সারাদেশ

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড ঠাকুরগাঁও

বদরুল ইসলাম বিপ্লব, ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ে মধ্যরাতে হঠাৎ কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়েছে ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন ফসল। এছাড় লণ্ডভণ্ড হয়েছে সদর, রানীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর, পীরগঞ্জ উপজেলার শতাধিক গ্রাম। এ ঝড়-বৃষ্টিতে আম, ধান, ভুট্টাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে সঙ্গে আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিক।

আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে মসজিদে বিস্ফোরণ, নিহত ৫০

শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা থেকে শুরু হয় কালবৈশাখীর তাণ্ডব। প্রায় এক ঘণ্টার দমকা ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টির সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিতে জেলায় ফসলের ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ঝড় থামার পর শহর ও শহরের পার্শ্ববর্তী গ্রাম রোড আকচা, শামস নগর ঘুরে দেখা যায়, ঘণ্টাব্যাপী এ ঝড়ে সড়কে সড়কে উপড়ে পড়ে আছে গাছ। এসব গাছ সরাতে রাতেই মাঠে নামে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সাধারণ মানুষ।

জানা যায়, বৃষ্টির পরিমাণ কম হলেও ঘূর্ণিঝড় বাতাসের বেগ বেশি ছিল। কোথাও কোথাও ভারী বজ্রপাতও হয়েছে। অনেক মানুষের থাকার একমাত্র স্থাপনার সবকিছু বাতাসে উড়ে গেছে। ঝড়ে ভেঙে পড়েছে কাঁচা-পাকা ঘর। উড়ে গেছে ঘরের চালা। উপড়ে পড়েছে হাজার হাজার গাছ। ভেঙে পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। আর পাঁচ উপজেলায় ঝড়ে ঘরের দেয়ালচাপা পড়ে, গাছের ডাল পড়ে, প্রাচীরের ইট পড়ে বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। দুই শতাধিক গবাদি পশু আহত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে গিয়ে হারিয়ে গেছে। ধান, ভুট্টা ও কলার উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

রাণীশংকৈল উপজেলার রাতোর গ্রামের রমজান আলী বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে আমরা চারপাশে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। ঘরের টিনের চালাগুলো উড়ে চলে গেছে। যেটুকু আবাদ করেছিলাম, সে স্বপ্ন নষ্ট হয়ে গেল। এখন কীভাবে এ ধাক্কা কাটিয়ে উঠব তা বুঝে উঠতে পারছি না।

সদর উপজেলার হাজিপাড়া মহল্লার আসাদুল ইসলাম বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে গ্রামের মানুষের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি এবারে আমরাও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমাদের অনেকগুলো প্রাচীর ভেঙে পড়ে গেছে ৷ অনেক ঘরের ওপরে গাছ পড়ে গেছে। কয়েক মিনিটের অপ্রত্যাশিত ঝড়ে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সরকারের উচিত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভর্তুকি দেওয়া।

আরও পড়ুন: ঢেউয়ের ধাক্কায় ডুবলো স্পিডবোট

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের আল মামুন বলেন, এমন ক্ষয়ক্ষতি হওয়া কালবৈশাখী ঝড় খুব কম দেখেছি। এর আগে একটা এলাকা বা কয়েকটা এলাকাকে কেন্দ্র করে হতো। এবারে পুরো জেলাজুড়ে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ফরহাদ হোসেন জানান, শহরের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় গাছ ভেঙে ও বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে গেছে। রাত ১২টার পর থেকে ঝড়ে বিভিন্ন জায়গায় বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত (দুপুর দেড়টা পর্যন্ত) অর্থাৎ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ আছে। শহরে চারটি স্থানে বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। বহু গাছ ভেঙে পড়েছে। এগুলো সরানো হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হোসেন বলেন, ঝড়ের কারণে আম-লিচু বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। কৃষির সব মৌসুমী ফসলের ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।

সাননিউজ/এমআরএস

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা