আন্তর্জাতিক

খাদ্যের দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী রাশিয়া

সান নিউজ ডেস্ক: নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (ন্যাটো) মহাসচিব জিনস স্টলটেনবার্গ দাবি করেছেন, পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং রাশিয়া ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবেই বিশ্বজুড়ে বাড়ছে খাদ্যশস্য ও খাদ্যপণ্যের দাম। বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়েছেন

বুধবার (১৫ জুন) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মত বিনিময় অনুষ্ঠানে ন্যাটো মহাসচিব বলেন, ‘চলতি বছরের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক সমস্যা হলো খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্য। রাশিয়া যদিও বলছে যে, আমাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে, কিন্তু এই অভিযোগ একদমই সঠিক নয়। বরং সত্য হলো, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবেই বাড়ছে খাদ্যের দাম।’

করোনা মহামারি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বিভিন্ন দেশে অতিবৃষ্টি, খরা ও ঘুর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেওয়ায় চলতি ২০২২ সালের শুরু থেকেই বিশ্বজুড়ে চড়ছিল খাদ্যপণ্য ও শস্যের দাম। তার মধ্যেই গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনীকে ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরুর নির্দেশ দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

গত ০৮ এপ্রিল জাতিসংঘের বৈশ্বিক খাদ্যপণ্য মূল্য সূচক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ— মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বিশ্বে ভোজ্য তেল, খাদ্যশস্য, চিনি, মাংসসহ সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে এবং এই মূল্যবৃদ্ধির গড় হার ১৩ শতাংশ।

আরও বলা হয়, এক মাসে বিশ্বে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে ২৩ শতাংশ, খাদ্যশস্যের দাম বেড়েছে ১৭ শতাংশ, চিনির দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ, মাংসের দাম বেড়েছে ৫ শতাংশ এবং দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বেড়েছে ৩ শতাংশ।

আরও পড়ুন: ঢাকায় ফ্ল্যাট মালিকদের সবার কালো টাকা আছে

এ বিষয়ক এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক খাদ্যপণ্য মূল্যসূচকের যাত্রা শুরু হয় আজ থেকে ৬০ বছর আগে। এই ৬০ বছরের ইতিহাসে এত অল্প সময়ের মধ্যে খাদ্যপণ্যের দামের এই পরিমাণ উল্লম্ফন দেখা যায়নি।

বুধবারের মত বিনিময় সভায় ন্যাটো মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমানে যুদ্ধের যে পরিস্থিতি, তাতে ইউক্রেন থেকে খাদ্য ও শস্য রপ্তানি অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ।’

‘তবে ইউক্রেনে আটকে থাকা খাদ্যশস্য ও ভোজ্যতেল আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে আসতে কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলের বন্দরগুলোতে রুশ বাহিনীর অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ন্যাটোর বিভিন্ন সদস্যরাষ্ট্র। এসব সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগামী ভূমিকা রেখে চলেছে তুরস্ক।’

আরও পড়ুন: পাশাপাশি দেশ হলে সমস্যা থাকে, সমাধানও থাকে

প্রসঙ্গত, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পূর্ব ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহীদের দুই রাষ্ট্র ‘দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক’ ও ‘লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক’কে স্বীকৃতি দিয়ে শান্তি রক্ষায় ওই অঞ্চলে সেনাবাহিনী পাঠায় রাশিয়া।

পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশপন্থী বিদ্রোহীদের সহায়তার লক্ষ্যে মস্কো স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীকে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার অভিযানের নির্দেশ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

সান নিউজ/এনকে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা