ছবি : সংগৃহিত
সারাদেশ
রাবি শিক্ষার্থীদের সাথে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৭ প্লাটুন বিজিবি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে রাবি সংলগ্ন বিনোদপুর বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এসময় অন্তত ২৫-৩০টি দোকানে অগ্নিসংযোগ করেন। এ ঘটনায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন : ক্যাম্পাসে ফিরেছে শিক্ষার্থীরা, আহত ২ শতাধিক

শনিবার (১১ মার্চ) রাত ১০টার পরও সংঘর্ষ চলে। চার ঘণ্টা পার হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সাত প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বিজিবি সদস্যরা বিনোদপুর বাজারে অবস্থান নিয়েছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এদিকে সংঘর্ষের পর সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছে। রোববার (১২ মার্চ) ও সোমবার (১৩ মার্চ) এই দুদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে, বগুড়া থেকে ‘মোহাম্মদ’ নামের একটি বাসে রাজশাহী যাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী। বাসের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে চালক শরিফুল ও তার সহযোগী রিপনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় ওই শিক্ষার্থীর।

আরও পড়ুন : রাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিনোদপুর বাজারে বাস থেকে নামার সময় তাদের আবারও কথা কাটাকাটি হয়। এসময় বিনোদপুর বাজারের একজন ব্যবসায়ী বাসচালকের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন। তখন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাতাহাতি হয় তার।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সংবাদ পেয়ে সেখানে যান। এসময় ব্যবসায়ীরা তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। ধাওয়া দিয়ে তাকে ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এতেই বড় হয়ে যায় ঘটনাটি।

খবর পেয়ে আবাসিক হল থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীরা বিনোদপুর গেটের পাশে অবস্থান নেন। আর ব্যবসায়ীরা অবস্থান নেন রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে বিনোদপুর বাজারে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে আহত হন অনেক শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন : প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ১২ মার্চ

ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আহত হন অন্তত ১০ জন। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৬ জন আহতকে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সন্ধ্যার পরই ঘটনাস্থলে যান বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য। রাত ৮টার দিকে বিনোদপুর গেটের পাশে থাকা পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়।

এছাড়া বিনোদপুর বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানেও ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুন। মুহূর্তেই বিনোদপুর বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।

আরও পড়ুন : জিপিএ-৫ পেয়েছে আরও ৩১৫ জন

ওই সময় অন্ধকারের ভেতর বিনোদপুর বাজার থেকে ক্যাম্পাসের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে বিনোদপুর বাজারের দিকে পেট্রল বোমা উড়ে আসতে দেখা যায়। ক্যাম্পাসের আবাসিক হলগুলো থেকে বের হয়ে আসা সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও হাতে লাঠিসোটা এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়।

পুলিশ এই পরিস্থিতিতে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে বিনোদপুর বাজারের সামনে দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সিটি মেয়র এ এইচ এম খাইরুজ্জামান লিটন বিনোদপুর বাজারে যান। তিনি দুই পক্ষকেই শান্ত হতে বলেন। কিন্তু এতে পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।

আরও পড়ুন : ফেল থেকে পাস ২৪ শিক্ষার্থী

এরপর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসার পর রাত ৯টা ৫ মিনিটে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে প্রশাসন। লাঠিপেটা ও ধাওয়া দিয়ে বিনোদপুর বাজার থেকে ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

রাজশাহী নগর পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম এবং র‍্যাবের সদস্যরা এ অভিযানে অংশ নেন। দাঙ্গা দমনের কাজে ব্যবহৃত পুলিশের একটি এপিসি গাড়ি দিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে দেখা যায়। তারপরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি এসে দোকানের আগুন নেভায়।

রাত সাড়ে ১০টায় পরিস্থিতি আরও উত্তাল হয়ে ওঠে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বাইরে বের হয়ে মহাসড়কে চলে যান। তারা আবারও দোকানপাটে আগুন দিতে শুরু করেন। এসময় পুলিশ টিয়ার সেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

আরও পড়ুন : মানিকছড়িতে শিক্ষকদের মানববন্ধন

সাংবাদিকদের শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে ব্যবসায়ীরা শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরাতে সাহস পেয়েছে। এই ঘটনায় তারা বিচার চান।

ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে বিনোদপুর বাজার বণিক সমিতির উপদেষ্টা আবদুল আজিজ বলেন, শিক্ষার্থীরা প্রথমে ইমরান নামের এক ব্যক্তির দোকানে ঢুকিয়ে বাসচালক ও হেলপারকে মারধর করছিলেন। তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করায় তারা ব্যবসায়ীদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। এই ঘটনায় ব্যবসায়ীদের কোনো দোষ নেই।

রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ভেতরে হাতাহাতি হয়। প্রথমে তাদের মীমাংসা করে দেওয়া হয়। এরপর তারা জড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষে।

আরও পড়ুন : মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবি

বিজিবির রাজশাহীর ১ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাব্বির আহমেদ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র‍্যাবের পাশাপাশি সাত প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পরিস্থিতি বুঝে তারা দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান তিনি।

সান নিউজ/এইচএন

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা