চট্টগ্রাম ব্যূরো : চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে তালাবদ্ধ ওয়ার্ড থেকে উধাও হওয়া হত্যা মামলার আসামি ফরহাদ হোসেন রুবেলকে কারাভ্যন্তরে তন্নতন্ন করেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
শেষ পর্যন্ত শনিবার (৬ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে ১০টায় তাকে পলাতক দেখিয়ে নগরীর কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন কারা কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (৭ মার্চ) সকালে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, কারাভ্যন্তরে এর আগেও দুইবার ড্রেনে ও ছাদে লুকিয়ে থাকার ঘটনা ঘটিয়েছে হাজতি রুবেল। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাকে খুঁজে বের করা হয়।
এবারও সেরকম ঘটনা ঘটাতে পারে এমন আশঙ্কায় তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালানো হয়। পাগলা ঘন্টা বাজিয়ে কারা পুলিশ ও দাঙ্গা পুলিশ এই তল্লাশি চালায়। কিন্তু হাজতি রুবেলকে খুঁেজ পাওয়া যায়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, কারাগারের ড্রেন দিয়ে হাজতি রুবেল পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। ফলে পলাতক দেখিয়ে শনিবার দিনগত রাতে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর ২৩/২১। ধারা-দন্ডবিধির ২২৪। এর আগে থানায় জিডি করা হয়েছিল।
কোতোয়ালী থানার ওসি নেজাম উদ্দীন বলেন, হাজতি রুবেলকে পলাতক দেখিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের পক্ষ থেকে মামলা করেছেন কর্তৃপক্ষ। এরপর হাজতি রুবেলের খুঁেজ মাঠে নেমেছে পুলিশ। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, শুক্রবার রাতে সবার সাথে ফরহাদ হোসেন রুবেল নামে এক হাজতি কারাগারের কর্ণফুলী ভবনের ৫ম তলার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ঘুমাতে যান। কিন্তু শনিবার (৬ মার্চ) ভোর ৬টায় ওয়ার্ড তালামুক্ত করার পর ওই হাজতির সন্ধান মিলছে না। যার হাজতি নম্বর ২৫৪৭/২১।
পরে দায়িত্বরত কারারক্ষী ও হাজতিদের কাছ থেকে জানতে পারেন, হাজতি রুবেল ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে ওয়ার্ড থেকে বের হয়ে যান। পরবর্তীতে পুরো কারাগারে তল্লাশি করেও তার হদিস মেলেনি। এর আগে ২০১৮ সালে তিনি দুইবার কারাভ্যন্তরে লুকিয়ে ছিলেন। এবার নতুন করে গত ৯ ফেব্রুয়ারি হত্যা মামলায় জেলে গিয়ে আবার লুকিয়ে গেলেন।
উল্লেখ্য, ফরহাদ হোসেন রুবেল গত ৫ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে সদরঘাট থানার সিআরবি রেল গেইট এলাকায় তুচ্ছ ঘটনায় আবুল কালাম নামের এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীকে বুকে ছুরিকাঘাত করেন। পরদিন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান তিনি।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে হত্যার অভিযোগে ডবলমুরিং থানার মিস্ত্রি পাড়া থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই মামলায় ৯ ফেব্রুয়ারি আদালতের মাধ্যমে কারাগারে যান রুবেল। তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানায়।
সান নিউজ/আইকে