সারাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে দেশের প্রথম জ্বালানিবিহীন ইট কারখানা 

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ইটভাটা বলতে আমরা বুঝি আবাদী জমির উপরিভাগের মাটি কেটে কয়লা বা কাঠখড়ি ইত্যাদি পুড়িয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির মধ্যদিয়ে মাটি পুড়িয়ে ইট তৈরির কথা। কিন্তু কোনো প্রকার জ্বালানি বা মাটির ব্যবহার ছাড়াই ঠাকুরগাঁওয়ে আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে ফ্লাই অ্যাশ (কয়লা পোড়ানো ছাই), সিমেন্ট, বালু ও পাথরকুচি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট।

কোনো প্রকার ধোয়া নির্গত হয় না বলে পরিবেশের দূষণ হয় না এমন পরিবেশবান্ধব দেশের প্রথম ইট কারখানা স্থাপন করা হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জ পারপুগী গ্রামে কৃষি জমির মধ্যখানে টিনশেডের একটি বিশাল ছাউনির নিচে বসানো হয়েছে কারখানা। কারখানার পাশে মজুদ করে রাখা হয়েছে নদীর বালি, ফ্লাই অ্যাশ ইত্যাদি। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওই কারখানায় কোনো প্রকার মাটি কিংবা জ্বালানি ছাড়াই ফ্লাই অ্যাশ, সিমেন্ট, বালু ও পাথরকুচি দিয়ে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে অ্যাশ ইট বা সিমেন্টের ইট।

ইটভাটায় তৈরি ইট আঁকাবাকা এবং কয়েক শ্রেণির হলেও এখানকার ইটগুলো দেখতে মসৃণ ও ধবধবে সাদা। তাছাড়া ভাটার ইট তৈরির পর পলেস্তারা করার প্রয়োজন হলেও এই ইট দিয়ে পলেস্তারা না করলেও চলে বলে জানালেন উদ্যোক্তারা।

এ কারখানায় ৮ ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০ হাজার ইট প্রস্তুত করা হয়। ইট উৎপাদনের পর ১৫-২০ দিন পানি দিতে হয়। তারপর বাজারজাত করা যায়। বর্তমানে প্রতি হাজার অ্যাশ ইট ৮ হাজার হতে সাড়ে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

এই ইট শক্তিশালী, দীর্ঘস্থায়ী ও মজবুত। আকার তুলনামূলক বড় হওয়ায় যে কোনো কাজে ভাটার ইটের চাইতে এই ইটের ব্যয় কম বলে দাবি করা হলেও ক্রেতারা বলছেন উল্টো কথা।

সদর উপজেলার খাগড়াবাড়ি গ্রামের কৃষক মতিউর রহমান বলেন, আমি বাড়ি তৈরি করার জন্য ৩ হাজার ইট কিনি। কারখানা হতে বাসায় নিতেই ৭শ ইট ভেঙে যায়। তাই এখন ঘর বানাতে ভয় পাচ্ছি। কারণ সিমেন্টের ইট বলা হলেও সিমেন্টের পরিমাণ খুব কম। সব মিলে ভাটার ইটের মতো শক্তিশালী ও মজবুত নয় এই ইট।

কারখানার প্রোডাকশন ইন্জনিয়ার মোশারুল ইসলাম জানান, এখানে পাথরকুচি, বালি, কয়লার ছাই ও সিমেন্ট দিয়ে ইট তৈরি করা হয়। কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ‘ভাইব্রো মলডিং মেশিনে একটি কম্পিউটার ডায়াগ্রাম দেয়া আছে। প্রথমে মিকচার সেকশনে ৫টি উপাদান দিয়ে মিশ্রণ করা হয়। তারপর কনভেল্ড ব্যাল্টের মাধ্যমে মিকচার সেকশনে চলে আসে ফাইনাল মিকচার। ক্রমান্বয়ে সেটি মল্ডে নিয়ে ধীরে ধীরে বের করা হয়। স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ অ্যাশ, বালু, সিমেন্ট ও পাথরকুচি এসে মিশে যাচ্ছে। এরপরই যন্ত্রের চাপে তৈরি হচ্ছে ইট। এসব ইট পোড়ানোর প্রয়োজন পড়ে না।

রাজ্জাক গ্রুপের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাবলু স্থাপন করেছেন ‘বাবলু সুপার ব্রিকস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড’ নামের এই ইটের কারখানা। এই কারখানায় স্থানীয় অর্ধশতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

রাজ্জাক গ্রুপের চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম বলেন, সরকার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এদেশে অবকাঠামো নির্মাণে পরিবেশবান্ধব ইটের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সেই নিদের্শনা থেকে আমি এই কারখানা স্থাপনের অনুপ্রেরণা পাই। তাছাড়া ব্যবসায়িক কাজে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের সুযোগে আমি দেখছি ভারতে অ্যাশ দিয়ে ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। তা দেখেই আমার আইডিয়া আসে এবং আমি অ্যাশ ইট তৈরির কারখানা স্থাপন করি, যা দেশের সর্বপ্রথম প্রজেক্ট।

গত বছরের ১৯ নভেম্বরে এ কারখানায় ইট উৎপাদনের কাজ শুরু করা হয়। কারখানার ভাইব্রো ক্যাভিটি যন্ত্রে প্রতি ৮ ঘণ্টায় ২০ হাজার ইট তৈরি করা সম্ভব।

ঠাকুরগাঁও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহারুল আলম মন্ডল বলেন, পোড়ামাটির ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ইট দিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ বিষয়ে সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নির্দেশনা রয়েছে। এই ইটের গুনগতমাণ ভাল হলে খুব শিগগিরিই এই কারখানায় উৎপাদিত ইটের কদর বাড়বে।

সান নিউজ/আরআই

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা