সারাদেশ

ফানাই নদী খননে বাড়ছে জনদুর্ভোগ, প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ফানাই নদী খনন কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। কাজের দায়িত্বে নিয়োজিত ঠিকাদারের লোকজনের স্বেচ্ছাচারিতা অনৈতিক ফায়দা হাসিলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শতাধিক ঘরবাড়ি। এমনকি রক্ষা পাচ্ছে না মসজিদ মন্দির কিংবা কবরস্থানও।

কুলাউড়া উপজেলার লংলা পাহাড় থেকে উৎপত্তি হয়ে হাকালুকি হাওরে গিয়ে মিলিত হয়েছে ফানাই নদী। পাহাড়ে উৎপত্তিস্থল হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির গতিপ্রবাহ হয় অত্যন্ত খড়স্রোতা। তাই বর্ষাকালে প্রতিই বছর নদীর পানি উপচে দু’তীরের ফসল ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। ২০১৯ সালে তাই পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর খননসহ প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীটি খননকাজ ও প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প শুরু করে। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৭ কোটি টাকা। হাকালুকি হাওর থেকে শুরু করে এই ৪০ কিলোমিটার নদীটি উপজেলার ভুকশিমইল, কাদিপুর, ব্রাহ্মণবাজার, রাউৎগাঁও, কুলাউড়া সদর ও কর্মধা ইউনিয়ন দিয়ে নদীটির খনন কাজ গিয়ে শেষ হবে পাহাড়ি এলাকা মহিষমারায় গিয়ে।

সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে জানা যায়, ইতোমধ্যে নদীটির খননকাজ ৪ ভাগের ৩ ভাগ শেষ হয়েছে। বড় বড় ইউটার্ন রেখে নদী খনন করা হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমের শুরুতে পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে যাবে। এতে বর্ষা মৌসুমে আবারও নদী ভাঙন শুরু হবে বলে এলাকাবাসী জানান। তাছাড়া কাজ শেষ করে সামনে এগুনোর ৩-৪ দিনের মাথায় নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নদীগর্ভে ধসে পড়ছে। রাউৎগাঁও, কুলাউড়া সদর ও কর্মধা উইনিয়নে কমপক্ষে ৮টি ব্রিজ ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

খনন কাজ রাউৎগাঁও ইউনিয়নে আসার পর খনন কাজে নিয়োজিত মাটির কাটার এসকেভেটর চালকরা জড়িয়ে পড়েন নানা অপকর্মে। নদী খনন করতে গিয়ে রাউৎগাঁও ইউনিয়নের চৌধুরী বাজার মুকুন্দপুর রাস্তার মরহুম হাজী ছলিম মিয়ার বাড়ির সম্মুখ হতে ফানাই নদীর ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা কেটে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। ফলে চৌধুরী বাজারে সাথে এই আঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে দেড় মাস থেকে। রাস্তাটি রক্ষা করে নদী খননের কাজ করার জন্য কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে লিখিত আবেদন করা হয় গত ২৪ ডিসেম্বর। কাজের ঠিকাদার, সাইট ঠিকাদারকে বিষয়টি বলার পরও কোন কাজ হয়নি।

গত শুক্রবার কর্মধা ইউনিয়নের হাসিমপুর-রাঙিছড়া রাস্তা এবং হাসিমপুর কবিরাজি ইটসোলিং রাস্তাটিও কেটে সরানো হচ্ছে। ফলে এই দু’টি রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হবে। তাছাড়া এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিক্সা চলাচলা বন্ধ হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে দু’টি প্রধান সড়কসহ ৫টি সংযোগ সড়ক বন্ধ করা হয়েছে। নদী খননের ফলে মুকুন্দপুরে মক্তব, পূর্ব হাসিমপুর মসজিদ, পূর্ব হাসিমপুর কবরস্থান এবং পূর্ব কবিরাজি কালি মন্দির ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

রাউৎগাঁও ইউনিয়নের মেম্বার মো. আনু মিয়া জানান, নদী খননের ফলে রাউৎগাঁও ইউনিয়নের বাগাজুরা, মুকুন্দপুর, গুতগুতি, কবিরাজি, লক্ষীপুর গ্রামের শতাধিক পরিবার জমি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া কমপক্ষে ১৫-২০টি পরিবার সম্পূর্ণরূপে বাড়িঘর হারিয়েছে। হাসিমপুর গ্রামের কনই বেগম, মুকুন্দপুর গ্রামের সুফিয়া বেগম, রাতিব মিয়া, রকিব মিয়া, ছালেক মিয়া জানান, আমরা বাপদাদার আমল থেকে বসবাস করে আসছি। আমাদের ভিটামাটি সব চলে গেছে নদীগর্ভে। এখন আমরা কোথায় যাবো। মাথাগুজার কোন ঠাঁই নেই।

কবিরাজি গ্রামে বিজয় মল্লিক, বিকাশ মল্লিক গুতগুতি গ্রামের ইদরিছ মিয়া, মঞ্চব মিয়া জানান, নদী খননের ফলে আমরা ভূমিহীন হয়ে গেলাম। আমাদের বসতঘর, জমির ফসল নষ্ঠ হয়েছে। আমরা গরীব মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ডে কাছে আমরা ক্ষতিপূরণ চাই। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে মাটিবন্দি করে রাখা হয়েছে। খনন কাজে নিয়োজিত লোকজন আমাদের কোন কথা শুনছে না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ নদীর খনন কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা বিত্তবানদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করছেন। ইচ্ছামতো খননকৃত মাটি ফেলা হচ্ছে, কাজে সাথে ড্রেসিং না করায় শত শত পরিবার মাটি বন্দী। ঘর বাঁচিয়ে দিবে, জমি কম কাটবে এই সব কথা বলে অনৈতিক ফায়দা নিয়ে পকেট ভারী করছে এসকেভেটর চালকরা।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৭ জানুয়ারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও এলাকা পরিদর্শণ করেন। কিন্তু তাতে কোন সুফল হয়নি।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক আক্তারুজ্জামান বলেন, এই নদীর খননকাজ কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওসহ আমি সরেজমিন পরিদর্শন করে এসেছি। কাজে কোথায়ও কোন অনিয়ম হচ্ছে না। নদীর লোপ কাটিংয়ের কোন সুযোগ নেই।

সান নিউজ/এসকে/কেটি

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা