অসাড় হয়ে পড়েছে বিএনপির নেতৃত্ব : ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
রাজনীতি

অসাড় হয়ে পড়েছে বিএনপির নেতৃত্ব : ডা. জাফরুল্লাহ

প্রধান প্রতিবেদক : বাংলাদেশে বিরোধী দলের বিশেষ করে বিএনপির নেতৃত্বে স্থবিরতা ও অসাড়তার কারণে দেশে কোনো রাজনীতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিরোধীদলের ব্যর্থতা বিশেষ করে বিএনপির নেতৃত্বের অসাড়তার কারণে দেশ গণতন্ত্রহীনতায় ভূগছে। রাজনীতি করতে হলে বিরোধীদলের জোরালো ভূমিকা থাকতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশে বিরোধীদলের ন্যুনতম কোনো ভূমিকা নেই। সারা পৃথিবীজুড়েই বিরোধীদল মিছিল-মিটিং করে। আমাদের দেশে বিরোধীদলের কোনো ভূমিকাই নেই। বিরোধীদলের ভূমিকা না থাকলে সরকার সঠিক পথে থাকে না।

মঙ্গলবার (০৫ জানুয়ারি) ধানমন্ডিতে নগর গণস্বাস্থ্য কার্যালয়ে নিজের অফিসে সাননিউজকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এসব কথা বলেন। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন সাননিউজের প্রধান প্রতিবেদক তারেক সালমান।

সাননিউজের সঙ্গে দীর্ঘ সাক্ষাতকারে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দেশের বর্তমান রাজনীতি, সরকার, প্রধান বিরোধীদল বিএনপির রাজনীতি, রাজনৈতিক ব্যর্থতা, বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সম্পর্কেও খোলামেলা কথা বলেন।

দেশে ‘গণতন্ত্রহীনতায়’ বিরোধীদলের দায় বা ব্যর্থতা আছে কি না, জানতে চাইলে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, অবশ্যই আছে। সরকারেরও যেমন আছে, তেমনি বিরোধীদলেরও আছে। তিনি বলেন, দমন-নিপীড়ন ভেঙ্গে ফাইট করার ইতিহাস সারা পৃথিবীতে আছে। আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতেও আছে।

উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতে কৃষকরা তাদের দাবি আদায়ে প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যেও রাজপথে অবস্থান নিয়ে আছে। ঠান্ডা ও দাবি আদায়ে আত্মহুতিতে তাদের ৫০ জন ইতোমধ্যে মারাও গেছেন। তারপরেও তারা রাজপথ ছাড়েননি। হয়ত বিএনপির এক লাখ লোক জেলে গেছে, ৩৫ লাখ লোকের নামে মামলা আছে। তাদের তো রাস্তায় থাকার কথা। আমরা কি বিএনপির নেতৃবর্গকে রাজপথে দেখেছি? না।

মুক্তিযোদ্ধা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বদ্ধ ঘরে সভা-সেমিনার করার কোন মানে হয় না। কেন তারা (বিএনপি) রাস্তায় নামবে না। প্রেসক্লাবের সামনে আধা ঘণ্টার একটা মানববন্ধন করে তারা ফটো সেশন করে নিজেদের দায় সেরে থাকে। এতে দেশে গণতন্ত্র ফিরবে না। বিএনপির নেতাকর্মীদের রাস্তায় নামতে হবে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। দলটিকে পরিষ্কারভাবে বলতে হবে, কিভাবে জনগণের জন্য একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র হতে পারে।

‘গণতন্ত্রহীনতা’ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এখানে সরকারের ব্যর্থতা আছে, বিরোধীদলের দায় আছে। এভাবে চলতে থাকলে আমি বলি আজ থেকে ছয় মাস একছর পরে ইতিহাস থেকে খালেদা জিয়ার নাম মুছে যাবে। আনডাউটলি খালেদা জিয়ার নাম যদি ইতিহাস থেকে মুছে যায় তাহলে তারেক জিয়াও (তারেক রহমান) রাজনীতিতে আসতে পারবে না।

বিএনপির ভবিষ্যত কি, জানতে চাইলে প্রবীণ এই সুশীল নেতা বলেন, কোনো ভবিষ্যত নেই। তাহলে এ মুহুর্তে বিএনপির করণীয় কি, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে খালেদা জিয়াকে প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে হবে।

আদালতের শর্তে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনীতি নিয়ে কোনো কথা বলতে পারেন না, তাহলে রাজনীতিতে তার ভূমিকা রাখার সুযোগ কোথায়, এমন প্রশ্নের জবাবে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, পুরান জেল, কেরানীগঞ্জের জেলে থাকা আর ওখানে (ফিরোজা) থাকার তফাতটা কি? খালেদা জিয়া জেলেই তো আছেন। এটাকে ওনার ব্যবহার করা উচিত। তিনি অন্তত প্রতিদিন ওই বাসার সামনে চুপচাপ বসে থাকবেন। মানুষজন যাবে। ওনি হাত উঠিয়ে রেসপন্স করবেন। এতেও মানুষজনের মধ্যে জাগরণের সৃষ্টি হবে।

রাজনীতিতে বিএনপির করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, তাদের একটা মাত্র পথ আছে জায়মা রহমানকে (তারেক রহমানের একমাত্র সন্তুান) রাজনীতিতে আনা। জিয়া পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম হিসেবে বিএনপির উচিত জায়মা রহমানকে সামনে নিয়ে আসা। কারণ সে বিলাতে লেখাপড়া করেছে। সেখানে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছে। সেখানকার গণতন্ত্র দেখেছে। সে দেশে এসে গণতন্ত্র নিয়ে ভালভাবে কাজ করতে পারবে। গণতন্ত্র মানে হল কথা বলা বা আলোচনা করা। জায়মা সেটা পারবে। তাছাড়া, জায়মা সারাদেশ সফর করলে লাখ লাখ মানুষ তার সমাবেশে উপস্থিত হবে। সেই সব জনসমাবেশে সে যখন বলবে আমার দাদিকে এই সরকার আটকে রেখেছে। এটা জনগণের মধ্যে চরম ইফেক্ট পরবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গঠিত জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রসঙ্গে ওই জোটের অন্যতম উদ্যোক্তা বলেন, এটা একটি নির্বাচনী জোট ছিল। এখন এর কার্যকারিতা নেই। আবার নির্বাচন আসলে তখন দেখা যাবে। অতীত নিয়ে বসে থাকলে চলবে না। ঐক্যফ্রন্টের সেই ভূমিকা নেই। নির্বাচন শেষ। ঐক্যফ্রন্টেরও দায়িত্ব শেষ। বিএনপি মনে করে তারা বড় দল। তারা সবকিছু একা পারবে। মূলত বিএনপির কারণেই ঐক্যফ্রন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।

‘গণতন্ত্র ফেরা’তে বৃহত্তর ঐক্যর কোনো চিন্তা বা চেষ্টা চলছে কি না জানতে চাইলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এর তো কোনো লক্ষণ দেখি না। ঐক্য করতে চাইলে সবার সঙ্গে কথা বলতে হয়। ইন্টারনাল মিটিং করতে হয়। কই কোনো পদক্ষেপ তো দেখি না। তারা (বিএনপি) নির্জিব হয়ে গেছে। স্থবির হয়ে গেছে। বিএনপির চিন্তার অসাড়তা নিয়েই সমস্যা।

বিএনপির রাজনীতিতে কে বা কি বাধা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারেক রহমানই বড় বাধা। বিএনপির ইন্ডিপেন্ডেন্ট বা স্বাধীনভাবে কোনো কিছু করার ক্ষমতা নেই। তারেক রহমানের ইশারা ছাড়া। তাদের হাত-পা বাধা। আমি বলছিলাম, তারেকের দুই বছরের জন্য অব্যহতি নেয়া উচিত। বিএনপির স্থায়ী কমিটি আলোচনা করে দল চালাক। তাহলে জাগরণ তৈরি হবে।


টিএস/বিএস

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা