ছবি : সংগৃহিত
আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনে অস্ত্র প্রেরণ শান্তি আনতে পারে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনে অস্ত্র প্রেরণ শান্তি আনতে পারে না জানিয়ে জাতিসংঘের অধিবেশনে চীন বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের এক বছরে সংঘটিত ‘নিষ্ঠুর ঘটনাগুলো যথেষ্ট যে প্রমাণ সামনে এনেছে, তা হল- (ইউক্রেনে) অস্ত্র প্রেরণ শান্তি বয়ে আনতে পারে না।

আরও পড়ুন : খেলাকে কেন্দ্র করে ৭ জনকে গুলি করে হত্যা!

বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তিধর দেশ রাশিয়া এক বছর পূর্বে ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করে। এরপর থেকে যুদ্ধ আক্রান্ত দেশটিতে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে পশ্চিমারা।

অপরদিকে রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সামরিক জোট ন্যাটো বেইজিংকে সতর্ক করার দিন কয়েক পরই চীন এই মন্তব্য করল।

শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

আরও পড়ুন : অজয় বাঙ্গাকে বিশ্বব্যাংকের প্রধান হিসেবে মনোনয়ন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে চীনের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর ডাই বিং বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সংস্থাটির সাধারণ পরিষদে এই মন্তব্য করেন।

তিনি সেখানে বলেন, ‘আগুনে জ্বালানি দেওয়া হলে তা কেবল উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। দ্বন্দ্ব-সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করা এবং সম্প্রসারণ করা হলে তা কেবল সাধারণ মানুষকে আরও বেশি মূল্য চোকাতে বাধ্য করবে।’

কাতার ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরা বলছে, বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ‘বিস্তৃত, ন্যায্য এবং স্থায়ী শান্তি’ প্রতিষ্ঠা এবং ইউক্রেন থেকে রাশিয়ার সৈন্য প্রত্যাহার ও যুদ্ধ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে এসব মন্তব্য করেন চীনের দূত।

আরও পড়ুন : রুশ সেনাদের ইউক্রেন ছাড়ার আহ্বান

ওই প্রস্তাবে বলা হয়, জাতিসংঘের সনদ মেনে ইউক্রেনে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক। ১৪১ টি দেশ এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। সাতটি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। ভারত, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানসহ ৩২টি দেশ ভোটদান থেকে বিরত ছিল।

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া প্রথম ইউক্রেনে আক্রমণ চালিয়েছিল। তার ঠিক এক বছর পর জাতিসংঘে এই প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হল। ইউরোপ এবং আমেরিকার অধিকাংশ দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

প্রস্তাবের বিপক্ষে থেকেছে রাশিয়া, বেলারুশ, উত্তর কোরিয়া, সিরিয়া, মালি, ইরিত্রিয়া এবং নিকারাগুয়া। ভোটদান থেকে বিরত থাকা ৩২টি দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো- ভারত, পাকিস্তান, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং আফ্রিকার অধিকাংশ দেশ। এছাড়া মধ্য এশিয়ার বেশ কিছু দেশও ভোটদান থেকে বিরত ছিল।

আরও পড়ুন : পারমাণবিক মোতায়েন করবে রাশিয়া

আল জাজিরা প্রতিবেদনে বলেছে, এক বছর আগে রাশিয়া পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সরবরাহ করেছে।

অপরদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো গত সপ্তাহে রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করার বিষয়ে বিবেচনা করার জন্য চীনকে অভিযুক্ত করেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একইসঙ্গে বেইজিংকে এই ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্কও করেছে। যদিও রাশিয়াকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার অভিযোগ অস্বীকার করেছে চীন।

আরও পড়ুন : চীনে কয়লাখনি ধসে নিহত ২

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা জোসেপ বোরেল গত সপ্তাহে মিউনিখে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ইর সঙ্গে দেখা করে বলেন, তিনি ওয়াংকে রাশিয়ার জন্য চীনা সামরিক সহায়তার সম্ভাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে সাংবাদিকদের বোরেল বলেন, ‘তিনি খুব স্পষ্ট এবং দৃঢ় ছিলেন।’তার ভাষায়, ‘তিনি (ওয়াং) আমাকে যা বলেছিলেন তা আমি কেবল পুনরাবৃত্তি করতে পারি: চীন রাশিয়ার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করছে না এবং চীন রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করবে না।

কারণ চীনের পররাষ্ট্র নীতিতে সংঘাতে লিপ্ত কোনও পক্ষকে অস্ত্র না দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে। তিনি বলেন, তারপরও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

আরও পড়ুন : তাজিকিস্তানে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প

আমরা ইউক্রেন সংকট সমাধানে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে প্রস্তুত আছি বলেও জানান চীনের রাষ্ট্রদূত ডাই।

রাশিয়া তার প্রতিবেশীকে আক্রমণ করার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, হুমকি দিলে মস্কো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। এর জবাবে ডাই বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না, এমনকি পরমাণু যুদ্ধও করা যাবে না।’

তার ভাষায়, ‘সকল পক্ষকে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার বা ব্যবহারের হুমকির বিরুদ্ধে একত্রিত হতে হবে, পারমাণবিক বিস্তার রোধ করতে হবে এবং পারমাণবিক সংকট এড়াতে হবে।’

আরও পড়ুন : ১০ ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আক্রমণের কয়েকদিন আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে দেখা করার জন্য বেইজিং সফর করেছিলেন।

তবে ঠিক সেই সময়ই রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ট্যাংকগুলো ইউক্রেনের সীমান্তে জড়ো হচ্ছিল। উভয় নেতা সেসময় চীন-রাশিয়ার অংশীদারিত্বে ‘কোনও সীমা’ না রাখার ব্যাপারে সম্মত হন।

এছাড়া ইউক্রেন আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়ার সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্কও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও পড়ুন : সোমালিয়ায় জঙ্গি হামলা, নিহত ১০

অবশ্য চীন এখন পর্যন্ত রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান যুদ্ধে নিজেকে নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে স্পষ্ট করার চেষ্টা করে এসেছে এবং পূর্ব ইউরোপের এই দেশটিতে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে সেটির নিন্দাও জানায়নি বেইজিং। এমনকি রুশ আগ্রাসনকে ‘আক্রমণ বলা থেকেও বিরত রয়েছে চীন।

এদিকে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ‘বিশেষ সামরিক অভিযানের’ কথা বলে ইউক্রেনে ঢুকে পড়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনী।

রুশ বাহিনীর হামলার পর গত এক বছরে বদলে গেছে সাধারণ ইউক্রেনীয়দের জীবন। পুতিনের সেনাদের প্রতিহতে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছেন অনেকে।

সান নিউজ/এইচএন

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা