সারাদেশ

শওকতের বদলিতে থেমে গেল মানবিক পুলিশ ইউনিট

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম : সিএমপির মানবিক পুলিশ ইউনিটের নেতৃত্ব ছিলেন কনস্টেবল শওকত। অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে বেশ আলোচিতও হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু এক ওয়াজ মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হঠাৎ তাকে বদলি করা হয় সিএমপির বন্দর জোনে। আর তাতেই থেমে যায় মানবিক পুলিশের পুরো ইউনিট।

সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর শুক্রবার সকালে বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ২৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার এক অফিস আদেশে শওকতকে বন্দর জোনে বদলি করা হয়। পাশাপাশি সিএমপির সব পুলিশ সদস্যই বর্তমানে মানবিক পুলিশিং করছে। সেখানে আলাদা করে মানবিক পুলিশ ইউনিট থাকার প্রয়োজন নেই।

সিএমপি কমিশনার বলেন, আমদের সব পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি, যাতে কেউ অমানবিক আচরণ না করে। তারা সকলেই মানবিক পুলিশিং করছেন। মূলত পুলিশের যে কাজ সেটা করাই আমাদের কাজ। এছাড়া ওই টিমে যারা আছে তারাতো মেডিকেলেই কর্মরত। সো, আমরা আলাদা করে মানবিক ইউনিট রাখছি না।

সিএমপি কমিশনার একপর্যায়ে বলেন, নগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকার এক ওয়াজ মাহফিলে শওকতের দেওয়া বক্তব্য আমাদের দৃষ্টি গোচর হয়েছে। সরকারি চাকরিতে থাকলে কিছু বিধি-নিষেধ মেনে কথা বলতে হয়। পুলিশে কাজ করে মনে যা আসে তা বলা যাবে না। কথাবার্তায় আমদের সাবধান হতে হবে। তার বক্তব্য শৃঙ্খলা বিরোধী। ফলে তাকে বাহিনীর শৃঙ্খলার রক্ষায় বদলি করা হয়েছে।

সূত্র মতে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সিএমপির ডবলমুরিং থানার পানওয়ালা পাড়ায় একটি মাহফিলে অতিথি হয়ে বক্তব্য রাখেন শওকত। সেখানে তিনি বলেন, যখন শুনবেন ভালো বক্তারা আসছে, তখন দৌঁড়ে ওয়াজ শুনতে চলে আসবেন। আপনি ভন্ড মুসলিম। ইসলামের কথা যদি ওনারা আপনাদের মধ্যে ঢুকাতে পারত, তাহলে আমার মতো নগণ্য মানুষ এই চেয়ারে বসতে পারত না। লোকজন সব অলি হয়ে যেত। আপনাদের আশেপাশে অনেক মানুষ আছে টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না। অথচ আপনারা বড় বড় বক্তা এনে ওয়াজ করাচ্ছেন। মনের কষ্ট থেকে এসব কথা বলছি।

শওকত বলেন, সারাদিন ওয়াজ শুনে লাভ নেই, ভাসমান মানুষের সেবায় এগিয়ে না আসলে ওয়াজে কিছুই হবে না। সবাইকে মানবিক হতে হবে। সেখানে তিনি আরও কিছু বক্তব্য দেন যেগুলো নিয়ে আলোচনা-বিতর্ক চলছে। এ নিয়ে ডবলমুরিং থানায় আলেমদের পক্ষ থেকে একটি জিডিও করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে পুলিশ কনস্টেবল পদে যোগ দেন শওকত। ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকায় চাকরি করার পর রাঙামাটিতে বদলি হন। সেখান থেকে চট্টগ্রাম পুলিশ হাসপাতালে পদায়ন হয় তার। তিন বছরের ডিপ্লোমা এবং দুই বছরের প্যারামেডিকেল কোর্স করেছিলেন তিনি। ২০১১ সাল থেকে নীরবে চট্টগ্রাম মহানগরীর অসহায়, দু:স্থ ও বেওয়ারিশ মানুষদের নিভৃতে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন শওকত।

২০১৯ সালের ২৯ নভেম্বর সিএমপির কল্যাণ সভায় স্বজনহীন অসহায় মানসিক রোগীদের সেবার বিষয়টি সামনে আনেন কনস্টেবল শওকত। তার বক্তব্য শুনে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মাহবুবর রহমান ৫০ হাজার টাকার ফান্ড দিয়ে মানবিক পুলিশ ইউনিট চালু করেন। পরে ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর সিএমপির উপ-কমিশনারকে (সদর) প্রধান করে ১০ সদস্যের এই ইউনিট গঠন করা হয়। আর মানবিক পুলিশের মাঠের টিম লিডার করা হয় শওকতকে।

এরপর থেকে রাস্তায় স্বজনহীন কোনো মানুষ পড়ে থাকার খবর পেলেই ছুটে যেতেন এই ইউনিটের সদস্যরা। তাদের খাওয়া-দাওয়াসহ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেন। ইউনিট গঠনের আগে রাস্তায় স্বজনহীন অসহায় কিংবা মানসিক রোগী যাদের হাসপাতালে স্থান পেত না, সেসব রোগীদের নিজেদের টাকায় সেবা দিয়ে আসছিলেন তারা।

সান নিউজ/এস

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা