সারাদেশ

হাতির পায়ের পিষ্টে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি (রাঙামাটি): বেড়াতে এসে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা গেলেন টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিষেক পাল। রাঙামাটি কাপ্তাইয়ে হাতির আক্রমণে ছয় দিনের ব্যবধানে এ শিক্ষার্থী মারা গেলেন।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) সকাল ১১টায় কাপ্তাই আসামবস্তি সড়কের কামাইল্যাছড়ি আগারবাগান এলাকায় এঘটনা ঘটেছে। নিহত শিক্ষার্থী ঢাকার তেজগাঁওস্থ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

অভিষেকের বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু সাদমান সোবহান উদয় জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ছয় বন্ধু মিলে কাপ্তাইয়ের প্রশান্তি পার্ক থেকে সিএনজি যোগে রাঙামাটি পর্যটন শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে দুই হাতির মুখোমুখি পড়েন তারা। এসময় অভিষেক জঙ্গলের দিকে দৌড়ে পালানোর সময় পিছন দিক থেকে এসে একটি হাতি তাকে পিষ্ট করে। খবর পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিস গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, নিহত অভিষেকের বাড়ি নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। তার পিতা সুধাংশু বিকাশ পাল চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তিনি কাপ্তাই চলে আসেন। অভিষেক পাল তার একমাত্র ছেলে ছিলেন। বর্তমানে অভিষেকের পরিবার ফেনীর মাস্টার পাড়ায় বসবাস করেন।

কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মো. ওমর ফারুক রনি জানান, হাসপাতালে আনার আগেই অভিষেকের মৃত্যু হয়েছে। আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার ওমর ফারুক রনি ও বন বিভাগ কাপ্তাই রেঞ্জের কর্মকর্তা মহসিন তালুকদার অভিষেক পাল মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

রেঞ্জ কর্মকর্তা মহসিন তালুকদার আরো জানান, এরআগে গত ৭মার্চ ২০২১ একই এলাকায় হাতির আক্রমণে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী প্রাণ হারান।

কাপ্তাই থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. নাসির উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে বন্য হাতির আক্রমণে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মারা গেছেন এঘটনা বন বিভাগ আমাকে অবগত করেছেন। এব্যাপারে আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। এঘটনা শুনার সাথে সাথে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের ডিএফও মো. রফিকুজ্জামান শাহ্, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহানসহ আরো অনেকে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের ডিএফও মো. রফিকুজ্জামান শাহ্ বলেন, বন্যহাতির আবাসস্থলে মানুষ দিন দিন স্থাপনা তৈরি করে বিরানঅঞ্চলে পরিণত করেছে। অন্যদিকে হাতি যে সব এলাকায় চড়ে বেড়াতো সে সব এলাকার গাছ পালাগুলোও কেটে ফেলেছে মানুষ। জঙ্গলে হাতি থাকে কিন্তু উজাড় করে দিচ্ছে মানুষ। অপরদিকে কিছু লোকজন হাতি দেখলে বিভিন্ন ধরনের তামাশা করে যার কারণে হাতি উত্তেজিত হয়ে মানুষের ক্ষতি করে।

একপ্রশ্নের জবাবে রফিকুজ্জামান শাহ্ বলেন, হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে করণীয় এবং বন্যপ্রাণীর আক্রমণে জান-মালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা ২০১০ আলোকে নিহত ব্যক্তি একলক্ষ টাকা অনুদান পাবেন। এছাড়াও ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হলে ক্ষতিপূরণ পাবেন।

সান নিউজ/এমকেইউ/এসএস

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা