রাসেল, নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীতে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উৎঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টগেশন(পিবিআই)। আর এঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী থানার ভারতীয় সীমান্ত এলাকার বাগভান্ডার সোনাতলী থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পিবিআই। পিবিআই নরসিংদীর পুলিশ সুপার মোঃ এনায়েত হোসেন মান্নানের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান তাকে গ্রেফতার করে।
বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানায়, ২০১৯ সালের ৬ জুন শিবপুর উপজেলার মধ্য কারারচর জনৈক মুজিবুরের ভাড়া বাড়িতে স্ত্রী নাজমা বেগমকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে স্বামী।
৭জুন সকালে নাজমার ১ বছরের শিশু ছেলে বায়েজিদের কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা এসে দেখে বাহির থেকে দরজা লাগানো। পরে দরজা খুলে খাটের উপর নাজমার গলা কাটা মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয় প্রতিবেশীরা। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল থেকে ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে। এই ঘটনায় নাজমার মা জাহানারা বেগম বাদি হয়ে শিবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো যায়, নিহত নাজমা বেগমের সাথে টঙ্গীতে একই স্থানে গার্মেন্টেসে চাকরি করার সুবাদে পরিচয় হয় নজরুল ইসলাম নামে এই যুবকের। পরিচয় থেকে তারা বিয়ে করে। নাজমা তারেআগের স্বামী আঃ লতিফকে তালাক দেয়। পরে তারা বিবাহের সিদ্ধান্তে নাজমাকে বাড়ীতে নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করে নজরুল। বিয়ের পর তারা টঙ্গী এলাকায় ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাস করতে থাকে।
এদিকে নাজমার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী আঃ লতিফ বিভিন্নভাবে নজরুলকে হুমকী দেয়ায় নাজমাকে তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। সেখানেও লতিফ নাজমাকে হুমকি দেয়। এঅবস্থায় নজরুল স্ত্রী নাজমাকে নিয়ে শিবপুর উপজেলার মধ্য কারারচর (বিসিক আমতলা) এলাকার জনৈক মজিবুর রহমানের ভাড়া বাসায় বসবাস করতে থাকে।
কিছুদিন যাওয়ার পর পারিবারিক অশান্তি, দুটি সংসারের ঘানি টানা এবং নজরুলের প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগমের গর্ভে জন্ম নেয়া প্রথম পুত্র সন্তান সোহাগ (১১)কে দেখাশুনা করার জন্য এক পর্যায়ে নজরুল নাজমা বেগমকে ডিভোর্স দেয়। এসময় নাজমা বেগম ছয় মাসের অন্তস্বত্তা হওয়ায় তারা আবার স্থানীয় মৌলভী দিয়ে বিয়ে করে। কিছুদিন যাওয়ার তাদের একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। তার নাম বায়েজিদ। ঘটনার সময় তার বয়স ছিল মাত্র এক বছর।
দুই দিকে দুটি সংসার চালানোর টানা পোড়নের সংসারের ঘানি টানতে বেসামাল হয়ে পড়ায় নজরুল তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাজমাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। এক পর্যায়ে তার পরিকল্পনাও বাস্তবায়র করে। হত্যার পর ঘাতক নজরুল আত্মগোপন করে।
দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে ঘাতক নজরুলকে গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করা হলে ঘাতক নজরুল স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করে হত্যার পূর্ণ বিবরণ প্রদান করে। নিহত নাজমা বেগমের বাবার বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মমতাজ আলী ও মাতার জাহানারা বেগম।
সান নিউজ/রাসেল/এসএ