সারাদেশ

খাবার নেই, সাহায্য চাই যৌনকর্মীরা

শওকত জামান, জামালপুর: খদ্দের নেই। ঘরে নেই খাবার। পায়নি সরকারি-বেসরকারি কোনও সাহায্য-সহযোগিতাও। ঘর ভাড়া নিয়ে চোখেমুখে দেখছেন অন্ধকার। চলতি লকডাউনে এভাবেই কাটছে যৌনকর্মীদের দুর্বিষহ জীবন।

জামালপুর শহরের রানীগঞ্জ যৌনপল্লীর বাসিন্দা মালা (২৮) বলেন, ৪ দিন ধরে লকডাউন। পল্লীতে খদ্দের আসে না। কামাই-রোজগার একদম নাই। ঘরে খাবার নাই। ঋণ করে খেয়ে না খেয়ে কোনমতে দিন পার করছি।

ঘর থেকে চোখ মুছতে মুছতে বেরিয়ে এলেন ৩৫ বছর বয়সী যৌনকর্মী বেবী। কান্না জড়িত কণ্ঠে বললেন, ক্ষিধার জ্বালা আমরা সহ্য করি। কিন্তু পোলাপান ক্ষিধায় কান্নাকাটি করে। ওগোর মুখের দিকে তাকাতে পারিনা। কেউর কাছে চামু, হগলের একই অবস্থা।

পল্লীর সরু গলিতে পান দোকানে বসে আছেন রঙ্গমালা। বয়স ৪০। চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বলে উঠলেন, আমগো খবর কে রাখে! ৪দিন ধরে লকডাউন। খদ্দের না থাকায় কামাই করতে পারতেছিনা। আমাগো খুব কষ্ট। পেঠে খাবার নাই। এখানকার অনেক মানুষ না খাইয়াই থাকে। কেউ কেউ একবেলা আধপেট খাইয়া ক্ষিধার জ্বালা মেটায়। অনেকে গলির ধারে বসে ক্ষিধার জ্বালায় কান্দাকাঠি করে। আমগো কষ্ট দেহার কেউ নাই। এ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি কোন সাহায্য-সহযোগিতা পাই নাই।

জামালপুর শহরের দয়াময়ী পাড়া এলাকায় রানীগঞ্জ যৌনপল্লীতে রোববার (৪ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পল্লীর চারপাশ শুনশান নীরবতা। ময়লা অবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে চারপাশে। নোংরা পুতিময় গন্ধেই এদের বসবাস। চলতি লকডাউনে নেই খদ্দেরের আনাগোনা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে থাকা যৌনকর্মীরা কাটাচ্ছে অলস সময়। তাদের চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে শুকনো মুখগুলো।

তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,জামালপুরের এই যৌন্পল্লীতে নারী,শিশু ও বৃদ্ধ মিলে ৫ শতাধিক লোকের বসবাস। কর্মহীন যৌনকর্মীদের ঘরে ঘরে অভাব দেখা দিয়েছে। খাদ্যের অভাবে খুবই কষ্টের মধ্যে দিন পার করছে তারা। পল্লীর অভ্যন্তরে কারো কাছে সাহায্যপ্রাপ্তিরও অবস্থা নেই। সকলেরই একই অবস্থা। বয়স্ক যৌন্যকর্মীদের অবস্থা আরো খারাপ। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে সেখানে এগিয়ে যায়নি সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কেউই। ক্ষুধার্ত যৌনকর্মীরা জেলা প্রশাসন ও পৌরসভাসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছে দ্রুত সাহায্য চেয়েছেন।

জামালপুর পৌরসভার মেয়র ছানোয়ার হোসেন ছানু বলেন, কর্মহীন অসহায় যৌনকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। পৌরসভার পক্ষ থেকে দ্রুত খাদ্যের সমস্যা সমাধান করা হবে। কোনো যৌনকর্মী না খেয়ে থাকবেন না। ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানালেন পৌর মেয়র।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক মুর্শেদা জামান জানিয়েছেন, কর্মহীন যৌনকর্মীদের খাদ্যের সমস্যা জানতে পারলাম। তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাননিউজ/ জেআই

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা