চীনের অনুরোধ রেখেছে রাশিয়া
আন্তর্জাতিক

চীনের অনুরোধ রেখেছে রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইউক্রেনে রুশ হামলার বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন। পশ্চিমা গোয়েন্দা রিপোর্টে এমনটাই আভাস পাওয়া যায় বলে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদেনে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন: মানবিক করিডোরে কিয়েভ-মস্কো

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে এ তথ্য।

পশ্চিমা গোয়েন্দাদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে, বেইজিং উইন্টার অলিম্পিকস শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছিলেন, ইউক্রেনে হামলা না চালাতে। এর অর্থ দ্বারাই চীন সরকার ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়টি সম্পর্কে আগে থেকেই অবহিত ছিল।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি বেইজিং উইন্টার অলিম্পিকস উদ্বোধনের আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বৈঠক হয়। সে সময় বেইজিং ও মস্কো ৫ হাজার শব্দের এক বিবৃতিতে দেশ দুটির অংশীদারিত্বের ‘কোনো সীমারেখা নেই’ বলে উল্লেখ করে।

একই সঙ্গে ন্যাটোর সম্প্রসারণের নিন্দা জানিয়ে সত্যিকারের ‘গণতন্ত্রের’ ওপর ভিত্তি করে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় জোর দেওয়া হয়েছিল।

চীন-রাশিয়ার কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার বিষয়টি গোপন ছিল। পশ্চিমা এক গোয়েন্দা সংস্থা এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করার পর কর্মকর্তারা তা যাচাই করে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করছেন।

পুতিন কখন ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারেন, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদেশগুলোর সরকারের আলোচনার সময় সে তথ্য সবাইকে পাঠানো হয়। যদিও তথ্য কতটা এবং কিভাবে শেয়ার করা হয়েছিল সেটি স্পষ্ট করে বলা হয়নি।

এই গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চীন ও রাশিয়ার মধ্যে ইউক্রেনে হামলার ব্যাপারে যে কথোপকথন হয়, তা যে শি জিনপিং ও পুতিনের মধ্যে হয়েছে তাতে তার স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।

এ গোয়েন্দা তথ্য সস্পর্কে অবগত অন্য কর্মকর্তারাও বিস্তারিত বলতে রাজি নন। সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় গোয়েন্দা প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলা কর্মকর্তারা তাদের নাম প্রকাশ না করার শর্তও দিয়েছেন।

স্থানীয় সময় বুধবার (২ মার্চ) ইমেইলের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেঙ্গিন বলেন, এসব দাবি অনুমান নির্ভর এবং ভিত্তিহীন। তিনি বলেন এটির উদ্দেশ্য হচ্ছে চীনের দিকে দোষ চাপানো।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি বেইজিং অলিম্পিকসের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পরের সপ্তাহে রাশিয়ার পুতিন সরকার পূর্ব ইউক্রেনকে নিজেদের অংশ বলে সেখানকার দুটি অঞ্চলকে স্বাধীন ঘোষণা করে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া।

আমেরিকান এবং ইউরোপীয়ান কর্মকর্তারা বলছেন যে অলিম্পিক শেষ হওয়ার আগে ইউক্রেনে হামলা শুরু হয়নি।

আরও পড়ুন: ইউক্রেনে রুশ জেনারেল নিহত

নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০০৮ সালের আগস্টে রাশিয়া যখন জর্জিয়া আক্রমণ করেছিল তখন বেইজিংয়ে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক চলছিল। ওই ঘটনায় মর্মাহত হন চীনা কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন: সয়াবিন নৈরাজ্যে কৃত্রিম সংকট

প্রসঙ্গত, চলতি বছর শীতকালে, রাশিয়া আগ্রাসনের প্রস্তুতির জন্য চীন এবং পূর্বের অন্যান্য সীমান্ত থেকে সামরিক ইউনিট সরিয়ে নেয়। এটিই স্পষ্ট করে যে তাদের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গভীর। চীন ও রাশিয়া বছরের পর বছর ধরে তাদের অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক জোরদার করে আসছে। শি জিনপিং ও পুতিন বেইজিংয়ে তাদের সর্বশেষ সম্মেলনের আগে জাতীয় নেতা হিসাবে ৩৭ বার দেখাও করেছেন বলে জানা গেছে।

সান নিউজ/ এইচএন

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা