বিনোদন ডেস্ক : আজ ২ মে। কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ১০১তম জন্মদিন। তিনি আধুনিক বাংলা সংস্কৃতি জগতের এক বিরল প্রতিভা। চলচ্চিত্র পরিচালনায় তার অসাধারণ নৈপুণ্য এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাংলা চলচ্চিত্রে তৈরি করেছিল নতুন মাত্রা।
আরও পড়ুন : করোনায় নতুন শনাক্ত ১০
চলচ্চিত্র নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার, শিল্প নির্দেশক, সংগীত পরিচালক এবং লেখক সত্যজিৎ রায় বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একজন হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
১৯২১ সালের ২ মে কলকাতার বিখ্যাত রায় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সত্যজিৎ রায়। বাবা সুকুমার রায় এবং পিতামহ উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী দুজনেই বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র। বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি থানার মসূয়া গ্রামে তাদের পৈতৃক নিবাস ছিল।
উপমহাদেশের চলচ্চিত্রকে এক অভিন্ন মাত্রা দিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়। ২০০৪ সালে বিবিসির জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি তালিকায় ১৩তম স্থান লাভ করেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন : ২১৯ শিশু ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত
১৯৪৭ সালে সত্যজিৎ রায় ও চিদানন্দ দাসগুপ্ত কলকাতা ফিল্ম সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৪৯ সালে বিজয়া দাসকে বিয়ে করেন তিনি। সত্যজিৎ দম্পতির ঘরে ছেলে সন্দীপ রায়ের জন্ম হয়, যিনি নিজেও বর্তমানে একজন প্রথিতযশা চলচ্চিত্র পরিচালক।
১৯৫২ সালে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস ‘পথের পাঁচালি’ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ কাজ শুরু করেন সত্যজিৎ রায়। ১৯৫৫ সালে ছবিটির নির্মাণ সম্পন্ন হয় এবং সে বছরই ছবিটির মুক্তি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন : ঈদ উপলক্ষ্যে বেড়েছে গোশতের দাম
মুক্তি পাওয়ার পর ছবিটি ব্যাপক দর্শকনন্দিত হয়। এমনকি ভারতবর্ষের বাইরেও ছবিটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ‘পথের পাঁচালী’ মোট ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে।
এর মধ্যে অন্যতম ছিল কান চলচ্চিত্র উৎসবে পাওয়া ‘বেস্ট হিউম্যান ডকুমেন্ট’ পুরস্কার। সত্যজিৎ রায় পরবর্তীতে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প-উপন্যাস অবলম্বনে ‘অপরাজিত’ ও ‘অপুর সংসার’ নামে আরও দুইটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এ তিনটি চলচ্চিত্র একত্রে অপু ট্রিলজি হিসেবেই পরিচিত।
আরও পড়ুন : মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ২৮
সত্যজিৎ রায়ের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে- ‘তিন কন্যা’ (১৯৬১), ‘চারুলতা’ (১৯৬৪), ‘নায়ক’ (১৯৬৬), ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ (১৯৭০), ‘সীমাবদ্ধ’ (১৯৭১) ও ‘জন অরণ্য’ (১৯৭৫) গণশত্রু’ (১৯৮৯), ‘শাখাপ্রশাখা’ (১৯৯০) ও ‘আগন্তুক’ (১৯৯১)।
১৯৭৭ সালে বাংলা চলচ্চিত্রের বাইরে সত্যজিৎ রায় ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ নামের হিন্দি ও উর্দু সংলাপ নির্ভর একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে সত্যজিৎ প্রেমচাঁদের গল্পের ওপর ভিত্তি করে ‘সদ্গতি’ নামের হিন্দি ভাষায় এক ঘণ্টার একটি ছবি বানিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন : বিশ্ব জুড়ে কমেছে মৃত্যু ও আক্রান্ত
সত্যজিৎ রায়ের অমর সৃষ্টি গোয়েন্দা চরিত্র ‘ফেলুদা’ ও ‘প্রফেসর শঙ্কু’। তার তৈরি দুটি মিউজিক্যাল ছবি ‘গুগা বাবা’, ‘হীরক রাজার দেশে’ এখনও বাংলা সিনেমায় দুটি হীরক খন্ড বিশেষ।
১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল এই খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা মৃত্যুবরণ করেন।
সান নিউজ/এইচএন