আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিরতি মানছে না রুশ সৈন্যরা

সান নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী মারিওপোলের ডেপুটি মেয়র সেরহি ওরলভ অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও রুশ সেনারা গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। শনিবার (৫ মার্চ) টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় এই অভিযোগ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: দাম বেশি রাখায় তেলের দোকান সিলগালা

তিনি আরও বলেন, মারিওপোলে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই, সমস্ত সড়কে কোনো যুদ্ধ বিরতি নেই। বেসামরিক নাগরিকরা সরে যেতে প্রস্তুত কিন্তু গোলাবষর্ণের কারণে তারা সরে যেতে পারছে না।

মারিওপোলের উপ মেয়র সেহি অরলোভ বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার সড়কের শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি মানা হচ্ছে না। শহরে গোলাবর্ষণ হচ্ছে। রাশিয়ানরা আমাদের ওপর বোমা এবং গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। এটা উন্মত্ততা।

মারিউপোলের একজন বাসিন্দা যিনি এই নগরীর কেন্দ্রে বসবাস করেন তিনি বিবিসিকে বলেছেন, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শহরে এখনও গোলাগুলির শব্দ অব্যাহত রয়েছে।

৪৪ বছর বয়সী প্রকৌশলী আলেকজান্ডার বলেন, এই মুহূর্তে আমি মারিউপোলে রয়েছি। আমি এখন মারিউপোলের সড়কে রয়েছি। আমি প্রতি তিন থেকে পাঁচ মিনিট অন্তর গোলাবর্ষণের শব্দ শুনতে পাচ্ছি। সবুজ করিডোরটি একেবারে অর্থহীন। আমি এমন লোকজনের গাড়ি দেখতে পাচ্ছি, যারা পালানোর চেষ্টা করেছিল এবং তারা বর্তমানে শহরে ফিরে আসছে।

আরও পড়ুন: বিএনপির ক্ষমতায় আসার সুযোগ নেই

এদিকে, রুশ সংবাদমাধ্যমগুলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের মারিওপোল ও ভোলনোভাখার বেসামরিক নাগরিকদের শহর ছেড়ে যাওয়ার জন্য পথ তৈরি করে দিতে ‘নীরবতার শাসন’ প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং সেখানে সাময়িকভাবে যুদ্ধ বিরতি কার্যকর থাকবে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সেনাদের ব্যাপক গোলাবর্ষণে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলো আছে সবচেয়ে বেশি চাপে। সেখানে দুই পক্ষের সেনাদের মধ্যে তুমুল লড়াই হচ্ছে। এর আগে বন্দর নগরী মারিওপোল দখল নিয়ে রুশ সেনারা অবরুদ্ধ করে রেখেছেন জানিয়ে মানবিক সাহায্যে করিডর তৈরির আকুতি জানান শহরটির মেয়র।

আরও পড়ুন: মালিতে সংঘর্ষে সেনাসহ নিহত ৯৭

প্রসঙ্গত, কয়েক বছর আগে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য আবেদন করে ইউক্রেন এবং তারপর থেকে এই ব্যাপারটিকে ঘিরে দ্বন্দ্ব শুরু হয় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে। এর মধ্যে ন্যাটো ইউক্রেনকে পূর্ণ সদস্যপদ না দিলেও ‘সহযোগী দেশ’ হিসেবে মনোনীত করায় দ্বন্দ্বের তীব্রতা আরও বাড়ে। ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য আবেদন প্রত্যাহারে ইউক্রেনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে গত দুই মাস রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় দুই লাখ সেনা মোতায়েন রেখেছিল মস্কো।

কিন্তু এই কৌশল কোনো কাজে আসেনি। উপরন্তু এই দু’মাসের প্রায় প্রতিদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা অভিযোগ করে গেছে— যে কোনো সময় ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারে রুশ বাহিনী। অবশেষে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দুই ভূখণ্ড দনেতস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া; এবং তার দু’দিন পর, ২৪ তারিখ ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

আরও পড়ুন: পরমাণু কেন্দ্র দখলে জাতিসংঘের উদ্বেগ

গত ৯ দিনের রুশ অভিযানে ইউক্রেন থেকে পালিয়ে পার্শ্ববর্শিতী রাষ্ট্র পোল্যান্ড ও রোমানিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ১০ লাখ ইউক্রেনীয়। এছাড়াও শতাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে আছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশুও। রাশিয়া ও ইউক্রেনের সরকারি কর্মকর্তারা অবশ্য সংলাপ শুরু করেছেন।

সান নিউজ/এমকেএইচ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা