নিজস্ব প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর : প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা থাকতে হবে। তাহলেই শিক্ষার মান উন্নত হবে। আমি লক্ষ্মীপুরে শিক্ষার যথাযথ মান নিশ্চিত করতে চাই। এজন্য শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোন শিক্ষক অপ্রয়োজনীয় কাজে বিদ্যালয় ফাঁকি দিতে পারবে না। যদি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রেখে কোন স্থানে কোন শিক্ষক ঘুরাঘুরি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনোয়ার হোছাইন আকন্দ শিশুদের (আউট অব স্কুল চিলড্রেন) শিক্ষা বাস্তবায়ন কর্মসূচিবিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।
বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিলনায়তনে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো এ আয়োজন করেন। জেলা প্রশাসন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট সহযোগীতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
ডিসি আরও বলেন, যেসব শিশু শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়েছে সংশ্লিষ্টদেরকে তাদের জন্য কেন্দ্র ও শিক্ষক নির্বাচন করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণে শতভাগ সততা নিশ্চিত করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সফিউজ্জামন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা কুল প্রদীপ চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রিয়াজুল কবির, গ্রামীণ দরিদ্রদের উন্নয়ন সংস্থার (ডরপ্) চেয়ারম্যান ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব আজহার আলী তালুকদার, জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক বিদ্যুৎ রায় বর্মন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুম, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মতিন ও সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসিনা ইয়াসমিন প্রমুখ।
আয়োজকরা জানায়, জেলা সদর, রায়পুর এবং রামগঞ্জ উপজেলার ঝরে পড়া ৮-১৪ বছরের ৬ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থীকে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) আওতায় আনা হয়েছে। এতে প্রতি উপজেলায় ৭০টি (বিদ্যালয়) করে ২১০ টি উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে ৪২ মাস এই শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষা উপকরণ হিসেবে বই, খাতা, কলম, ড্রেস, ব্যাগ ও উপবৃত্তি প্রদান করা হবে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের মাধ্যমে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চলবে। অভিভাবকদের দারিদ্রতা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুরাবস্থা, শিশুশ্রম ও ভৌগলিক প্রতিবন্ধকতাসহ বিভিন্ন কারণে অনেক শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে না। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ঝরে পড়া শিশুদের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষা দিয়ে তাদেরকে শিক্ষার মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে সহায়তা করা হবে। এতে সরকারের রূপকল্প-২০২১ ও জাতিসংঘের ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
সান নিউজ/জেইউবি/কেটি