগেরই ফিরে যাওয়া অনিশ্চিত। মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, উল্লেখিত সময়ের মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে সবচেয়ে বেশি ফিরেছেন প্রবাসী কর্মীরা। এই দুটি দেশ থেকে ফিরে এসেছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮২৫ জন (৫৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ)। প্রতিদিনই এ সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

১ এপ্রিল থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত প্রবাসী কর্মীদের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট ২৮টিসহ অন্যান্য দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৭৬ হাজার ৯২২ কর্মী সৌদি আরব থেকে ফিরেছেন (পুরুষ ৬৩ হাজার ৬৫ জন ও নারী ১৩ হাজার ২৭০ জন)। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৭১ হাজার ৯০৩ জন (পুরুষ ৬৫ হাজার ৬৮৯ জন ও নারী ৬ হাজার ২১৪ জন) ফেরত আসেন।

এসব প্রবাসী কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের পুনরায় ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলে ফেরত পাঠিয়েছে নিয়োগকর্তারা।

অন্যান্য দেশ থেকে যতজন ফিরলেন : চলমান মহামারিতে মালদ্বীপ থেকে ১৩ হাজার ২২৪ জন (পুরুষ ১৩হাজার ১০০ ও নারী ১৪৪ জন) দেশে ফেরত এসেছেন। দেশটি পর্যটন নির্ভর। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সেখানে কাজ নেই। তাই তাদেরকে ফেরত পাঠিয়েছে নিয়োগকর্তারা।

এই সময়ের মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেছেন ৫ হাজার ৩১১জন (পুরুষ ৫ হাজার ২৪৫ ও নারী ৬৬জন)। চুক্তির মেয়াদ নবায়ন না হওয়ার কারণে তারা ফিরে আসতে বাধ্য হন।

ওমান থেকে এসেছেন ১৬ হাজার ৯৫ জন (পুরুষ ১৩ হাজার ৯৪৮জন ও নারী ২ হাজার ১৪৭জন)। তারা সবাই বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে আউটপাস নিয়ে দেশে ফিরেছেন।

কুয়েত থেকে ফিরেছেন ১১ হাজার ৯৫২ জন (পুরুষ ১১ হাজার ৬৫৫ জন ও নারী ২৯৭ জন)। এদের অনেকেই আকামা বা ভিসার মেয়াদ না থাকা কিংবা অবৈধ হওয়ায় সাধারণ ক্ষমার আওতায় ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। দেশটি থেকে কারাভোগ শেষেও ফিরেছেন অনেকে।

বাহরাইন থেকে ফিরে এসেছেন ২ হাজার ২৩ জন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৮৪৮ জন পুরুষ ও ১৭৫ জন নারী। এদের বেশিরভাগই বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে আউটপাস নিয়ে দেশে এসেছেন। এছাড়া, অসুস্থতা কিংবা চাকরিচ্যুতির কারণেও ফিরতে বাধ্য হয়েছেন অনেকে।

উল্লেখিত সময়ের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরত এসেছেন ৭১ জন। তাদের সবাই পুরুষ। কাজ না থাকার দরুণ ফিরতে হয়েছে তাদের।

কাতার থেকে ফেরত এসেছেন ২৯ হাজার ৬৫৫ জন (পুরুষ ২৬ হাজার ৮২২ জন ও নারী দুই হাজার ৮৩৩ জন)। তারাও ফিরেছেন কাজ না থাকার কারণে।

এই সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে ফেরত এসেছেন ১২ হাজার ৩৬৮ জন (পুরুষ ১১ হাজার ৮৬৯ জন ও নারী ৪৯৯ জন)। তারাও কাজ না থাকার কারণে ফেরত এসেছেন।

দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ফেরত এসেছেন ২২০ জন এবং তাদের মধ্যে পুরুষ ২১৭ জন ও নারী ৩ জন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা দেশে ফিরে আসেন।

থাইল্যান্ড থেকে ফেরত এসেছেন ৮৯ জন (পুরুষ ৭৮ জন ও নারী ১১জন)। কাজ না থাকার কারণে ফেরত এসেছেন তারা।

কাজ না থাকায় মিয়ানমার থেকে ফেরত এসেছেন ৩৯ জন পুরুষ কর্মী।

চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় জর্দান থেকে ফিরে আসতে হয়েছে ২ হাজার ২০৪ জন কর্মীকে (পুরুষ ৪০৮ জন ও নারী ১ হাজার ৭৯৬ জন)। তাদের সবাই পোশাক শ্রমিক।

প্রতারিত হয়ে ভিয়েতনাম থেকে ফেরত এসেছেন ১২১ জন পুরুষ কর্মী।

কাজ না থাকায় কম্বোডিয়া থেকে ১০৬ জন পুরুষ কর্মী ফেরত এসেছেন।

ইতালি থেকে ফেরত এসেছেন ১৫১ জন ফেরত পুরুষ কর্মী। এছাড়া, ৬ জুলাই বাংলাদেশে থেকে যাওয়া ১৫১ জন কর্মীকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

কাজ না থাকায় ইরাক থেকে ফেরত এসেছেন ১০ হাজার ১৬৯ জন (পুরুষ ১০হাজার ১০৯ জন ও নারী ৬০ জন)।

কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরত এসেছেন ৫৫৪ জন পুরুষ কর্মী। একই কারণে মরিশাস থেকে ফেরত এসেছেন ৪৫২ জন (পুরুষ ১৪০জন ও নারী ৩১২জন)।

রাশিয়া থেকে ফেরত এসেছেন ১০০ জন পুরুষ কর্মী। তাদের ফিরে আসার কারণ জানা যায়নি।

তুরস্ক থেকে ফিরেছেন ১০ হাজার ৪৫৩ জন। (পুরুষ ৯ হাজার ৭৪০জন ও নারী ৪১৩ জন)। কাজ না থাকার কারণে ফেরত এসেছেন তারা।

লেবানন থেকে ফিরেছেন ৭ হাজার ১৬৯জন (পুরুষ ৪ হাজার ৭১৬জন ও নারী ২ হাজার ৪৫৩ জন)। কাজ হারানো এবং আউটপাস নিয়ে ফেরত এসেছেন তারা।

নেপাল থেকে ফেরত এসেছেন ৫৫ জন (পুরুষ ৪০ জন ও নারী ১৫ জন)। তাদের ফিরে আসার কারণ জানা যায়নি।

হংকং থেকে ফেরত এসেছেন ১৬ জন (পুরুষ ১২ জন ও নারী ৪ জন)। তাদের ফিরে আসার কারণ জানা যায়নি।

জাপান থেকে ফেরত এসেছেন ৮ জন পুরুষ কর্মী। তারা তিন বছর মেয়াদে আইএম জাপান প্রকল্পের মাধ্যমে যাওয়া প্রথম ব্যাচের এই কর্মীরা ছুটিতে এসেছেন।

ব্রিটেন থেকে ফিরে এসেছেন ১৩৪ জন। তাদের মধ্যে ১১৩জন পুরুষ ও ২১জন নারী। তাদের ফিরে আসার কারণ জানা যায়নি।

লিবিয়া থেকে ফিরেছেন ৪৫৫ জন পুরুষ কর্মী। তাদের ফিরে আসার কারণও জানা যায়নি।

এছাড়া অন্যান্য কয়েকটি দেশ থেকে মোট ১৪৬জন ফেরত আসেন। তাদের সবাই পুরুষ। কী কারণে তারা ফিরে এসেছেন তা জানা যায়নি।

সান নিউজ/এসএম

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা