জমিতে হচ্ছে না ফল-ফসল, নেপথ্যে ইট ভাটা
পরিবেশ

জমিতে হচ্ছে না ফল-ফসল, নেপথ্যে ইট ভাটা

খায়রুল খন্দকার, টাঙ্গাইল : ইট প্রস্তুত ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন (২০১৩) কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কৃষিজমির পাশে চলছে ইটভাটা।

আরও পড়ুন : জীবন দিয়ে হলেও মাঠ রক্ষা করবো!

আইনে পরিবেশের বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র, ইটভাটার জন্য মাটির সংস্থান নিশ্চিত করা, কৃষিজমি ও আবাসিক এলাকায় ইটভাটা তৈরি না করার শর্ত থাকলেও আইন অমান্য ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় ইটভাটা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

আইনের তোয়াক্কা না করে উপজেলার বানাঘাট এলাকায় একযুগ ধরে চলছে ইটভাটা। আইনের সকল শর্ত অমান্য করে ইটভাটা চললেও পরিবেশ অধিদফতরের বা জেলা প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

কৃষি ও কৃষকের ক্ষতিতে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেনি কেউ। পরিবেশ অধিদফতরের দাবি, খুব দ্রত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন : আইনজীবীকে কুপিয়ে হত্যা

কালিহাতী উপজেলার নারাইন্দিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বানাঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় স্বর্ণা ব্রিকস নামে ইটভাটা আবাসিক এলাকায় একযুগেরও বেশি সময় ধরে লাকড়ি দিয়ে ইট প্রস্তুত করে আসছে।

ইটভাটার কারণে এলাকার পরিবেশের চরম ক্ষতি হলেও কেউই কোনো পদক্ষেপ নেয় না। ভাটা চালু ও বন্ধের আগে গরম বাতাসে ও গ্যাসে কৃষিজমিতে ফসল ফলে না।

আম কাঁঠাল নারিকেল সহ বিভিন্ন ফলের গাছে কোনো ফল ধরে না।বাড়িতে ধুলাবালু ও ছাই পড়ে রাতে ঘুমাতে কষ্ট হয় এই এলাকার মানুষের। ভাটা মালিকের সাথে প্রশাসনের ভালো সম্পর্ক থাকায় এলাকার কেউ ভয়ে কিছু বলেও না।

আরও পড়ুন : ভালুকায় শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, ইটভাটার কারণে আমার জমিসহ প্রায় দেড়শতাধিক বিঘার জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের ক্ষতি হলেও কেউ দেখে না।

এলাকার কৃষক নাজমুল হোসেন বলেন, প্রতিবছর ভাটার কারণে আমাদের ফুল ফসলের অনেক ক্ষতি হয়। ইটভাটা টি আবাসিক এলাকার পাশে কৃষিজমিতে রয়েছে। এই ইটভাটার কারণে আবাসিক এলাকায় কোনো ফলের গাছে ফল ধরে না।

গ্রামের মজিদ মন্ডল বলেন, ফসলের মাঠের মাঝখানে ইটভাটাটি হওয়ার কারণে ফসল ফলাতে না পেরে কৃষকরা ইটভাটা মালিকের কাছেই জমি বিক্রি করছে।

আরও পড়ুন : নতুন বছরে অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ শুরু হবে

৬ নম্বর ওয়ার্ডের এর ইউপি সদস্য আজিজুল হক জানান, আইন অমান্য করে এলাকায় ইটভাটা যারা চালাতে পারে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে লাভ নেই।

ইট ভাটার মালিকের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সুশীল সমাজ বলেছেন, বিগত বছরগুলোতে জ্বালানি কাঠ পোড়ানোর দায়ে অবৈধ ইটভাটা মালিকদের অর্থদন্ডের পাশাপশি সতর্ক করা হলেও ভাটা মালিকরা তা না মেনে অবাধে সবুজ বৃক্ষ উজাড় করে কাঠ পুড়িয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন : বঙ্গবন্ধু রেল জাদুঘর নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের

তাই সকল অবৈধ ইটভাটা বন্ধের পদক্ষেপ নিতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই ফাঁপা এবং না পোড়ানো ইটের ব্যবহার হচ্ছে বর্তমানে। পোড়ানো ইটের ব্যবহার কমিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ইট ব্যবহারের প্রচলন করতে হবে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুঠোফোনে ইটভাটার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে কি-না এ সম্পর্কে তথ্য দিতে পারেননি।

জেলা প্রশাসক ইটভাটার লাইসেন্স দিয়ে থাকে। আইন অমান্য করে কেউ এলাকায় ইটভাটা চলছে এ বিষয়ে তাঁর জানা নেই তবে ভাটা থাকলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

সান নিউজ/এইচএন

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা