সারাদেশ

উলিপুরে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার দাবি

কামরুজ্জামান স্বাধীন, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: চতুর্থ ধাপের ইউ’পি নির্বাচনে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনার পর ফলাফল ঘোষণা হলেও সেই ফলাফলের লিখিত কপি রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট এসে না পৌঁছালে ইউনিয়নের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রেখেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে ওই ইউনিয়নের মটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোজাফফর হোসেনকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়নি। এ জন্য তিনি সব কেন্দ্রের ফলাফল হাতে নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসে এসেছেন।

তার দাবি, ৯ টি কেন্দ্রের ৯ টিরই ভোট গণনা শেষে কেন্দ্রেই ফলাফল ঘোষণা করেন প্রিজাইডিং অফিসাররা। একইভাবে ৬ নং ওয়ার্ডের নামাজের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনা করে সেখানেই ফলাফল ঘোষণা করে ফলাফল শিট বিদ্যালয় ভবনের দেয়ালে লাগিয়ে দেয়া হয়। সেই হিসেবে আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সর্বোচ্চ সংখ্যক ২৫৮১ ভোট পেয়েছি। আমার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লাঙ্গল প্রতীকের মো. আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ২৩৮৪ ভোট। তারপরও আমাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি। আমি শুনেছি একটা কেন্দ্রের ফলাফল রিটার্নিং কর্মকর্তা পাননি। রাস্তায় নাকি কে বা কাহারা ছিনিয়ে নিয়েছে। এই দায়ভার আমি কেন নিবো। আমাকে দ্রুত বিজয়ী ঘোষণা করা হোক।

ফলাফল ঘোষণার বিষয়টি উল্লেখ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সচিবালয় বরাবর একটি চিঠি দেন ওই ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহ্ মো. তারিকুল ইসলাম। চিঠিতে ঘটনা উল্লেখ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

২৭ ডিসেম্বর প্রেরণ করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, নামাজের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নামাজের চর, সাহেবের আলগা ইউনিয়ন, উলিপুর, কুড়িগ্রাম কেন্দ্রে গত ২৬ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা ও ফলাফল শিট বিদ্যালয় ভবনের দেয়ালে লাগিয়ে দেওয়া হয়।

ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাগণ কেন্দ্র থেকে উপজেলা সদরে ফেরার প্রস্তুতির এক পর্যায়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার রতন কুমার পাল, প্রধান শিক্ষক, ধামশ্রেণি উচ্চ বিদ্যালয়, উলিপুর, কুড়িগ্রামের বক্তব্যে তার ব্যবহৃত ব্যাগে রক্ষিত ফলাফল শিট, ব্যালট বাক্স এবং অন্যান্য সামগ্রীর বস্তাটি অজ্ঞাত কিছু ব্যক্তি তার মাথায় আঘাত করে ছিনিয়ে নেয়। গত রাত ১ টা পর্যন্ত প্রিজাইডিং অফিসারের নিকট থেকে কোন ফলাফল না পাওয়ার বিষয়টি কমিশনের পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হলো।

ওই ইউনিয়নের ৯ টি কেন্দ্রে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী দেখা যায়, দৈ খাওয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৩৮ ভোট, মাঝের আলগা কেন্দ্রে ১১৪ ভোট, জাহাজের আলগায় ১৯৯ ভোট, সাহেবের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪৩৭ ভোট, গেন্দার আলগায় ৯৭২ ভোট, নামাজের চর ভোটকেন্দ্রে ৬০৭ ভোট, দক্ষিণ চর বাগুয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ৩৪ ভোট, সুখের বাতির চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ৮৬ ভোট, চর দূর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ৯৪ ভোট। সেই হিসেবে তিনি সর্বোচ্চ ২৫৮১ টি ভোট পেয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী লাঙ্গল প্রতীকের মো. আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ২৩৮৪ ভোট।

সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুর পর্যন্ত ওই ইউনিয়নের ফলাফল ঘোষণা না হলে উপজেলা নির্বাচন অফিস এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিকেল থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করে মোজাফফর হোসেনের কর্মী সমর্থকরা।

এই ঘটনায় চেয়ারম্যান প্রার্থী মোজাফফর হোসেন সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন। ওই ইউনিয়নের ফলাফল স্থগিত হওয়া ভোটকেন্দ্রে চেয়ারম্যান প্রার্থীর পাশাপাশি বিপাকে রয়েছেন সদস্য পদপ্রার্থীরাও।

ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদপ্রার্থী কল্পনা আক্তার জানান, অন্যান্য কেন্দ্রের মতো নামাজের চর কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা হলেও আমাদের ফলাফল দিচ্ছে না। আমরা ভোটের রাত থেকে অপেক্ষায় আছি। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা আমাদের কিছুই বলছেন না।

সাহেবের আলগা ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা উলিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, সাহেবের আলগা ইউনিয়নে সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ হয়েছে। ফলাফলও দেয়া হয়েছে। কিন্তু ফলাফল দেয়ার পর যখন আসবে তখন পরাজিত প্রার্থীর লোকজন নামাজের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ধামশ্রেণি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন কুমার পালের উপর চড়াও হয়। এতে তিনি আহত হন। রাত একটা পর্যন্ত ওই কেন্দ্রের ফলাফল কন্ট্রোল রুমে না আসায় ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টা কমিশনে লেখা হয়েছে। নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিব বলেন, নির্বাচন কমিশন বরাবর লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আমরা এখনও চিঠি পাইনি।

সান নিউজ/এমকেএইচ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা