সেন্ট মার্টিন রক্ষায় পরিবেশ সমুন্নত রেখেই উন্নয়ন
পরিবেশ

সেন্ট মার্টিন রক্ষায় পরিবেশ সমুন্নত রেখেই উন্নয়ন

এম.এ আজিজ রাসেল : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেছেন, "সেন্ট মার্টিন দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। কিন্তু গত এক দশকে এখানে মানুষের অতিরিক্ত চাপ বেড়েছে। যার ফলে দ্বীপের প্রবাল, শামুক-ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। হোটেল বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে সমুদ্রের স্বচ্ছ নীল জল।

আরও পড়ুন : মানসিকতার পরিবর্তন দরকার

আর সৈকতে কোলাহল বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর সমুদ্র থেকে ছুটে আসা মা কচ্ছপও ডিম দিতে পারছে না। তাই ট্যুরিজমের জন্য পরিবেশকে পায়ে পিষিয়ে মারা যাবে না। আমরা ট্যুরিজমও চাই, উন্নয়নও। তাই সেন্ট মার্টিন রক্ষায় পরিবেশ সমুন্নত রেখেই উন্নয়ন করতে হবে।

মনে রাখতে হবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। নচেৎ তাঁরা আমাদের দোষারোপ করবে।"

শনিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে কলাতলীর একটি তারকা মানের হোটেলে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন উন্নয়নে অংশীজনদের সমন্বয়ে পরামর্শ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন : টেকনাফে বিদেশি মদসহ আটক ২

তিনি আরও বলেন, "সেন্টার মার্টিন নিয়ে ভাবা মানে কারও সাথে শত্রুতা না। বর্তমানে এখন যারা সেন্ট মার্টিন যাচ্ছে সবাই আগ্রাসী পর্যটক। তারা পরিবেশের তোয়াক্কা করছে না। মনে রাখতে হবে আমরা এক সময় দারিদ্র্য পীড়িত জাতি ছিলাম।

তবে এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়েছে অনেক দূর। তাই আমাদের এখন চিন্তাশীল হতে হবে। সংবেদনশীল হতে হবে দেশ ও প্রত্যক জীবের প্রতি। সেন্ট মার্টিনে যাতায়াত সীমিত করা হবে। শর্ত নিয়ে যারা যাবেন, দায়িত্বশীল পর্যটক হতে হবে তাদের।

কোনভাবেই ব্যবসার কারণে পরিবেশ ও প্রতিবেশের বারোটা বাজতে দেওয়া হবে না। আমরা সেন্ট মার্টিনকে প্রাকৃতিক স্বর্গ হিসেবে দেখতে চাই। পাশাপাশি সেন্ট মার্টিন ছাড়া বিকল্প পথও তৈরি করতে হবে।"

আরও পড়ুন : বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠক রোববার

ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এই কর্মশলার আয়োজন করে পরিবেশ অধিদপ্তর ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।

জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুল হামিদ, ইউএনডিপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ইকোনমিস্ট নাজনীন আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম।

এতে বক্তারা বলেন, "পরিবেশ অধিদপ্তর উন্নয়ন ও ট্যুরিজমের বিরোধী নয়। সেন্টার মার্টিন প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা। এখানে অধিকাংশ স্থাপনার পরিবেশের ছাড়পত্র নেই। এখানকার স্থানীয়দের সচেতন হতে হবে।

আরও পড়ুন : ইউক্রেনকে অর্থ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা

সেন্ট মার্টিন ঘিরে রেসপন্সসিবল ট্যুরিজম ডেভেলপ করতে হবে। দক্ষ ট্যুর গাইড তৈরি করতে হবে। আমরা চায় এখানে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন। যাতে টেকসই হয়।"

এর আহে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সৈয়দা মাসুমা খানম। এর আগে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ইকোনমিস্ট নাজনীন আহমেদ ও কক্সবাজারের প্রজেক্ট ম্যানেজার মাহতাবুল হাকিম।

কর্মশালায় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সাঈদ মুহাম্মদ শরীফ, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু তাহের, মুহাম্মদ আলী জিন্নাত, সেন্ট মার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, সাংবাদিক দীপক শর্মা দিপুন ও স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর।

আরও পড়ুন : বিএনপি নেতাকর্মীদের শোডাউন

এসময় কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. গিয়াস উদ্দিন, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান, কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সরওয়ার আলম, উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব আবু জাফর রাশেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুল ইসলাম, টুয়াক সভাপতি আনোয়ার কামাল ও সাধারণ সম্পাদক একেএম মুনীবুর রহমান টিটুসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

সান নিউজ/এইচএন

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা