ফিচার

ফেভিকল ম্যান বলবন্ত পারেখ

সান নিউজ ডেস্ক : ফেবিকল খুব পরিচিত একটি নাম। কোনো কিছু ভেঙে গেলেই আমাদের মনে পড়ে ফেভিকলের কথা। যাকে ভারতের ঘরে ঘরে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে বলবন্ত পারেখ। যিনি স্বাধীনতার পর ভারতকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করেছেন।

মনের মাঝে অনীহা ও অনিচ্ছা নিয়ে বেশি দূর এগোনো যায় না! যেমন এগোতে পারেননি বলবন্ত। মিথ্যার ঝুলি ভর্তি হতে দেখে প্রতি দিন বাড়ি ফিরে কাঁদতেন। শেষে মোটা বেতনের আইনজীবীর চাকরি ছেড়ে শুরু করেন পিয়নের কাজ। সেই পিয়নই আজ ভারতের ‘ফেভিকল ম্যান’। যিনি প্রতিটা ঘরের জিনিস জোড়া লাগিয়ে যাচ্ছেন।

গুজরাতের ভাবনগর জেলার মাহুবা শহরে এক জৈন পরিবারে জন্ম বলবন্ত পারেখের। তার ঠাকুরদা ছিলেন এলাকার নামকরা আইনজীবী। ছোট থেকেই বলবন্ত চাকরির বাইরে অন্যকিছু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাজি ছিলেন না মা-বাবা। তাদের কথাতেই আইন নিয়ে পড়াশোনা করতে হয়েছিল বলবন্তকে। ভর্তি হন মুম্বইয়ের একটি সরকারি কলেজে। সে সময় ভারত ছাড়ো আন্দোলনে গর্জে উঠেছিল দেশ। যুবক বলবন্তও সেই আন্দোলনে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। বাড়ির অমতে গিয়ে পড়াশোনা মাঝ পথে থামিয়েই আন্দোলনে নামেন তিনি।

পড়া শেষ না করেই ফিরে যান গ্রামে। মা-বাবার জোড়াজুড়িতে ফের মুম্বই এসে আইন পাশ করতে হয়। মা-বাবা স্বপ্ন দেখতেন, ছেলেও হবে ঠাকুরদার মতো বড় আইনজ্ঞ। কিন্তু আইন পাশ করেও আইনের বোঝা বইতে পারেননি তিনি। রোজ গায়ে কালো কোট চাপিয়ে জেনে বুঝে মিথ্যা বলতে পারছিলেন না তিনি।

চরম অনীহা থেকে আইনের কালো কোট খুলে ফেলে বেকার হতে দুবার ভাবেননি। বেকার অবস্থাতেই কান্তাবেন নামে এক মহিলাকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পরের দিনগুলি কেটেছে চরম আর্থিক দুরাবস্থার মধ্যে। নিজে কী খাবেন, স্ত্রীকে কী খাওয়াবেন জানতেন না। মাথার উপর ছিলো না থাকার ছাদটুকুও। উপায় না পেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতে শুরু করেন বন্ধুর গুদামে। শুরু করেন পিয়নের কাজ।

ব্যবসায়ী মন নিয়ে স্থায়ী হতে পারেননি কোনো চাকরিতেই। কিছু দিন যাওয়ার পর পিওনের চাকরি ছেড়ে দেন। তার পর এক বন্ধুর সাহায্যে বিদেশ থেকে সাইকেল, পেপার ডাই- সমস্ত জিনিস আমদানি করে ব্যবসায়ীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া শুরু করলেন। ব্যবসায় বেশ ভালো লাভের মুখ দেখতে শুরু করেন তিনি। কয়েক মাসের মধ্যেই স্ত্রীকে নিয়ে মুম্বইয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনে ফেলেন। বসবাসও শুরু করেন সেখানে।

১৯৫৪ সালে ভাই সুশীলের সঙ্গে মুম্বইয়ের জেকব সার্কল-এ পারেখ ডাইকেম ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন। মূলত কাপড় রঙের জিনিসপত্রই তিনি তৈরি করতেন।

এর বছর পাঁচেক পর পিডিলাইট সংস্থার জন্ম। যার অন্যতম উৎপাদন হল ফেভিকল। ফেভিকলের জনপ্রিয়তা ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়। ফেভিকলের জোড় এতটাই মজবুত যে ৬২ বছর ধরে ভারতবাসীর মনে রয়ে গিয়েছে এটি। ফেভিকল দিয়ে যাত্রা শুরু করা বলবন্তের সংস্থা পিডিলাইট এখন ২০০-র বেশি ধরনের জিনিস তৈরি করে। আমেরিকা, তাইল্যান্ড, মিশর, বাংলাদেশেও কারখানা খুলেছে পিডিলাইট। সিঙ্গাপুরে গড়ে উঠেছে গবেষণা কেন্দ্র।

সান নিউজ/ এমএইচআর

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা