নিজস্ব প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মেজবাহ উদ্দিন মেজুকে জয়ী করতে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি নেতাকে আওয়ামী লীগের পদ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু ও সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন ওই ‘বিতর্কিত’ দুই নেতাকে দায়িত্বের চিঠি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন।
চিঠিতে আজাদ উদ্দিন চৌধুরী ও আশ্রাফ উদ্দিন সারুকে রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষ্যমতে, আজাদ গত পৌরসভা নির্বাচনে জাতীয় পার্টির হয়ে লাঙ্গল মার্কা নিয়ে ভোট করে হেরেছেন। সারু জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য। পরবর্তী সময়ে তারা কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেননি। বিশেষ ‘সুবিধার বিনিময়ে’ অগঠনতান্ত্রিকভাবে পদ বন্টনকে দলের জন্য অশনিসংকেত জানিয়ে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ত্যাগী কয়েকজন নেতা।
দলীয় সূত্র জানায়, ১৪ ফেব্রুয়ারি রামগতি পৌরসভা নির্বাচন। এখানে জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন মেজুকে মেয়র মনোনয়ন দেওয়া হয়। তিনি পৌরসভার বর্তমান মেয়র। সম্প্রতি মনোনয়ন বঞ্চিতদের সঙ্গে মেজুকে নিয়ে জেলার শীর্ষ নেতারা সভা করেছেন। ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে নৌকাকে বিজয়ী করতে এক হয়ে কাজ করার জন্য শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়।
এরপর সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে আজাদ ও সারুকে দায়িত্ব পালনের চিঠি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, রামগতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে বিজয়ের লক্ষ্যে তাদের উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে পদায়ন করা হল। এরআগে বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরে নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে রামগতির ৬-৭ নেতাকে নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ জানায়, কমিটিতে শূন্য পদে কাউকে সংযুক্ত করতে হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির সভা করতে হবে। সেখানে সম্ভাব্য ব্যক্তির নাম প্রস্তাব-পদ নিয়ে আলোচনা হবে। সিদ্ধান্ত হলে তা সুপারিশ করে সভার কার্য বিবরণীসহ জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হবে। তারা (জেলা) কার্যকরী কমিটির সভায় উপস্থাপনের পর বিরোধীতা না থাকলে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে তা অগঠনতান্তিক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা ও পৌরসভার দুইজন যুবলীগ নেতা জানায়, সারু বদমেজাজি। তিনি মেজাজ হারালে লাইসেন্স করা অস্ত্র দিয়ে প্রায়ই গুরু-ছাগলকে গুলি করেন। ডিগবাজ নেতা হিসেবে পরিচিত আজাদ চৌধুরী নানা অপকর্মে জড়িত। দলে যোগদান না করে তারা পদ পেলে আওয়ামী লীগ থেকে ত্যাগী-নির্যাতিত নেতাকর্মীরা মুখ ফিরিয়ে নিবেন।
আশ্রাফ উদ্দিন সারু বলেন, আমি ২০০১ সাল থেকে আওয়ামী লীগ করি। দলে আমার বিনিয়োগ আছে। অনেক সাধনার পর পদটা পেলাম। কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
আজাদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের চিঠি আমি পেয়েছি। আওয়ামী লীগে যোগদান না করে কিভাবে পদ পেলেন-প্রশ্নে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
জানতে চাইলে রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ বলেন, আজাদ ও সারু এলাকায় বিতর্কিত। তারা বিএনপি ও জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। অগঠনতান্তিক কোনো সিদ্ধান্ত রামগতির নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন জানান, পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীকে জয়ী করতে সবার সঙ্গে আলোচনা করে দুই নেতাকে পদ দেওয়া হয়েছে। আজাদ চৌধুরী জাতীয় পার্টি করেছে, সেটা সঠিক। কিন্তু তারা দুইজনই অনেকদিন ধরে আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করছে।
সান নিউজ/জেইউবি/কেটি