সারাদেশ

নীলফামারীতে প্রতিদিন দেড় কোটি টাকার মরিচ বিক্রি

আমিরুল হক, নীলফামারী : মরিচের জন্য বিখ্যাত নীলফামারীর ডোমার উপজেলার পাগলীমার হাট। প্রতিদিন ভোর থেকে হাটে হাকডাক শুরু হয়ে চলে বিকেল পর্যন্ত। এই হাটে প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ হাজার মণ মরিচ বিক্রি হয়। সেই হিসেব করলে এখানে গড়ে প্রতিদিন এক থেকে দেড় কোটি টাকার মরিচ বেচাকেনা হয়।

আরও পড়ুন: সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলেসহ নিহত ৩

উপজেলার পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নের মুছার মোড় এলাকায় পাগলীমার হাটের অবস্থান। মরিচের এই হাটে ডোমার, ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শত শত মরিচচাষি ও ব্যবসায়ী আসেন। শুধু মরিচ ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠা পাগলীমার হাটে রয়েছে অর্ধশত আড়ত। দূর-দূরান্তের ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগোনায় এসব আড়ত সবসময় সরগরম থাকে।

নীলফামারীসহ আশপাশের জেলার উৎপাদিত মরিচের মান ভালো হওয়ায় এই হাটের কদর একটু বেশি। গেল ১৪ থেকে ১৫ বছর কেনাবেচাও বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকাররা এই হাটে আসাতে খুশি স্থানীয় মরিচচাষি ও ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, দিন দিন মরিচের উৎপাদনের সঙ্গে বেড়েছে চাহিদা। ভরা মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে ৭০ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকার মরিচ বিক্রি হয়ে থাকে।

হাটে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতার হাকডাকে মুখর হাট। কেউ মরিচ বস্তাবন্দি করছেন, কেউ আবার টাকা গুনছেন। এখানে বিন্দু মরিচ, সাপ্লাই মরিচ, ডেমা মরিচ, ডেমা হাইব্রিড মরিচ, জিরা মরিচসহ দেশি মরিচ পাওয়া যায়। তবে প্রকারভেদে এসব মরিচ প্রতি মণ ১৩০০-১৭০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তবে কোনো কোনো দিন আমদানির তুলনায় চাহিদা বেশি হলে দাম একটু বেশি থাকে।

ঘুরতে ঘুরতে হাটে কয়েকজন চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মরিচের ফলন বাম্পার হলেও কিছু পোকার আক্রমণে চিন্তিত চাষিরা। কৃষি অফিস থেকে কোনো ধরনের পরামর্শ না মেলায় স্থানীয় বাজার থেকে কিটনাশক কিনে মরিচ খেতে স্প্রে করছেন। তবে দাম ভালো ও মরিচের চাহিদা থাকায় অধিক মুনাফার স্বপ্ন দেখছেন তারা।

আড়তদার সমিতির সভাপতি এনতাজুল হক বলেন, পাগলীমার হাটে মরিচের মৌসুমে প্রতিদিন হাট বসে। দিনে ৮ থেকে ১০ হাজার মণ মরিচ কেনাবেচা হয়। এখানকার মরিচ সিরাজগঞ্জ, পাবনা, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। এই হাটটি উত্তরাঞ্চলে মরিচের জন্য বিখ্যাত।

আরও পড়ুন: ইউক্রেনে ১৮ সাংবাদিক নিহত

হাটে আসা পাইকার আতিকুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এটি উত্তরাঞ্চলের বিখ্যাত মরিচের হাট। কয়েক বছর ধরে আমি এই হাট থেকে মরিচ কিনছি। এখান থেকে আমি বিভিন্ন জাতের মরিচ কিনে নিয়ে যাই। টাকা লেনদেন বা বাড়তি কোনো ঝামেলা নেই। অনেক সময় হাটে না এসেও ব্যাংকে টাকা পাঠিয়ে এখানকার আড়ত থেকে মরিচ কিনে থাকি।

স্থানীয় মরিচ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, পাগলীমার হাটে দীর্ঘ দিন ধরে শুধু মরিচের বেচাকেনা হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা মরিচ কিনে নিয়ে যায়। বাইরের জেলা থেকে পাইকার আসায় আমরা স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চাষিদের কাছ থেকে মরিচ কিনে ভালো দামে মরিচ বিক্রি করতে পারছি। এতে আমরাও যেমন লাভবান হচ্ছি, তেমনি আমাদের এলাকার কৃষকরাও মরিচের ভালো দাম পাচ্ছে।

সান নিউজ/এনকে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা