আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনে সামরিক হামলার পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে সারাবিশ্বকে একজোট করতে চেষ্টা চালাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ইতোমধ্যে রুশ জ্বালানি তেল-গ্যাসের আমদানি বন্ধসহ গুরুতর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন তিনি। ভারত ও চীনসহ হাতে গোনা কয়েকটি দেশ ব্যতিত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো একই পথে হাঁটছে।
আরও পড়ুন : মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা চরম আপত্তিকর
চীন ও ভারত এশিয়ার প্রভাবশালী এই দুই দেশ জাতিসঙ্ঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত থেকেছে।
অপরদিকে মস্কো থেকে তেলের আমদানি বাড়াচ্ছে নয়াদিল্লি। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসেছে ভারতের এমন পদক্ষেপ বাইডেনের প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মূলত আমদানি নির্ভর ভারতের জ্বালানি তেল খাত। দেশটির চাহিদার ৮৫ শতাংশ তেলই আমদানি করা হয়। ২০২২ সালে দেশটির তেলের চাহিদা ৮ দশমিক ২ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করা হয়েছে। ফলে চলতি বছরে প্রতিদিন ৫১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেলের প্রয়োজন পড়বে।
আরও পড়ুন : বাংলাদেশের চোখ সিরিজ জয়ে
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো সংবাদ দিচ্ছে, জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০ শতাংশ ছাড়ে নয়াদিল্লিকে তেল দিতে রাজি হয়েছে মস্কো।
শুক্রবার ( ১৮ মার্চ ) বিষয়টি নিশ্চিত করে ভারতের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, করোনায় সংকটে রয়েছে ভারতের অর্থনীতি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাশিয়া থেকে ছাড়ে তেল আমদানির পরিমাণ বাড়াবে দেশটি। এই কর্মকর্তা বলেন, সর্বশেষ দেশটি থেকে ৩০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ( ১৭ মার্চ ) এ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সব সম্ভাবনাগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। রাশিয়াকে ভারতের প্রধান তেল সরবরাহকারী হিসেবে আমি মনে করি না। আর তেলের চেয়ে অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে মস্কোর ওপর আমাদের নির্ভরশীলতা অনেক বেশি। ইন্ডিয়ার অধিকাংশ অস্ত্রই আমদানি করা হয় রাশিয়া থেকে।
রাশিয়া-ভারত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার কাছাকাছি এসেছে দেশটি। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যেসব বিষয়ে ভিন্নতা রয়েছে, তার থেকে দুই দেশের মধ্যে ঐক্য বেশি। এছাড়া কৌশলগত জোট ‘কোয়াডে’ রয়েছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছর জোটের অপর দুই সদস্য জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে টোকিওতে বৈঠকের কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন : বিশ্বে করোনা থেকে সুস্থ ৪০ কোটির বেশি মানুষ
এদিকে প্রেসিডেন্ট বাইডেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে গত ডিসেম্বরে গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনার ভারতীয় সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্ককে চাপে ফেলতে পারে। এর আগে রাশিয়া থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনায় ভারতের প্রতি অসন্তুষ্ট হোয়াইট হাউস।
আরও পড়ুন : ফের পুতিনের সাথে বৈঠকের আগ্রহী জেলেনস্কি
অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, মস্কো থেকে এস-৪০০ কেনার জন্য ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে কি না, তা এখনো মার্কিন বিবেচনায় রয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর বিষয়টি এখন ভিন্ন মাত্রায় দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে ভূরাজনৈতিক সমতা বজায় রাখা বাইডেনের জন্য যে কতটা জটিল হয়ে পড়েছে, তা ইঙ্গিত করছে ভারত-রাশিয়া তেল চুক্তি। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট মস্কো বিরোধী বলয়ে ভারতকে আনতে পারেননি, এরপরও এশিয়ায় চীনের প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে নয়াদিল্লিকে অন্যতম কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখে ওয়াশিংটন।
আরও পড়ুন : মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৪০
ইউক্রেন সংকট নিয়ে ভারতের সাথে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে কাজ করছে এ নিয়ে গত বুধবার ( ১৬ মার্চ ) হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব জেন সাকি বলেন, আমরা একাধিক মাধ্যমে যোগাযোগ রেখে চলেছি। এর এক দিন আগেই ভারতের তেল আমদানি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় তার কাছে। এ সময় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করে জেন সাকি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা হচ্ছে, যখন ইতিহাস লেখা হচ্ছে, তখন একটি দেশের নিজেদের অবস্থান নিয়ে ভাবা উচিত।
আরও পড়ুন : ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যে ক্যাটরিনা
প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দুই ভূখণ্ড দনেতস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া। এর দু’দিন পর, ২৪ তারিখ থেকে ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে।
সান নিউজ/এইচএন