ফয়সল চৌধুরী, হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের চুনারুঘাট পৌরসভার নির্বাচন আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী একটি হত্যার মামলার আসামি। আর বিএনপির মনোনীত প্রার্থী যুদ্ধাপরাধীর সন্তান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই পৌরসভায় গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করেছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি সাইফুল আলম রুবেল এবং বিএনপি থেকে নাজিম উদ্দিন সামছু। লড়াই হয়েছিল হাড্ডাহাড্ডি। মাত্র ১৪ ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের প্রার্থীর কাছে হেরেছিলেন নৌকার প্রার্থী।
এবারও আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে কঠিন লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচনে তিন মেয়র প্রার্থীসহ ৫৫ প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এই পৌরসভায় বড় দুই রাজনৈতিক দলের কোন বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় অনেকটা ফুরফুরে রয়েছেন দুই প্রার্থী।
এ পৌরসভায় মেয়র পদে তিন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। তারা হলেন-আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম রুবেল, বিএনপি প্রার্থী বর্তমান মেয়র নাজিম উদ্দিন শামছু এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল বাছির।
চুনারুঘাট উপজেলা মূলত: আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এখানে বিপুল সংখ্যক চা শ্রমিক ভোটার হওয়ায় প্রতিটি জাতীয় ও উপজেলা নির্বাচনে নৌকার বাক্সে একচেটিয়া ভোট পড়ে। তবে শুধুমাত্র পৌরসভার হিসেবে ধরলে বিএনপির দাপটও রয়েছে বেশ। যে কারণে ২০১৫ সালের নির্বাচনে লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থীর কাছে হারতে হয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে। শুধু তাই নয়, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে মেয়র পদটি বিএনপির দখলেই রয়েছে।
২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর ১০ হাজার ৭৮৯ জন যুদ্ধাপরাধীর নাম প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। যার মধ্যে রয়েছে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া বর্তমান মেয়র নাজিম উদ্দিন সামছুর পিতা মৃত মুসলিম উদ্দিনের নাম। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় খুন, ধর্ষণ ও লুন্ঠনের অভিযোগ রয়েছে তার নামে। তিনি চুনারুঘাট সদর ইউনিয়নের একাধিকার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। নাজিম উদ্দিন সামছু দীর্ঘদিন মেয়রের দায়িত্ব পালন করায় জনগণের সঙ্গে তার একটি সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া মেয়র হিসেবে তার কর্মকাণ্ডে খুশি পৌরবাসী। যে কারণে গত বছরের চেয়ে এ বছর ভোট বেশি পাওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকে।
২০১৮ সালে ১লা মার্চ ফজরের নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাবার পথে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় আওয়ামী লীগ নেতা, চুনারুঘাট ব্যবসায়ি কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও উপজেলা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতে সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন আকল মিয়াকে। এই হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সাইফুল আলম রুবেল হত্যা মামলার অনত্যম আসামি। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হবিগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিলো। আদালত তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং কারাগারে প্রেরণ করেন। বর্তমানে সে মামলায় জাামিনে আছেন।
এছাড়াও গত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবু তাহেরের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন। এজন্য দলের ভিতরে রয়েছে তার প্রতি বিরূপ ধারণা। তবে রুবেল রাজনৈতিকভাবে বেশ পরিচিত। এছাড়া সাবেক ছাত্রনেতা হওয়ার কারণে প্রতিটি ওয়ার্ডেই রয়েছে তার কর্মী-সমর্থক। যে কারণে শক্তিশালী ভিত্তি গড়তে কাজ করছেন দিনরাত। প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন দলের একাংশ নেতাকর্মীদের নিয়ে।
আপাতত দুই প্রার্থীকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে নীরব প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী আব্দুল বাছির। তিনিও প্রতিটি গ্রাম ও ওয়ার্ডে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দিনরাত প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারী পৌরসভার ১৪ হাজার ৪০২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৭ হাজার ১১১ জন ও মহিলা ভোটার ৭ হাজার ২৯১ জন।
সান নিউজ/এফসি/এনকে