সারাদেশ

পঞ্চগড়ে ১ কোটি কেজি চা উৎপাদনের সর্বোচ্চ রেকর্ড

মো. রাশেদুজ্জামান রাশেদ, পঞ্চগড় : দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে সমতলের চা চাষে এবং গত ২০২০ সালে উত্তরবঙ্গের পাচঁ জেলায় ১০ হাজার ১৭০ দশমিক ৩০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। যেখানে ৩১০টি ক্ষুদ্রায়ন চা বাগান থেকে ১ কোটি তিন লক্ষ অথবা ১০ দশমিক ৩০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়েছে যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে এবং করোনাকালীন সময়েও সর্বোচ্চ রেকর্ড বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চা বোর্ড পঞ্চগড়।

রোববার দুপুরে পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ডের প্রেস বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে জানানো হয় চলতি মৌসুমে স্থানীয় চা বাগান থেকে ৫ কোটি ১২ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৮৬ কেজি সবুজ কাঁচা চা পাতা উত্তোলন করা হয়েছিল। উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার আওতায় চলমান ১৮টি চা কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করে এবছর ২০২১ সালে ১ কোটি ৩ লক্ষ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। যা মোট উৎপাদন জাতীয় উৎপাদনের ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ।

চা বোর্ড আরো জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে এ অঞ্চলে চা আবাদীর পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৬৮০ দশমিক ৮৬ এশর এবং কাচাঁ চা পাতা উৎপাদন হয়েছিল ৯৫ লক্ষ ৯৯ হাজার কেজি। সেই তুলনায় ২০২০ সালে ১ হাজার ৪৮৯ দশমিক ৮৯ এশর জমির চাষাবাদ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে বেড়েছে ৭ লক্ষ ১১ হাজার কেজি।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোঃ জাহিরুল ইসলাম তিনি জানান, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে দেশের সকল চা বাগানের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চা নিলাম কেন্দ্র চালু রাখা, সঠিক সময়ে ভর্তুকি মূল্যে সার বিতরণ, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, রেশন এবং স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণের ফলে ২০২০ সালে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, কোভিড পরিস্থিতিতে উৎপাদনের ধারাবাহিকতা থেকে বুঝা যায় যে যেকোন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দেশের চা শিল্প উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ধরে রাখা সম্ভব্য।
উত্তরবঙ্গে ক্ষুদ্র চা চাষিদের ক্যামেলিয়া খোলা আকাশ স্কুলের মাধ্যমে চা চাষ বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহের ফলে সমতলের চা বাগানেও ক্ষুদ্রায়তন চাবাগান থেকে এবছর উৎপাদন সর্বোচ্চ রেকর্ড ।

পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ডের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন তিনি বলেন, সমতল ভূমিতে চা চাষের বিপ্লব ঘটিয়েছে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাও, লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলা।

১৯৯৬ সালে সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে সর্বপ্রথম চা চাষের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছিল যা ২০০০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষুদ্র পর্যায়ে চা চাষ শুরু হয়। বর্তমানে এ অঞ্চল গুলো দেশের দ্বিতীয় চা অঞ্চলে পরিণত হয়।

তিনি আরও বলেন, চা চাষের সম্প্রসারণের চাষিদের বিভিন্ন সহায়তার মাধ্যমে কর্মশালা হচ্ছে। চাষিদের সমস্যা সমাধানে দুটি পাতা একটি কুড়ি নামে একটি মোবাইল এপস চালু সহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ে একটি পোষ্ট ম্যানেজমেন্ট ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে যেখানে সমস্যা সমাধান, রোগবালাই ও পোকা দমনে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সহায়তা দেওয়া হবে।

শামীম আল মামুন তিনি আরও জানান, এ বছর ক্ষুদ্র চাষিরা কাঁচা চা পাতার ন্যাযদাম পাওয়ার উৎসাহিত হয়েছে। নতুন চা চাষিদের সংক্ষ্যা দিনের দিন বাড়ছে। এতে এ অঞ্চলের মানুষের যেমন দারিদ্র বিমোচন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং এ এলাকা গুলোতে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে।


সান নিউজ/আরজে/এনকে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা