জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
সারাদেশ

জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরে সার্বিক বন্যা পরিস্থিত উন্নতি হয়েছে। জেলার ৫টি উপজেলার নিন্মাঞ্চলের যেসব এলাকা বন্যা কবলিত হয়েছিল যেসব এলাকার তলিয়ে যাওয়া রাস্তাঘাট বাড়িঘর থেকে পানি নেমে জেগে উঠেছে।

আরও পড়ুন : বাঙালি আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে

গত ২৪ ঘন্টায় যমুনার পানি ৩৭ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানিও কমতে শুরু করেছে জানালেন জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাঈদ ।

পানি কমার সাথে সাথে দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে মানুষজন বাড়ি ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে পানি কমলেও কমেনি দুর্ভোগ। বন্যায় বিধস্ত বাড়িঘর সংস্কারে ব্যস্ত সময় কাটছে।

বন্যা দুর্গত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ত্রাণ বিতরণের খবর পেলেই ছুটে আসছেন বানভাসী মানুষেরা। তবে সরকারী বরাদ্ধ চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। ফলে ত্রান না পেয়ে অনেককেই খালি হাতে বাড়ি ফিরছে। বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষজনের।

আরও পড়ুন : পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধন

বন্যা দুর্গত এলাকায় খাদ্য সংকট এখনো কাটেনি। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য সংকট। কর্মহীন মানুষজন একবেলা আধপেট কেউ কেউ না খেয়ে দিন পার করছে।

ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শি ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ গ্রামের ইদ্রিস আলী বলেন, “বানের পানি নামলেও ঘর থেকে পানি হরেনি। এহনও গরু ছাগল বউ পোনাই নিয়ে রাস্তায় আছি। ঘরের ভেতর থাইক্যা এহনও পানি নাই। বান শুরু হওয়ার পর থাইক্যা কামই উজগার নাই, আমগো নোক নাই তাই ইলিফ পাইনা। ইলিফ নিতে গেল সিলিপ চায় মেম্বর চেরম্যান। সিলিপ কই পামো। বউ পুনাই নিয়্যা খুব অসুবিতাত আছি। ইদ্রিস আলীর মতো সাবান আলি, মুছা মিয়া,আব্দুল, রহিম শেখ ও ফজল মিয়া সহ বানভাসী সকলের একই অবস্থ্যা।”

আরও পড়ুন : অপমানের প্রতিশোধ নিয়েছি

বনভাসী মানুষজনের দাবি, মেম্বার চেয়ারম্যানরা মুখ দেখে দেখে নিজস্ব লোকজনের নাম ত্রানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। যাদের জানাশুনা নাই তাদের তালিকায় নাম উঠেনা। উপজেলা প্রশাসনের লোকজন সরিজমিনে গিয়ে দেখে দেখে ত্রান বিতরন করলে বন্যা কবলিতরা সঠিক ত্রান পাবে। তারা বিশুদ্ধ পানি,শুকনো খাবারের দাবি জানান। বন্যা কবলিত এলাকায দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ।

জেলা প্রশাসন সুত্র জানায়, জেলার ৫টি উপজেলার ৩২ ইউনিয়নের ১৫৫টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছিল। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৭০১টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্থ্য মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার।

আরও পড়ুন : জ্বালায়-জ্বালায় মরছে তারা

বন্যায় ইসলামপুর এবং দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। উপজেলার আমনের বীজতলা, আউশ, সবজি, মরিচ, পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. জাকিয়া সুলতানা জানিয়েছে, জেলার প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এরমধ্যে সবজি,মরিচ সম্পুর্ণ এবং পাট ২০ শতাংশ নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয় ক্ষতির সার্বিক চিত্র জানাতে পারবো।

আরও পড়ুন : আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জয়জয়কার

জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, বন্যাদুর্গতদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি ত্রাণ সহায়তা হিসেবে ৪৭০ মেট্রিক টন চাল, নগদ সাত লাখ টাকা ও চার হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমরা মনিটরিং করছি যাতে দুর্গত এলাকাগুলোতে সঠিকভাবে ত্রান তৎপরতা অব্যহত থাকে। পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে বন্যা পুনর্বাসন কাজ শুরু করবো।

সান নিউজ/এইচএন

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা