মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া
আন্তর্জাতিক

মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তা দিচ্ছে না রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়া যদি ইউক্রেন আক্রমণ করে তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সমুচিত জবাব দেবে।

শনিবার ( ১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এমন হুঁশিয়ারি দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

তবে মার্কিন এই হুমকি আমলে নিচ্ছে না রাশিয়া। এমনটিই জানালেন সুইডেনে অবস্থিত রুশ রাষ্ট্রূদূত ভিক্টর তাতারিনসেভ।

স্পষ্টবাদী হিসেবে পরিচিত রুশ এই কূটনীতিক জানান, পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার হুমকি মস্কো পাত্তা দেয়না।

ভিক্টর তাতারিনসেভ জানান, এমন ভাষা ব্যবহারের জন্য আমকে ক্ষমা করবেন। এ সময় অশ্রাব্য একটি শব্দ উচ্চারণ করে তিনি বলেন, তাদের নিষেধাজ্ঞায় আমাদের কিচ্ছু ‘আসে যায় না’।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে আমাদের ওপর এ ধরনের অনেক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব রেখেছে মন্তব্য করে বলেন, নতুন নিষেধাজ্ঞা ইতিবাচক নয়, তবে পশ্চিমারা যেমনটি বলছে তেমনটিও হবে না।

প্রসঙ্গত, ইউক্রেন নিয়ে চরম উত্তেজনার মধ্যে শনিবার রাতে প্রেডিসেন্ট পুতিন ও বাইডেনের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী ফোন আলাপ হয়। বাইডেন রুশ প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেন।

দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেন সীমান্তে লাখো সেনার সমাবেশ ঘটিয়েছে ক্রেমলিন। পাল্টা জবাবে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোও পূর্ব ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে।

সব মিলিয়ে ইউরোপে যুদ্ধের দামামা বাজছে। তবে প্রথম থেকেই রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনে হস্তক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা দেশটির নেই।

প্রসঙ্গত, মার্কিন নাগরিকদেরকে দ্রুত সময়ের মধ্যেই ইউক্রেন ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। চলমান ইউক্রেন উত্তেজনার মধ্যে রুশ হামলার আশঙ্কায় এ নির্দেশনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

হোয়াট হাউজ জানায়, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী যে কোনো দিন ইউক্রেন আক্রমণ করতে পারে। আর আক্রমণের সূত্রপাত একটি বোমা হামলার মাধ্যমে হতে পারে।

যে কারণে সে সময় বেসামরিক নাগরিকদের দেশটি থেকে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই মার্কিন প্রশাসন দেশটির নাগরিকদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ইউক্রেন ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

পাশাপাশি শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের খুব দ্রুতই ইউক্রেন ছাড়ার নির্দেশনা দিয়েছে।

পাশাপাশি একই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নেদারল্যান্ডস ও লাটভিয়া সরকারের পক্ষ থেকে।

প্রসঙ্গত, ইউক্রেন সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই প্রায় ১ লাখ সৈন্য মোতায়েন করে রেখেছে প্রতিবেশী দেশ রাশিয়া। এর মধ্যে ট্যাংক ও কামানসহ যুদ্ধবিমানের বহরও ইউক্রেন সীমান্তে পাঠিয়েছে দেশটি। যেকোনো মুহূর্তে রুশ সেনারা দেশটিতে আক্রমণ করতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

যদিও ইউক্রেনে হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে বরাবরই দাবি করে আসছে মস্কো। সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি।

ইউক্রেন উত্তেজনার মধ্যেই ফের সেনা মোতায়েন শুরু করছে রাশিয়া:

এদিকে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো) হচ্ছে পাশ্চাত্য দেশগুলোর জোট। এই সামরিক জোটকে ঘিরেই চলমান ইউক্রেন উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে সেনা মোতায়েন শুরু করেছে রাশিয়া।

তবে এবার সীমান্তে নয়, ইউক্রেন সংলগ্ন দ্বীপ ক্রিমিয়া ও দেশটির নিকটবর্তী কয়েকটি এলাকায় সেনা উপস্থিতি বাড়াচ্ছে পুতিন প্রশাসন। পাশাপাশি মিত্রদেশ বেলারুশে যৌথ সামরিক মহরা চালাচ্ছে পরাশক্তিধর রাশিয়া।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানি ম্যাক্সার টেকনোলজিস শুক্র ক্রিমিয়া ও তার আশপাশের এলাকার কিছু স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করেছে।

সেসব চিত্র বিশ্লেষণ করে জানা গেছে— ক্রিমিয়া, দেশের পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা ও বেলারুশে সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে ম্যাক্সার টেকনোলজির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বুধবার ( ৯ ফেব্রুয়ারি) ও বৃহস্পতিবার ( ১০ ফেব্রুয়ারি) এসব ছবি তোলা হয়েছে।

স্যাটালাইটের ছবিগুলোতে ক্রিমিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর সিম্ফেরোপোলের অক্টায়াব্রেসকোয়ের বিমানঘঁটিতে অন্তত ৫৫০ টি সেনা ছাউনি ও কয়েকশ সামরিক যানের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা পূর্বে ছিল না।

এছাড়াও, নতুন করে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে ক্রিমিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চল নভুজেরানয়ের স্ল্যাভনে শহরেও।

তবে শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এসব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে রুশ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহায়তায় ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া ছিনিয়ে নিয়েছিল রাশিয়া।

পাশ্চাত্যের আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকদের ধারণা, কৃষ্ণসাগরের এই দ্বীপটির ওপর নিজেদের দখলদারিত্ব নিরাপদ রাখতেই সেখানে রুশ সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে ।

অপরদিকে, রাশিয়ার অন্যতম মিত্র দেশ বেলারুশ ও দেশটির পশ্চিাঞ্চলের সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ক্রুস্ক ট্রেইনিং এরিয়াতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রুশ সেনা ও সামরিক যানের উপস্থিতি দেখা গেছে বলে জানাচ্ছে ম্যাক্সারের স্যাটেলাইট চিত্র।

বর্তমানে বেলারুশের সঙ্গে ১০ দিনের সামরিক মহড়া চালাচ্ছে পুতিন সরকার। রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ক্রুস্ক ট্রেইনিং এরিয়ার অবস্থান ১১০ কিলোমিটার পূর্বে। গত প্রায় ২ মাস ধরে ওই সীমান্তে প্রায় ১ লাখ রুশ সেনা অবস্থান করছে।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অঙ্গরাজ্য ও রাশিয়ার প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইউক্রেন কয়েক বছর আগে ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য আবেদন করার পর থেকেই উত্তেজনা শুরু হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে।

সম্প্রতি ন্যাটো ইউক্রেনকে সদস্যপদ না দিলেও ‘সহযোগী দেশ’ হিসেবে মনোনীত করার পর আরও বেড়েছে এই উত্তেজনা।

আরও পড়ুন: সড়কে কোনো চাঁদা তুলতে দেব না

প্রসঙ্গত, ১৯৪৯ সালে গঠিত ন্যাটোকে রাশিয়া বরাবরই পাশ্চাত্য শক্তিসমূহের আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে মনে করে; এবং ঐতিহাসিকভাবেই বিশ্বের বৃহত্তম দেশ রাশিয়া পাশ্চাত্য আধিপিত্যবাদের বিরোধী।

একসময়ের সোভিয়েত অঙ্গরাষ্ট্র ইউক্রেনের মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রুশ বংশোদ্ভুত। দেশটিতে রুশ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীও বেশ সক্রিয়।

সান নিউজ/ এইচএন

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা