সারাদেশ

সাবেক ডিসি মাহমুদুলের উদ্যোগে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি

নিজস্ব প্রতিনিধি, দিনাজপুর : একসময় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ৩ হাজার বিঘা জমিজুড়ে ছিলো শুধুই জলাবদ্ধতা। এ বছর সেই জমিতে সোনালী ধানের দোলা, হাজার গৃহস্থের মুখে খুশির ঝিলিক।

স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকরা বলছেন, ওই তিন হাজার বিঘা জমিতে এবার ব্যাপক ফলন হওয়ায় প্রায় ৭৫ হাজার মণ অতিরিক্ত ধান উৎপন্ন হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খয়েরবাড়ী এবং দৌলতপুর ইউনিয়নের উত্তরের লালপুর গ্রাম থেকে দক্ষিণে দূর্গাপুর গ্রাম পর্যন্ত তিন হাজার বিঘা ফসলের মাঠ। এই ফসলের মাঠের পশ্চিম প্রান্তে ছোট যমুনা নদী। বারাইপাড়া গ্রাম থেকে ছোট যমুনা নদীতে পানি নিষ্কাশনের ক্যানেল রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীদের বাঁধায় ফসলের মাঠ থেকে বারাইপাড়া পানি নিষ্কাশন ক্যানেল পর্যন্ত ৩শ মিটারের একটি সংযোগ ক্যানেল না হওয়ায় জলবদ্ধতা দেখা দেয় তিন হাজার বিঘা ফসলি জমিতে। ফলে সব ধরনের চাষাবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন প্রায় ১ হাজার কৃষক।

অবশেষে গতবছর ২৪ অক্টোবর তৎকালীন ডিসি বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহমুদুল আলম নিজে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে একদিনের ৩০০ মিটার ক্যানেল খনন করেন। এতে নিরসন হয় জলাবদ্ধতার। ফলে দীর্ঘদিন পর এ বছর সেই তিন হাজার বিঘা জমিতে বোরোর আবাদ করেন স্থানীয় কৃষকরা।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো তিন হাজার বিঘার ফসলের মাঠজুড়ে পাকা আধাপাকা ধানে ভরে রয়েছেন। বেশ কিছু জমিতে কিষাণ-কিষাণিরা ধান কাটায় ব্যস্ত।

বারাইপাড়ার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষিকাজই তার একমাত্র পেশা। এবার তিনি ৭ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে তার গড়ে ২৫ মণ করে ধান হয়েছে। অথচ গত ৪ বছর ধরে একটি ফসলও তিনি পাননি। গত বছর মাহমুদুল আলম ডিসি ক্যানেল না খুঁড়লে এবছর কোন ফসল আবাদ করতে পারতেন না। ফলে পরিবার নিয়ে তাকে পথে বসতে হতো।

মাহদিপুরের কৃষক সাইদুর মিয়া জানান, দীর্ঘদিন এসব জমিতে কোন ফসল আবাদ না হওয়ায় এখানকার কৃষকরা দিনে দিনে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছিলো। মাহমুদুল স্যারের কারণে আজ অনেক কৃষক সেই ঋণের জাল থেকে মুক্তি পাবে।

গৃহিণী রাবেয়া খাতুন জানান, তাদের বাড়িতে ৬টি গাভী ছিলো। কিন্তু জমিতে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গোখাদ্যোর সংকট দেখা দেয়। বাজারে গোখাদ্যোর দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা গাভীগুলো বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়। জমির পানি নিষ্কাশনের ফলে এবছর আবাদ শুরু হওয়ায় তারা নতুন করে গাভী পালনের পরিকল্পনা নিয়েছেন।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন জানান, সরকারের ডেল্টা প্রকল্পের আওতায় সরকার ওইসব জমির পনি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নিয়েছিলো। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে সেই ক্যানেল করা সম্ভব হচ্ছিলো না। সাবেক ডিসি মাহমুদুল আলমের উদ্যোগের ফলে আজ পানি নিষ্কাশনসহ দুই ইউনিয়নের তিন হাজার বিঘা জমিতে ব্যাপক ধান উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। ক্যানেলটি পাকাকরণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।

সাবেক ডিসি ও বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহমুদুল আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনের ছিলো এক ইঞ্চি জমিও যেনো অনাবাদী না থাকে। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনা মোতাবেক ওই এলাকার হাজারো কৃষকের দুর্দশা লাঘবে তিনি ওই ক্যানেল খনন সম্পন্ন করেন। যার সুফল আজ শুধু হাজারো কৃষক নয় পুরো উপজেলা, দেশ পাচ্ছে।


সান নিউজ/এএসএমএ/কেটি


--

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা