সারাদেশ

সুন্দরবনে হরিণ শিকারের মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিনিধি, খুলনা : বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে হরিণ শিকারির দল। তারা বনের মধ্যে ফাঁদ পেতে ও গুলি করে চিত্রা ও মায়া হরিণ শিকার করছে। জানুয়ারি মাসের শেষ ১০ দিনের মধ্যে সুন্দরবন থেকে শিকার করা ১৯টি হরিণের চামড়া, ৬৩ কেজি মাংসসহ ১০ জন শিকারি ও বন্যপ্রাণির চামড়া আটক করেছে সুন্দরবন বিভাগ, কোস্টগার্ড ও পুলিশ সদস্যরা।

শনিবার (৩০ জানুয়ারি) গভীর রাতে মোংলা উপজেলার দিগরাজ বাজার সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি হরিণের মাথা ও ৪৭ কেজি মাংসসহ ৩ চোরাকারবারিকে আটক করা হয়। এসময় ৩টি মোবাইল ফোন, ১ টি হরিণের মাথা, ভুড়িসহ ৪৭ কেজি মাংস জব্দ করে কোস্টগার্ড।

শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) রাত পৌনে দুইটার দিকে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদরের ব্র্যাক অফিসের সামনে থেকে সুন্দরবন থেকে শিকার করে আনা হরিণের ১৯টি চামড়াসহ দুই পাচারকারীকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্থানীয় মাসুদের দোকানের সামনে রাস্তার ওপর সুন্দরবন থেকে শিকার করে আনা হরিণের ১১ কেজি মাংসসহ ২জনকে আটক করে থানা পুলিশ।

এর আগে রোববার (২৪ জানুয়ারি) উপজেলার কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের ধোপাদী গেটের পাশে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ওই গ্রামের পাকা রাস্তার ওপর থেকে হাতেনাতে সাড়ে ৪ কেজি হরিণের মাংসসহ ৩ পাচারকারীকে আটক করে।

অভিযোগ রয়েছে, বনদস্যুরা এখন তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয়, কিন্তু হরিণ শিকারিদের চক্রগুলোর উৎপাত সুন্দরবনে বেড়েছে বেপরোয়াভাবে। শিকারিদের ধরতে সুন্দরবনে স্মার্ট প্যাট্রল এবং বন বিভাগের টহল থাকলেও অদৃশ্য কারণে শিকার কমছে না। বনবিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ম্যানেজ করে আবার কখনও এদের চোখ ফাঁকি দিয়ে চুরি করে বনে ঢুকে শিকারিরা ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে।

পরে বিভিন্ন কৌশলে এ হরিণের মাংস খুলনা-বাগেরহাট এমনকি ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে নানা দামে। তবে বেশি দামে বিক্রি হয় চামড়া। আর এভাবে বিক্রি করতে গিয়ে মাঝে মধ্যে পথে ঘাটে ধরা পরে দুই এক জন শিকারি। ধরা পড়া দুই একজন ব্যক্তিকে ছেড়ে দিয়ে অর্থ বাণিজ্য করে কিছু অসাধু বন কর্মকর্তা ও পুলিশ।

ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ও জনপ্রতিনিধি এ সব শিকারি চক্রের কাছ থেকে হরিণের মাংসসহ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করায় দিন দিন সুন্দরবনে হরিণ শিকার বেড়ে যাচ্ছে। অনেকে বলেছেন, আগে একসময় সুন্দরবনে অহরহ হরিণ শিকার চলত। বন বিভাগ এবং আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতায় মাঝে হরিণ শিকার অনেক কম ছিল। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে হরিণ শিকার বেড়েছে।

সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) খুলনার সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, বন্যপ্রাণী শিকার নিষিদ্ধ হলেও আইন অমান্য করে হরিণ শিকার করছে একটি চক্র। এতে সুন্দরবনে দিন দিন কমে যাচ্ছে হরিণের সংখ্যা। সম্প্রতি সময়ে হরিণ শিকার বেড়ে যাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

রোববার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার বলেন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদক ব্যবসায়ীদের মোটরসাইকেল বা গাড়ি নিয়ে ধরতে পারে। কিন্তু বনের মধ্যে তা সম্ভব না। বিস্তীর্ণ বনের প্রত্যেকটি খালের আলাদা আলাদা বনরক্ষী দিতে পারলে হয়তো হরিণ শিকার কমে যেত। মানুষের নৈতিকতার অবক্ষয় হয়েছে। শিকারি ধরা পড়লে মামলা হচ্ছে ঠিকই কিন্তু ২ দিন পর আদালত থেকে তারা জামিন নিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে।

সান নিউজ/এসএ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা