নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর বাড্ডা থেকে গ্রেফতারকৃত আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)।
রোববার ( ২২ নভেম্বর) ভোর সোয়া ৬টার দিকে তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়। বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি বলেন, ‘গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র, বিদেশী মদ ও বিদেশি মুদ্রা রাখার অভিযোগে ৩ টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ প্রত্যেকটি মামলায় আলাদা আলাদা সাত দিন করে করে রিমান্ড চাইবে।’
এর আগে, গত শুক্রবার ২০ নভেম্বর বাড্ডা এলাকার বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। গ্রেফতারের পর করা ব্রিফিংয়ে বাড্ডার ১১ নম্বর রোডে অবস্থিত ৬ তলা ভবনের সেই বাসা থেকে অস্ত্র, মাদকসহ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও নগদ টাকা জব্দ করার বিষয়টি জানায় র্যাব।
প্রেস বিফ্রিংয়ে রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটের কাপড়ের দোকানের সাধারণ বিক্রয়কর্মী মনিরের গোল্ডেন মনির হয়ে ওঠার গল্প শুনান র্যাবের পরিচালক (আইন ও মিডিয়া) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ। তিনি বলেন, ‘অভিযানকালে মনিরের বাসা থেকে ১০টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা (বাংলাদেশি ৯ লাখ টাকা), ৬০০ ভরি সোনা (প্রায় ৮ কেজি) ও ১ কোটি ৯ লাখ টাকা নগদ জব্দ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অভিযুক্ত গোল্ডেন মনির মূলত একজন হুন্ডি ব্যবসায়ী, স্বর্ণ চোরাকারবারি এবং ভূমির দালাল। তিনি একটি গাড়ির শোরুমের সত্ত্বাধিকারী। পাশাপাশি গাউছিয়াতে একটি স্বর্ণের দোকানের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।’
আমরা তার বাসা থেকে দুটি বিলাসবহুল অনুমোদনহীন বিদেশি গাড়ি জব্দ করেছি। যার একেকটির মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। পাশাপাশি তার কার সিলেকশন থেকেও তিনটি বিলাসবহুল অনুমোদহীন গাড়ি জব্দ করা হয়েছে,’ যোগ করেন আশিক বিল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত মনির ৯০ দশকে গাউছিয়া মার্কেটে কাপড়ের দোকানের বিক্রয়কর্মী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ক্রোকারিজ, লাগেজ ব্যবসা (ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন পণ্য দেশে আনা) এবং এক পর্যায়ে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে তিনি জড়িত। তিনি বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ অবৈধ পথে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন।’
র্যাবের কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মনিরের স্বর্ণ চোরাচালানের রুট ছিল ঢাকা-সিঙ্গাপুর-ভারত। এই সব দেশ থেকে তিনি ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ বাংলাদেশে আমদানি করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে তার নাম হয়ে যায় গোল্ডেন মনির’। স্বর্ণ চোরাচালানের জন্য মনিরের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয় বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘গোল্ডেন মনিরের আরেকটি পরিচয় আছে- ভূমিদস্যু। রাজউকের কতিপয় কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকা শহরের রাজউক প্রজেক্ট, পাশাপাশি বাড্ডা, নিকুঞ্জ, উত্তরা এবং কেরানীগঞ্জে তার দুই শতাধিকের বেশি প্লট আছে বলে জানতে পেরেছে র্যাব’। ইতোমধ্যে মনির ৩০টি প্লটের কথা প্রাথমিকভাবে ল্যাবের কাছে স্বীকার করেছেন বলেও জানান তিনি।
র্যাবের পরিচালক বলেন, ‘মনির রাজউকের কাগজপত্র জাল-জালিয়াতি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত হয়ে যে সম্পদের পরিমাণ, সেটি প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে।’
আমরা প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য দুদক, বিআরটিএ, মানিলন্ডারিংয়ের জন্য সিআইডি এবং ট্যাক্স ফাঁকি বা এ সংক্রান্ত বিষয়ে এনবিআরকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাবে র্যাব যোগ করেন আশিক বিল্লাহ।
সান নিউজ/এসএ