সারাদেশ

ভুক্তভোগীকেই মামলার হুমকি এসআই’র

মো. নাজির হোসেন, মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় গত ২৯ জুলাই প্রতিপক্ষের পিটুনিতে আহত হন ফেরদৌসী বেগম নামে এক নারী। ঘটনার তার মাও আহত হয়েছেন। পরে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করে গত ৬ দিন ধরে ঘুরছেন ভুক্তভোগীরা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মামলা না নিয়ে, থানায় বসে বিচার সালিশ করে দেওয়ার কথা বলছে পুলিশ। থানায় বিচারে না বসলে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের উল্টো মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। এমন অভিযোগ সদর থানার এসআই শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন : ছিনতাইকারীদের গুলিতে ৮ পুলিশ সদস্য আহত

ভুক্তভোগী ফেরদৌসী বেগমের (৪৮) অভিযোগ, সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রতিপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করছে। তাদের মামলা না নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন দিয়ে নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমনকি এসআই শহিদুল ও প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা করার হুমকি দিচ্ছে।

ফেরদৌসী বেগম সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের মানিক মিয়ার স্ত্রী। ফেরদৌসী তার স্বামী-সন্তান সহ তার নানার বাড়িতে থাকেন। গত ৩০ জুলাই এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছিলেন সদর থানার (এসআই) শহিদুল ইসলাম।

আরও পড়ুন : ট্রাকচাপায় প্রাণ গলে সাংবাদিকের

অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সুত্রে জানাযায়, গত বছর অন্যের জমিতে পাট চাষ করে করেন ফেরদৌসী। পাট বিক্রি করে কিছু টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে স্থানীয় সাইদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি পরিবারের অভাব অনটনের কথা বলে ফেরদৌসীদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নেয়। সেই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে গত ২৯ জুলাই অভিযুক্ত সাইদুল ও তার ভাই শহিদুল ফেরদৌসীদের বাড়িতে ঢুকে কাঁঠের চলা দিয়ে বেদম পেটায়।

এসআই শহিদুল ইসলাম

ঘটনার ভুক্তভোগী বলেন, ছোট থেকে ফুলতলা নানিদের বাড়িতে বড় হয়েছি। গ্রামে আমাদের কোন আত্মীয় স্বজন নেই। স্থানীয় সাইদুল ও শহিদুলরা আমাকে বেদধম পিটিয়েছে। মাথা ফাটিয়েছে, আমার মাকেও মারধর করেছে। শরীরে কাপড় খুলে হেনস্থা করছে। থানায় অভিযোগের পর এসআই শহিদুল ইসলাম এসেছিলেন। আমাদের অবস্থা বিবেচনা করে মামলা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। গত কয়েক দিন ধরে থানায় আশা-যাওয়া করছি। পুলিশ এখন আর মামলা নিতে চাচ্ছেনা। বিবাদী পক্ষের থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে এস আই শহিদুল উল্টো আমাদের শাসাচ্ছেন। মামলা না করে, থানায় বিচার করে দিবেন বলছেন।

আরও পড়ুন : স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ, তরুণ গ্রেফতার

গত বৃহস্পতিবার সকালে আমার স্কুল পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে থানায় গিয়েছিলাম, ওসি স্যার মামলা নিতে বলেছিলেন। তবে এসআই শহিদুল মামলা দিতে নিষেধ করেন। আমরা মামলা করলে প্রতিপক্ষ আমাদের নামে মামলা করবে, আমার ছেলেকে এমন ভয় দেখায়। দুপুর পর্যন্ত মামলা করার জন্য এসআই শহিদুলের পেছনে ঘুরেছি। সে বলে আদালতে গিয়ে মামলা করতে। বিচার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ফিরে এসেছি। আল্লাহর কাছে নালিশ করেছি। কয়েকদিন থানায় ঘুরে বুঝেছি আমাদের মত গরীবদের জন্য থানা-পুলিশ-বিচার নেই! টাকার কাছে শহিদুলদের মত পুলিশরা বিচার বিক্রি করে দিয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে সদর থানার এসআই শহিদুল ইসলাম বলেন, ফেরদৌসী বেগমের ছেলে স্কুলে পড়াশোনা করে। ভবিষ্যতে পুলিশ হতে চায়। তাই সে কোন ঝামেলায় জড়াতে চায়না। কারো বিরুদ্ধে মামলা করতে চায়না। থানায় বিচারের কথা বলিনী। মামলারও কোনো ভয়-ভীতি ও দেখাইনি।

আরও পড়ুন : বালিয়াডাঙ্গীতে তেলের ড্রাম চুরি

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আমিনুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী আমার কাছে এসেছিলো। ঘটনার বিবরণ শুনে গত বৃহস্পতিবার এসআই শহিদুলকে ডেকে অভিযোগটি মামলা হিসেবে প্রস্তুত করতে বলেছিলাম। সে কি কারনে করলো না, সেটা জানা নেই। তবে তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন।

সান নিউজ/জেএইচ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা