সারাদেশ

মুন্সীগঞ্জে একদিনে কোটি টাকার মরিচ বিক্রি

মো. নাজির হোসেন, মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দিঘীরপাড় বাজারে প্রতি শুক্রবারের হাটে এক কোটি টাকার বেশি মরিচ বিক্রি হয়। এছাড়া প্রতি সোমবারও এখানে হাট বসে। তবে শুক্রবারই বেচা-কিনি বেশী হয়। সোমবার হয় ৬০ লাখ টাকার মতো মরিচ বিক্রি। প্রতি হাটে এক হাজার মনের চেয়ে বেশি মরিচ বিক্রি হয়। মুন্সীগঞ্জ ছাড়াও ঢাকা, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা এই বাজার হতে মরিচ কিনে নিয়ে যান।

আরও পড়ুন : ৩ মাস পরেই মতিঝিলে মেট্রোরেলের যাত্রা!

পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত এই হাটটিতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, চাদঁপুরের চাষিরা মরিচ নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য। এই মরিচ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ওই বাজারে গড়ে উঠছে অর্ধশতাধিক আড়ত। ওই আড়ত গুলো প্রতি শুক্র ও সোমবার এলেই মরিচ কেনা বেচাঁর হাকডাকে মুখরিত হয়ে উঠে। প্রতিহাটে এ বছর ১ হাজার মনের বেশি মরিচ বিক্রি হয়ে থাকে।

শত বছরের অধিক পুরানো ঐতিহ্যবাহী এই হাটটি কয়েকবার পদ্মায় বিলীনের পরও পদ্মার পারেই পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : টর্নেডোর তাণ্ডব, নিহত বেড়ে ৩২

এই হাটের পাশের মুন্সীগঞ্জ, শরিয়তপুর, মাদারীপুর, চাদঁপুর অঞ্চলের পদ্মার চরাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক আকারে মরিচ চাষ হয়। মরিচের ফলন এ সমস্ত চরে ভালো হলেও এ বছর শীত মৌসুমী একেবারে বৃষ্টি না হওয়ায় উৎপাদন অনেক কম হয়েছে বলে জানালেন মরিচ চাষিরা। তাছাড়া শীতকালে কাঁচা মরিচের দাম বৃদ্ধি থাকায় অনেক চাষী কাঁচা মরিচ জমি থেকে তুলে বিক্রি করে ফেলেছেন তাই এই মৌসুমে পাকা মরিচ জমিতে কম পাচ্ছেন কৃষক।

তবে মরিচের উৎপাদন কম হওয়ায় দাম অন্যান্য বছরে তুলনায় অনেক বেশি। গেলো শুক্রবার সরেজমিনে ওই হাটে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতা বিক্রেতার হাকডাকে মুখরিত হয়ে উঠেছে হাটটি। প্রতি কেজি শুকনা মরিচ ২৫০ হতে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন : ফের তেলের উৎপাদন কমানোর ঘোষণা

উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামের মরিচ চাষী আলী আহমেদ বলেন, এক কানি (১৬০ শতাংশ) জমিতে মরিচ লাগাইছি। ৪০ মনের মতো মরিচ অইবো। কিন্তু ভালো ফলন হইলে ৭০ মনের উপরে হইতো। এবার মরিচ ভালো হয় নাই। কয়েক দিন আগে শিলা বৃষ্টিতে অনেক মরিচ নষ্ট করে ফেলছে।

অপর চাষি জিয়া শিকদার বলেন, এবার মরিচ হইছে কম। তাবে দাম বেশ ভালো। ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি।

আরও পড়ুন : অজ্ঞাত বিমান ভূপাতিত করল ইসরায়েল

শরীয়তপুরের চর আতরা গ্রামের চাষী মো. শুকুর আলী মাঝি বলেন, এ বছর বর্ষার শেষ সময় বন্যা হয়েছে। মরিচ বিলম্ব রোপন করতে হয়েছে। যার কারণে ফলন কম হয়েছে। কুয়াশার নষ্ট হয়েছে। শীতকালে সারা বছর বৃষ্টিপাত হয়নি তাই ফলন কম হইছে। এবছর আমার ৮০ শতাংশ জমিতে ২০ মন হবে। গত বছর ৪০ মন হয়েছিল।

দিঘীরপাড় বাজারের ব্যবসায়ী আনিছ হালদার বলেন, এবার শীত মৌসুমে কাঁচামরিচের দাম বেশি ছিল। তাই কৃষক কাচা মরিচ জমি হতে তুলে বিক্রি করে ফেলেছে। তাই জমিতে পাকা মরিচের সংখ্যা কমেছে। আর মরিচ কম থাকায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও পড়ুন : টর্নেডোর তাণ্ডব, নিহত বেড়ে ৩২

ওই হাটের আড়তদার মোল্লা এন্টারপ্রাইজের মালিক শামসুল ইসলাম বলেন, প্রতি হাটে আমার আড়তে প্রায় দশ লক্ষ টাকার মরিচ বিক্রি হয়। শুক্রবার ও সোমবার হাট বসে। তিনি আরো বলেন, এ বছর প্রতি হাটে আমার আরতে ৭০-৮০ মন মরিচ আসে। অন্যান্য বছর এ সময় ১০০ থেকে ১৫০ মন মরিচ আমার আড়তে বিক্রি হতো। কারন এ বছর উৎপাদনে অনেক কম হয়েছে যদিও দাম কিছুটা বেশি।

বাজারের অপর ব্যবসায়ী অনিক হাওলাদার বলেন, আমাদের এ বাজারে প্রায় ৫০ টি মরিচের আড়ত রয়েছে। প্রতি হাটে এই সমস্ত আড়ত গুলোতে এক কোটি টাকার বেশি মরিচ বিক্রি হয়।

আরও পড়ুন : টর্নেডোর তাণ্ডব, নিহত বেড়ে ৩২

বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিজুল মোল্লা বলেন, এ হাটে অন্যান্য বছর প্রতি হাটে তিন থেকে চার কোটি টাকার মরিচ বিক্রি হতো । এবার মরিচের উৎপাদন কম। তাই কোন হাটে এক কোটি কোন হাটে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার মরিচ বিক্রি হয়।

তিনি আরও বলেন, এই বাজারে মরিচের আড়ত গুলোতে আশেপাশের বিভিন্ন জেলার ৮ টি উপজেলা থেকে এই সমস্ত মরিচ এসে থাকে।

সান নিউজ/এমআর

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা