মানুষ বারবার মরবো এটার কি আচার বিচার নাই- শীতলক্ষ্যায় লঞ্চ দুর্ঘটনায় স্বজনহারা পরিবার
সারাদেশ

মানুষ বারবার মরবো এটার কি আচার বিচার নাই

মো. নাজির হোসেন, মুন্সীগঞ্জ : গত বছর লঞ্চ দূর্ঘটনায় নিজের ছেলের বৌ, নাতিন ও বিয়াইনকে হারিয়েছেন মিনু বেগম (৬৫)। এবার লঞ্চ দূর্ঘটনায় মারা গেছে তার দেবরের ছেলের বৌ এবং নাতি। বিগত দুই বছরে নিজের এবং দেবরের ছেলের বৌ নাতিকে হারিয়ে তার একটাই প্রশ্ন মুন্সীগঞ্জের মানুষকি বার বার মরবো এটার কি কোন আচার বিচার নাই।

আরও পড়ুন : কেন এত নৌ-দুর্ঘটনা

মিনু বেগম বলেন, গত বছর আমার পুতের বৌ মরলো নাতিন মরলো, বিয়াইন মরলো এ বছর দেবরের পুতের বৌ মরলো নাতি মরলো মুন্সীগঞ্জের মানুষকি বার বার মরবো এটা কি কারো কিছু করার নাই। এটার কি আচার বিচার নাই সরকার কি কিছু করতো না। মিনু বেগম সদর উপজেলার রমজানবেগ গ্রামের কাজি মিয়ার স্ত্রী। গত বছর লঞ্চ দূর্ঘটনায় মারা যায় তার ছেলের বৌ বীথি এবং নাতিন আরিফা ও তার বিয়াইন। এ বছর গেলো রবিবার (২০ মার্চ) লঞ্চ দূর্ঘটনায় মারা গেছে তার প্রতিবেশী দেবরের পুত্রবধূ আরিফা বেগম ও নাতি শাফায়েত।

গতকাল সোমবার (২১ মার্চ) দুপুরে নিহত আরিফা ও শাফায়াতের বাড়িতে গেলে ক্ষোভে দুঃখে কথাগুলো বলেন মিনু বেগম। এদিকে, নিহত আরিফা ও শাফায়াতকে রমজানবেগ সামাজিক কবরস্থানে মা ও ছেলেকে রাত দেড়টার দিকে একসাথে পাশাপাশি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। স্ত্রী ও ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ দ্বীন ইসলাম। সে সাংবাদিকদের কিছু বলতে চাইলেও তার কন্ঠস্বর এতোটা ক্ষিন ও ক্লান্ত যে কিছুই বোঝা যাচ্ছিলো না।

এ ঘটনায় নিহত আরিফা বেগমের সাথে থাকা লঞ্জ দূর্ঘটনা হতে বেচেঁ ফিরা শশুর আব্দুর রব বেপারী বলেন, দেখলাম আমাদের লঞ্চের পাছাদিয়া একটা জাহাজ আসলো। একটা শব্দ হইলো আমাদের লঞ্চটা বইট্টা গেলো। পাছা ডাইব্বা গেলো। বৌ কইলো আব্বা কি হইছে আমি বললাম লঞ্চতো একসিডেন্ট হইয়া গেছেগা। বৌর হাতে ধইরা টান দিয়া লঞ্চের গলি দিয়া বের হইতে লইছি এমন একটা ঢেউ আইলো বাম হাত দিয়া লঞ্চ আর ডাইন হাত দিয়া বৌরে টাইন্না আনছি কিন্তু ঢেউ আইসা বৌরে আমার হাত হইতে ছুটাইয়া নিয়া গেছেগা। আমি জাহাজের ভিতরে গেছিগা। পরে একটা ব্যাগ পাইছি এরপর একটা প্লাষ্টিকে বস্তা পাইছি বস্তাটা ধইরা বস্তার উপর অজ্ঞান হইয়া গেছি আমার আর কিছু মনে নাই।

আরও পড়ুন : মারিওপোল এখন পৃথিবীর ‘নরক’

নিহত আরিফার স্বামী দ্বীন ইসলাম বলেন, সকালে নাস্তা খাওয়াইয়া আমার বৌ বাড়ি হতে সুস্থ গেল আর ফিরলো লাশ হয়ে। আমার বাপেরে ডাক্তার দেখাইতে গেল। আমার বৌরে হাতে ধইরা জাহাজে মাইরা দিলো এতগুলো লোক মারলো এর কি হইবো। আমার বাবা ( ছেলে শাফায়েত) নাই। এতোক্ষণে কতগুলো ডাক দিতে আমারে আমার বাবা কই আমার বাবায় আমারে ডাক দেয় না, আমার বাবায় কই বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন তিনি।

আরও পড়ুন : পরিবহন শ্রমিক কর্মবিরতি স্থগিত

নিহত শাফায়াতের দাদি রুসি বেগম বলেন, আমার নাতি বুয়া বুয়া কইয়া জীবন দিতো। আমি নাতিরে ডেলি ২০/৪০ টাকা খাওয়াতাম। আমার নাতিরে কই গেলোগা কই পামু আমার নাতিরে।

আরও পড়ুন : উবার চালান আফগানিস্তানের সাবেক অর্থমন্ত্রী

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসিব সরকার বলেন, এ পর্যন্ত মোট ৮ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জনের লাশ সনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে ৪ জনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে ২ জনের বাড়ি পটুয়াখালী একজনের বাড়ি নারায়নগঞ্জ। মুন্সীগঞ্জ ও চাদঁপুরের আরো ২ জন আমার কাছে থাকা তথ্যমতে নিখোঁজ রয়েছেন।

সান নিউজ/এইচএন

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা