সারাদেশ

বালাসী-বাহাদুরাবাদ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

এস এম শাহাদৎ হোসাইন, গাইবান্ধা : ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্যতা সংকটের ফলে গাইবান্ধার বালাসী-বাহাদুরাবাদ নৌরুটে দেড় মাস ধরে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ছোট ছোট নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা পার হচ্ছে। এসব ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ভাড়া নেওয়া হচ্ছে অনেক বেশি।

আরও পড়ুন: একাত্তরের পরাজিতরা ফের সক্রিয় হচ্ছে

দীর্ঘ ২২ বছর পর চলতি বছর বালাসী-বাহাদুরাবাদ নৌ রুটে লঞ্চ সার্ভিস চালু করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডবিউটিএ)। গত ৯ এপ্রিল লঞ্চ সার্ভিস উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এ জন্য উভয় পাশে ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নৌ টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। গাইবান্ধাবাসীর বহু প্রত্যাশিত লঞ্চ সার্ভিস উদ্বোধন করা হলেও তা কাজে আসছে না।

গাইবান্ধা বালাসী-বাহাদুরাবাদ লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফ মিয়া বলেন, উদ্বোধনের পর থেকে প্রতিদিন বালাসী ঘাট থেকে তিনটি লঞ্চ চলাচল করত। জনপ্রতি ভাড়া ছিল ১২০ টাকা। প্রতিটি লঞ্চ ১৫০-২৫০ আসনবিশিষ্ট। যেতে সময় লাগত পৌনে দুই ঘণ্টা ও আসতে লাগত আড়াই ঘণ্টা। কিন্তু নাব্যতা সংকটের কারণে নিয়মিত লঞ্চ চালানো যাচ্ছে না। লঞ্চ নিয়মিত চালাতে বিআইডবিউটিএ কর্তৃপক্ষের কাছে ড্রেজার চাওয়া হয়েছে। ড্রেজিং ছাড়া এ রুটে লঞ্চ চালানো সম্ভব নয়। এসব নৌকায় যাত্রীপ্রতি ৩০০-৩৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। আগে ২০০ থেকে ২২০ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো। নদীতে কয়েকটি ছোট নৌকায় যাত্রী পারাপার করছে। শ্যালো ইঞ্জিনচালিত প্রতিটি নৌকায় ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে। নৌকার উপরে ছাউনি নেই। নেই নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। বালুচর জেগে উঠায় কর্তৃপক্ষ মূল ঘাট থেকে দূরে ঘাট স্থাপন করেছে। যাত্রীরা ঘাটে পৌঁছাতে ঘোড়ার গাড়িতে যাচ্ছে। শ্যালো ইঞ্জিনচালিত প্রতিটি নৌকায় ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ঘাটের লোকজনের সঙ্গে কথা জানা যায়, প্রতিদিন ছোট-বড় ১৫-২০টি নৌকায় যাত্রী পারাপার চলছে। বালাসী থেকে বাহাদুরাবাদ যেতে এসব নৌকায় যাত্রীপ্রতি ৩০০-৩৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। আগে ২০০ থেকে ২২০ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো। বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে পার হচ্ছে যাত্রীরা।

যাত্রী মুরাদ মিয়া বলেন, বেশি ভাড়া নেওয়া হলেও নৌকায় যাত্রীসুবিধা নেই। নেই যাত্রী ছাউনি কিংবা ছাতার ব্যবস্থা। রোদে পুড়ে যেতে হয়। এতে শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে নিরাপত্তামূলক কোনো ব্যবস্থা নেই।

আরও পড়ুন: কঙ্গোতে বন্যা-ভূমিধসে নিহত ১২০

আনিছুর রহমান নামের এক যাত্রী বলেন, স্ত্রী ও তিন বছরের সন্তানসহ ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় যাতায়াত করছেন। কয়েক মাস আগে বালাসী ঘাট থেকে লঞ্চ চলাচল করেছে।ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্যতা সংকটের ফলে জেগে উঠা চরে আটকে আছে লঞ্চ।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালি গ্রামের ফরিদ উদ্দিন বলেন, লঞ্চ চালু থাকলে ভোগান্তি ও খরচ কম হয়। লঞ্চ বন্ধ হওয়ায় যেমন ভোগান্তি বাড়ছে, তেমনি খরচও বাড়ছে। প্রত্যেক যাত্রীকে অতিরিক্ত ১৫০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। সঙ্গে ব্যাগ বা মোটরসাইকেল থাকলে আরও অতিরিক্ত ৫০ টাকা দিয়ে পার হতে হচ্ছে। বালাসী ঘাটের ইজারাদার বাদল মিয়া অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় নৌকায় যাত্রীরা গাদাগাদি করে পার হচ্ছে।

সান নিউজ/এমআর

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা