ফিচার
কৃষকের মুখে হাসি

লালমোহনে আলুর বাম্পার ফলন

মো. কামরুল হোসেন সুমন, ভোলা: ভোলার লালমোহন উপজেলায় এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজার দাম কিছুটা কম হলেও ভালো ফলন পেয়ে খুশি কৃষকরা। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভবান হতে পারবেন বলে আশাবাদী কৃষকরা। আলুর সন্তোষজনক ফলন পেয়ে কৃষকদের আগ্রহ অনেক বেড়ে গেছে। কৃষকরা ক্ষেত থেকে আলু তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ আবার বিক্রির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন: সাবওয়ে নির্মাণ প্রধানমন্ত্রীর দ্বারাই সম্ভব

কৃষকরা জানালেন, ঘূর্নিঝড় জাওয়াদের কারনে সৃষ্ট প্রকৃতিক দুর্যোগে আলু আবাদে শুরুতে আলুর ফলন নিয়ে চিন্তিত ছিলেন লালমোহনের আলু চাষীরা। তবে সেই দুর্যোগ কাটিয়ে ঘুরে দাড়িয়েছেন চাষীরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন হয়েছে। এতে বেশ খুশি চাষীরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় ৩শ ৬৫ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। যা থেকে ১০হাজার ৯শ৫০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হবে বলে মনে করছে কৃষি অফিস। এ বছর আলু ক্ষেতে কোন রোগ বা পোকা-মাকড়ের আক্রমন ছিলো না। তাই ফলনে বিপর্যয় হয়নি। কিন্তু ঘূর্নিঝড় জাওয়াদের কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও কিছুটা কম হয়েছে।

উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের পাঙ্গাশিয়া ও জাহাজমারা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষককের বিস্তীর্ন ফসলের ক্ষেতে আলুর বাম্পার ফলন। ক্ষেত থেকে আলু তোলা এবং বাজারজাতকরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা। জাহাজমারা গ্রামের কয়েক বছর ধরে আলু চাষ করে মোঃ ওবায়দুর রহমান।

আরও পড়ুন: আমাদের নৈতিক অধঃপতন হয়েছে

তিনি জানান, গত বছরের মত এ বছরেও আলুর ফলন ভালো হয়েছে। ঘূর্নিঝড় জাওয়াদের কারনে প্রথম দিকে আলুর চারা নষ্ট হয়েছে। আবার নতুন করে রোপন করেছি। ফলন ও যে দাম পেয়েছি তাতে খরচ বাদ দিয়ে লাভ হবে আশা করছি।

তিনি আরও জানান, এ বছর ২ একরে (২শ শতাংশ) আলুর আবাদ করেছে। প্রতি মন বিক্রি করেছেন ৪৫০ টাকা। প্রায় অর্ধেক আলু বিক্রি করে দিয়েছেন। বাকি আলু গুলো বিক্রি করার প্রস্তুতি চলছে। এই এলাকার কৃষক আঃ রশিদ জানান, ১৫ গন্ডা জমিতে আলুর আবাদ করেছি, ফলন অনেক ভালো হয়েছে। প্রথম ধাপে ১০ হাজার টাকার আলু বিক্রি করেছি। ক্ষেতে এখনও অনেক আলু আছে সেগুলো বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছি।

আরও পড়ুন:

পাঙ্গাশিয়া গ্রামের আলু চাষী মোঃ বাবুল জানান, তিনি গত ৫ বছর ধরে আলুর আবাদ করে আসছেন। অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর আলুর ফলন অনেক ভালো। এ বছর ২০ গন্ডা জমিতে আলুর আবাদ করেছি, ফলনও অনেক ভালো। ক্ষেত থেকে আলু তুলেছেন। এ বছর আলু বিক্রি করে এক লাখ টাকা লাভ হবে বলে তিনি আশাবাদী।

ওই এলাকার আলু চাষী সবুজ বলেন, আমাদের এলাকার বেশিরভাগ চাষী আলুন ফলন নিয়ে খুশি। আলু আবাদে অনেকে আগ্রহ বেড়ে গেছে। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর আলুন ফলন অনেক ভালো বলে মনে করছেন কৃষকরা। এদিকে প্রতি বছরই লালমোহন উপজেলার কৃষকদের উৎপাদিত আলু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যায় বিভিন্ন জেলায়। এতে আলু চাষ করে অনেকচাই সাবলম্বী হয়ে উঠছেন চাষীরা।

আরও পড়ুন: সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হবে

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এফ এম সাহাবুদ্দিন জানান, এ বছর লালমোহন উপজেলা লক্ষমাত্রার চেয়েও আলুর আবাদ কিছুটা কম হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের কারণে। এ বছর ফলন ভালো ও দাম ভালো পাওয়ার কারণে কৃষকেরা পুশিয়ে উঠতে পারবে। এতে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। কৃষি কাজে বিভিন্ন কৃষকদের বিভিন্ন সময় পরামর্শ দিয়েছে থাকি। আগামীতে আরও কৃষকদের মাঝে আগ্রহ পারবে। আরও বেশি আলুর আবাদ হবে আমরা আশাবাদী।

সান নিউজ/এমকেএইচ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা