সারাদেশ

ভোলায় গৃহবধূ হত্যায় বিচার দাবি

ভোলা প্রতিনেধি : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন ঢালচরের চর নিজাম এলাকায় নাজমা নামের এক গৃহবধূকে যৌতুকের দাবিতে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে স্বামী ও শশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলেও একজন ব্যাতীত বাকী আসামিদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। মামলার আসামিরা বাহির থেকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দিচ্ছে। এমনকি ঢালচরের ইউপি চেয়াম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদার বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে নিহতের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে প্রস্তাব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন নিহতের ভাই আবুল হাসেম। এ অবস্থায় ওই গৃহবধূর পরিবার বিষয়টি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

আরও পড়ুন : আন্দোলনে উত্তাল বিএসএমএমইউ

মঙ্গলবার (১২জুন) দুপুরে ভোলা শহরের একটি পত্রিকা অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে এ সকল অভিযোগ করেন নিহতের ভাই মো. আবুল হাসেম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে নিহতের ভাই আরও জানান, গত ছয় বছর আগে তাঁর ছোট বোন নাজমাকে (২৩) চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার ঢালচর ইউনিয়নের চরনিজাম এলাকার বাসিন্দা মো. আলম বেপারীর ছেলে মো. সবুজ বেপারীর(৩০) কাছে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ দেওয়া হয়। বিয়ে দেওয়ার সময় তার বোন নাজমার শ্বশুর-শ্বাশুড়ির চাহিদা অনুযায়ী স্বামী মো. সবুজকে ব্যবসা করার জন্য নগদ এক লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার এবং আসবার পত্র বাবদ দুই লাখ বিশ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বিবাহের পর তাদের সংসার ভালোভাবেই চলে আসছে। বিবাহের দেড় বছর পরে তাদের সংসারে মেয়ে সন্তান মোসা. সুমাইয়া নামের একজন কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করেন। সুমাইয়ার জন্মের পর স্বামী সবুজ নাজমার কাছে আবারও তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। কিন্তু গৃহবধূ নাজমা পরিবারের অস্বচ্ছলতার কথা চিন্তা করে তাদের দাবিকৃত যৌতুক এনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাজমার স্বামী সবুজ, শ্বাশুড়ী নুরজাহান বেগম, ভাসুর মো. সোহেল ও শ্বশুর আলম বেপারী নাজমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে।

আরও পড়ুন : কঙ্গোতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৪৫

নিহতের ভাই আবুল হাসেম আরও জানান, নির্যাতনের অংশ হিসেবে গত ৫ জুন দিবাগত রাতে তার বোন নাজমাকে স্বামী মো. সবুজ, শ্বাশুড়ী নুরজাহান বেগম, ভাসুর মো. সোহেল ও শ্বশুর আলম বেপারীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনের সহায়তায় মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন ও ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ আম গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে। গত মে মাসেও তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পাওয়ায় সেটি করতে পারেনি। বোনের মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা লোকজনসহ বিচ্ছিন্ন চর নিজামে গিয়ে বোনকে আমগাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরবর্তীতে থানা পুলিশের সহায়তায় লাশ মাটিতে নামানোর পর তার বোনের মাথার বাম পাশে কানের ওপরের অংশে একটি ও মাথার পিছনে একটি সর্বমোট দুইটি ধারালো দায়ের কোপে গুরুতর কাটা জখম দেখতে পান। এর থেকে ধারণা করছেন, তার বোনকে মধ্যযুগীয় কায়দা নির্যাতন, মারধর ও কুপিয়ে রক্তাক্ত করে মারা হয়েছে। এ ঘটনাকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে গলায় রশি দিয়ে আমগাছের ঝুলিয়ে রেখেছে স্বামী ও শশুর বাড়ির লোকজন। এঘটনায় নাজমার স্বামী সবুজসহ অন্য আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ শ্বাশুড়ী নুরজাহান বেগমকে আটক করে। কিন্তু বাকী আসামিরা এখনো পলাতক রয়েছে। পলাতক আসামিরা বিভিন্নভাবে তাদেরকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে। এমনকি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদারও বিভিন্ন লোক পাঠিয়ে মিমাংসার প্রস্তাব নিয়ে মামলা তুলে নিতে তাদের কাছে লোক পাঠিয়েছেন। তারা প্রশাসনের কাছে পলাতক আসামিদেরকে দ্রুত গ্রেফতার এবং বিচারের মাধ্যমে নাজমা হত্যার আসামমিদের ফাঁসি দাবি করেন।

এ বিষয়ে ঢালচর ইউনিয়ন পরিষরেদ চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সালাম হাওলাদার জানান, নিহতের পরিবারের কাউকে তিনি চিনেন না। তিনি কখনো তাদের কাউকে দেখননি ও ফোনেও কথা হয়নি কারো সাথে। আর এটি একটি মার্ডার মামলা এটি উচ্চ আদালতের বিষয়। এখানে ইউপি চেয়ারম্যানের মিমাংসা তো দুরের কথা কথা বলারও কোনো এখতিয়ার নেই।

আরও পড়ুন : দেশে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে

চরফ্যশনের দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় গৃহবধূ নাজমার শাশুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

সান নিউজ/এমআর

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা