আন্তর্জাতিক

আতঙ্কিত মিয়ানমারের জনগণ, টাকা তোলার হিড়িক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী আরও একবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটির অধিকাংশ স্থানে এখনো টেলিফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। খবর বিবিসি।

দেশটির সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ শহর ইয়াঙ্গন থেকে সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং শহরটির আশেপাশের এলাকাগুলোর সাথে সড়ক যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে।

অভ্যুত্থানের খবরে আতঙ্কিত হয়ে মিয়ানমারের মানুষ টাকা তোলার জন্য এটিএম বুথের সামনে জড়ো হচ্ছেন। অনেক বুথের সামনে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।

তবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মানুষজন এটিএম বুথ থেকে টাকাও তুলতে পারছে না বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ইয়াঙ্গনের বাসিন্দারা এরই মধ্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছেন। অনেকেই বাইরে বের হয়ে খাবার ও শুকনো খাবার কিনতে শুরু করেছে।

তবে সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন যে দোকানে চাল এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিয়ে অনেকে দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

বিবিসির সংবাদদাতা নিয়েন চান আয়ে জানান, শহরটির আঞ্চলিক পার্লামেন্ট এবং আঞ্চলিক সরকারি অফিসগুলোর দখল নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। বেসামরিক কর্মকর্তাদের এসব দপ্তরে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার এক সময় পরিচিত ছিল বার্মা নামে। দেশটির সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, স্টেট কাউন্সির অং সান সু চি এবং প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতারের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির কয়েকজন মন্ত্রী এবং রাখাইন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

সেনাবাহিনী বলছে, তারা কমান্ডার-ইন-চিফ মিন অংলাইংয়ের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে।

গত বছর নভেম্বরের নির্বাচনে অং সান সু চি-র রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বা এনএলডি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু সেনাবাহিনী নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তোলে।

সেনাবাহিনী বলছেন, নির্বাচনে জালিয়াতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এক বছর যাবত তারা ক্ষমতায় থাকবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এলএনডি জানিয়েছে যে তাদের নেতা মিজ সু চি জনগণকে এই সামরিক অভ্যুত্থান মেনে না নেয়ার এবং প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে এখন পর্যন্ত ইয়াঙ্গনে - যা এক সময় পরিচিত ছিল রেঙ্গুন নামে - সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ দেখা যায়নি বলে জানান সংবাদদাতা নিয়েন চান আয়ে।

তবে এক দল স্বঘোষিত ‌জাতীয়তাবাদী অ্যাক্টিভিস্ট'কে শহরে উল্লাস করতে দেখা গেছে জানান তিনি। উল্লাসকৃতদের একজন জানিয়েছেন যে তারা শহরজুড়ে আনন্দ মিছিল করবেন।

গত কয়েকদিন ধরে কয়েকটি জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠিকে ইয়াঙ্গনে সেনাবাহিনীর সমর্থনে কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে।

মিয়ানমারে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানা গেছে এবং এখনও অভ্যুত্থানের বিপক্ষে কোন প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ দেখা যায়নি।

রাজধানী নেপিডোতে সরকার নিয়ন্ত্রিত টেলিফোন নেটওয়ার্কের শুধুমাত্র টেলিফোন সেবা ফিরে এসেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সান নিউজ/এম

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা