সারাদেশ

ভাগ্য খুলছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের

মো. আল আমিন শাওন, শরীয়তপুর: জুনের শেষ দিকে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। আর এই পদ্মা সেতুর কারণে ভাগ্যের দুয়ার খুলছে শরীয়তপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার। এসব জেলার সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের দুয়ার খুলে দিয়েছে স্বপ্নের এই সেতু। এ অঞ্চলের প্রায় ৭ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি এখন বাস্তবায়ন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আরও পড়ুন: ইউএনও-ওসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

শরীয়তপুরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে গোটা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের নতুনমাত্রা যোগ হল। ইতিমধ্যেই পর্যটন কেন্দ্রে রুপ নিয়েছে সেতুর দুইপাড়। শরীয়তপুর প্রান্তের জাজিরায় গড়ে উঠছে রেষ্টুরেন্ট, রিসোর্ট, হোটেল, মোটেলসহ বিলাশবহুল বিভিন্ন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে গিয়ে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্ম সেতুর সেতুর কারণেই এক সময়ের অবহেলিত সোনালী শ্যামল ভূমি শরীয়তপুর এখন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে। চলছে মহাকর্মযজ্ঞ। পদ্মা পাড়ে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবার বিশাল মুক্ত চরাঞ্চলে গড়ে উঠছে বিশ্বমানে রেষ্টুরেন্ট, রিসোর্ট, হোটেল, মোটেলসহ বিলাস বহুল নানা প্রতিষ্ঠান। গড়ে ওঠার সম্ভাবনার তালিকায় বিমান বন্দরও রয়েছে বলে জানিয়েছেন অনেকেই।

আরও পড়ুন: মসজিদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

পদ্মা সেতুর ল্যান্ডিং পয়েন্ট জাজিরার নাওডোবাতে শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী প্রতিষ্ঠার কাজও চলমান রয়েছে। দেশের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান এসব এলাকায় বিনিয়োগ করছে। নতুন নতুন উদ্যাক্তারাও স্বপ্ন বুনছে। বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় ভরে যাবে এ এলাকা। শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে। সর্বক্ষেত্রে ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে আশা পদ্মা পাড়ের মানুষের। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত শরীয়তপুর জেলা গত ২১ বছর ছিল একটি অনুন্নত অবহেলিত জনপদ।

মাত্র অর্ধ কিলোমিটার পাকা সড়কে শরীয়তপুর জেলা। তিন দিকেই নদী বেষ্টিত এ জেলার মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম ছিল নৌকা ও লঞ্চ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই উন্নয়নের পথে হাঁটে শরীয়তপুর। এছাড়াও ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই দক্ষিণাঞ্চলসহ শরীয়তপুরে উন্নয়নের মহাকর্মযজ্ঞ। তারই ধারাবাহিকতায় নানা ষড়যন্ত্র চড়াই উৎরাই পার করে জুনের শেষ দিকে (সম্ভাব্য তারিখ আগামী ২৫ জুন) পদ্মাসেতু চলাচলেল জন্য খুলে দেয়া হবে। পদ্মা সেতু থেকে শরীয়তপুর পর্যন্ত ফোর লেন সড়ক এবং মনোহর বাজার থেকে আলুরবাজার ফেরীঘাট পর্যন্ত ফোর লেন সড়ক। শরীয়তপুরে শেখ হাসিনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন হয়েছে। ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে শরীয়তপুরে।

আরও পড়ুন: স্বামীকে নায়ক বানাতে চান মাহি

এদিকে, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে এখন চলছে কর্মযজ্ঞ। আমরা সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। সবকিছু ঠিক থাকলে ২৫ জুন পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

শনিবার (২১ মে) বিকেলে শরীয়তপুরে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রীপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা দিয়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছে পদ্মাসেতু। আগামী মাসের শেষ সপ্তাহের আগে আমরা পদ্মাসেতু খুলে দেব। পদ্মাসেতুর জন্য শরীয়তপুরের পদ্মাপাড়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ত্যাগ ও সহযোগিতা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা ও কঠোর নির্দেশনার কারণে শত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আমরা সৎভাবে পদ্মাসেতু করতে পরেছি। পদ্মাসেতুর কাজ করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রতি বিশ্বাস রেখে ব্যাঙ্ক চেক প্রদান করেছেন। যে কারণে আমরা কোন সময় ক্ষেপণ না করে দ্রুত কাজ সমাপ্ত করতে পেরেছি।

আরও পড়ুন: পাট ক্ষেতে নিয়ে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ

এ ব্যাপারে জাজিরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক আলী সিকদার বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের ভাগ্যের দুয়ার খুলে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণেই পদ্মাপাড় জাজিরা এখন আধুনিক বিশ্বমানের শহরে রুপান্তারিত হওয়ার পথে। আমরা জাজিরা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ।

এ ব্যাপারে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে শুধু শরীয়তপুর, দক্ষিণাঞ্চলই নয় বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। এক পদ্মাসেতুর ওপর ভিত্তি করে এসব এলাকায় চলছে উন্নয়নের বিশাল মহাকর্মযজ্ঞ। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শরীয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চল হবে বিশ্বে মডেল।

আরও পড়ুন: দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

এ বাপারে শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন অপু বলেন, শরীয়তপুর সদর ও জাজিরাতেও চলছে উন্নয়নমূলক মহাকর্মযজ্ঞ। বর্তমান সরকারের আমলেই অবহেলিত জেলা শহরসহ জাজিরাতে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। পদ্মা সেতুর সঙ্গে শরীয়তপুরবাসীর সড়ক পথে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৬শ’ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিস হতে কাজিরহাট পর্যন্ত ফোরলেন সড়ক নির্মাণ, কাজিরহাট ব্রিজের ও কোটাপাড়া নদীর ওপর ব্রিজের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শরীয়তপুর জেলা শহরে ২শ’ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণকাজ চলমান আছে। এই জেলায় প্রথম শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরঙ্গীর মোড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৃষ্টিনন্দন ম্যুরাল নির্মিত হয়েছে। পদ্মার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল শরীয়তপুরের জাজিরার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের পাইনপাড়া এলাকায় পদ্মার মাঝের চরে হাজারো পরিবারকে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। এই সেতুর কারণে আমরা সবদিক থেকেই এগিয়ে যাচ্ছি। এ জন্য শরীয়তপুরবাসীর পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

সান নিউজ/এমকেএইচ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা