ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক
হামলার শঙ্কা

নাইজারে সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা দখলে নেওয়ার জের ধরে প্রতিবেশী দেশগুলোর আক্রমণের আশঙ্কায় সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় ৩ কৃষ্ণাঙ্গ নিহত

মূলত দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর নানা ঘটনার ধারাবাহিকতায় পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর জোট ইকোওয়াসের হামলার সম্ভাবনা বেড়েছে।

রোববার (২৭ আগস্ট) কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

আল জাজিরা বলছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর আক্রমণের ক্রমবর্ধমান হুমকির কথা উল্লেখ করে নাইজারের নতুন সামরিক শাসকরা দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ভারতে ট্রেনে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১০

গত ২৬ জুলাই নাইজারে সেনা অভ্যুত্থানের পর ইকোওয়াস সেনা শাসনের অবসান দাবি করে। সেই সাথে দেশটির সামরিক জান্তাকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়।

সময়সীমা পার হলেও নাইজারের অভ্যুত্থানকারী নেতাদের সাথে আলোচনার চেষ্টা করছে ইকোওয়াস।

জোটটি বলেছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সাংবিধানিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করতে নাইজারে সেনা মোতায়েন করতে তারা প্রস্তুত।

আরও পড়ুন: বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত

শনিবার (২৬ আগস্ট) নাইজারের প্রতিরক্ষা প্রধানের জারি করা একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, জাতীয় ভূখণ্ডে আগ্রাসনের হুমকি ক্রমবর্ধমানভাবে অনুভূত হচ্ছে। যেকোনো আত্রমণের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়া জানাতে দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখতে হবে।

অবশ্য ইকোওয়াস এ ধরনের যেকোনো হুমকিকে উপেক্ষা করেছে।

শুক্রবার তারা বলেছে, সংকটের মিটমাট করার জন্য তারা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। যদিও প্রয়োজনে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টিও তাদের হাতে অন্যতম বিকল্প হিসেবে থাকবে।

আরও পড়ুন: রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

সাংবাদিকদের ইকোওয়াস কমিশনের সভাপতি ওমর আলিউ তোরে বলেন, সন্দেহ এড়ানোর জন্য আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, ইকোওয়াস নাইজারের জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি বা দেশটিতে আক্রমণ করার জন্য কোন পরিকল্পনাও নেই।

তবে চলতি আগস্টের শুরুতে নাইজারে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের জন্য তথাকথিত স্ট্যান্ডবাই ফোর্স সক্রিয় করার জন্য এ জোট যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা বিদ্রোহে বিপর্যস্ত সাহেল অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে, এমন আশঙ্কাও বাড়ছে।

আরও পড়ুন: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিস্ফোরণে নিহত ৭

গত জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের পেছনে থাকা সামরিক নেতাদের সমর্থনে শনিবার নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশ করেছে।

নিয়ামে থেকে আল জাজিরার আহমেদ ইদ্রিস জানান, গত মাস থেকে রাজধানীতে এটি সবচেয়ে বড় সমাবেশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আয়োজকরা বলেন, তারা এখানে ১০ লাখ মানুষের প্রত্যাশা করছেন। সমাবেশে নিয়ে তারা সামরিক বাহিনী এবং অভ্যুত্থানের নেতাদের বক্তৃতা শুনবে।

আরও পড়ুন: স্টেডিয়ামে পদদলিত হয়ে নিহত ১২

এ সময় মাথা থেকে পা পর্যন্ত নাইজেরিয়ান পতাকা পরা রামাতু ইব্রাহিম বুবাকার নামে একজন মডেল বলেন, আমাদের অংশীদার কে হবে, তা বেছে নেওয়ার অধিকার আমাদের আছে। ফ্রান্সকে অবশ্যই আমাদের এ পছন্দকে সম্মান করতে হবে।

তার দাবি, ৬০ বছর ধরে আমরা কখনোই স্বাধীন ছিলাম না। শুধুমাত্র অভ্যুত্থানের দিন থেকে আমরা স্বধীন। সারা দেশের মানুষ ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর দ্য সেফগার্ড অব দ্য হোমল্যান্ড (সিএনএসপি)-কে পুরোপুরি সমর্থন করছে।

আরও পড়ুন: উত্তেজনা কমাতে রাজি ভারত-চীন

মূলত গত ২৬ জুলাই প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুমের সরকার উৎখাত হওয়ার পর তারা ক্ষমতা দখল করে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিএনএসপির নেতৃত্বে আছেন জেনারেল আব্দুরহামানে তচিয়ানি। সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্সকে তিনি তার নতুন লক্ষ্য বানিয়েছেন।

গত শুক্রবার নাইজারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফরাসি রাষ্ট্রদূত সিলভাইন ইত্তেকে দেশ ছাড়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ফরাসি এ দূত দেশটির নতুন শাসকদের সাথে দেখা করতে অস্বীকার করেছেন। এছাড়া ফরাসি সরকারের পদক্ষেপগুলো নাইজারের স্বার্থের পরিপন্থি।

আরও পড়ুন: ন্যায়বিচারের সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে

যদিও প্যারিস এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

সিএনএসপি সদস্য ও স্বাস্থ্য সেবা কর্মী ইদ্রিসা হালিদুউ বলেন, দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরিবর্তে ফরাসি রাষ্ট্রদূত মনে করেন, এটি তার পিতা-মাতার জমি। আমরা যুদ্ধের মানুষ।, আমরা ইকোওয়াসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত।

সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা বলছে, পশ্চিম আফ্রিকান দেশগুলোর এ জোট নাইজারের নতুন শাসকদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করেছে। সেই সাথে নতুন শাসকরা ক্ষমতাচ্যুত বাজুমের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে, তাদের অপসারণের জন্য সামরিক পন্থা ব্যবহার করার হুমকি দিয়েছে ইকোওয়াস জোট।

আরও পড়ুন: প্রিগোজিনকে নিয়ে যা বললেন পুতিন

এছাড়া ইকোওয়াস জোট ফ্রান্সের পকেটে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিয়ামের নতুন শাসকরা।

এদিকে নাইজারে ফ্রান্সের ১৫০০ সৈন্য রয়েছে। তারা বছরের পর বছর ধরে দেশে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাজুমকে সহায়তা করে এসেছে।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে জালিয়াতি, গ্রেফতার ট্রাম্প

আফ্রিকা ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া গ্রুপের মেরি-রজার বিলু বলেন, নাইজারের অভ্যুত্থানটি মালি এবং বুরকিনা ফাসোর সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানগুলোর চেয়ে আলাদা। কারণ ঐ ২ টি দেশের সেনা অভ্যুত্থান তেমন আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া পায়নি।

তবে গল্পটা এখনও শেষ হয়নি। দেখা যাক ফরাসি রাষ্ট্রদূত চলে যায় কিনা। আমি মনে করি, সামরিক শাসকরা তাদের অবস্থান থেকে নড়বে না এবং অপেক্ষা করবে ও দেখবে কী হয়।

সান নিউজ/এনজে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা