সারাদেশ

নির্ভেজাল মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষিরা

বদরুল ইসলাম বিপ্লব, ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ে সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির বাক্স বসিয়ে সরিষা ফুলের নির্ভেজাল মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে। রাণীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের দিঘীয়া গ্রামে সংগ্রহ করা হচ্ছে। গ্রামের মেঠো পথ ধরে যতদুর দৃষ্টি যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। পথের দু’ধারে সরিষার ফুলে বিস্তীর্ণ মাঠ হলুদে ছেয়ে গেছে। যে দিকে চোখ যায় মনে হয় সরিষার ফুলে ঘিরে আছে সারা গ্রাম। পাশেই বিঘা-খানেক জমিতে মধু সংগ্রহের জন্য বসানো হয়েছে ১২০টি মৌচাক বাক্স।

ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের দিঘীয়া গ্রাম।এ গ্রামের ৭০একর জমিতে এবার সরিষার চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৫০ বিঘা জমির সরিষার বীজ বিনামূল্যে প্রদান করেছে উপজেলা কৃষি অফিস।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে আমন ধান তুলে গম, ভুট্টা আবাদ করা হতো। এবার কৃষি বিভাগের পরামর্শে লেহেম্বা ইউনিয়নের দীঘিয়া গ্রামের প্রায় ৩ ভাগ জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে।সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে ভরে গেছে সারা গ্রাম। এখানে মৌমাছির চাষ করে মধু আহরণ করছেন চাষীরা। এক গ্রামেই এত পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ এবারেই প্রথম । সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন কৃষি বিভাগ।

আমন ধান তোলার পরে গম ভুট্টা রোপন করলে বোরো ধান রোপন করতে পারতো না কৃষকরা । কৃষকদের সরাসরি আউশ ধান রোপন করতে হতো। অপরদিকে সরিষা আবাদে মাত্র ৬০ থেকে ৭০দিনের মতো সময় লাগে। এতে মাত্র ২-৩ হাজার টাকা খরচে বিঘা প্রতি কমপক্ষে ৭/৮ মণ করে সরিষা পাওয়া যায়। বাজার মূল্য প্রতিমণ দুই হাজার থেকে ২২শত টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

সরিষার আবাদ তোলার পর সেই জমিতেই বোরো ও আউশ ধানও আবাদ করতে পারে। যার ফলে এক জমিতেই ৩ ফসল উৎপাদন করতে পারছে কৃষকরা। এতে কোন আবাদী জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকছে না।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, জেলার রাণীশংকৈল উপজেলা জুড়ে এবার সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৮শত ৫০হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চাইতে অধিক জমিতে সরিষার আবাদ অর্জিত হয়েছে। অর্থাৎ আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৩শত ৫০হেক্টর।

এরমধ্যে উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের দিঘীয়া গ্রামেই প্রায় ৭০একর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। কৃষকরা বারি-১৪, ১৫ বিনা ৪,৯ জাতের সরিষা আবাদ করছেন।

দিনাজপুর জেলার সেতাবগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা মৌচাষী সোহেল রানা জানান, সরিষা ফুল হতে মধু সংগ্রহের জন্য দীঘিয়া গ্রামে ১২০টি মৌচাক বাক্স বসানো হয়েছে। এতে মৌমাছি ফুলে ফুলে মধু সংগ্রহ করায় পরাগায়ণ ঘটায় এসব জমিতে সরিষার ফলন বাড়বে।এতে উপকৃত হবেন কৃষকরা। অপরদিকে গ্রামের সরিষা ফুলের মধু ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি দরে পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারাও বেশ খুশি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ জানান, সরিষা চাষ করলে ওই জমিতে ধান আবাদ করা যেমন লাভজনক। তেমনি মৌমাছির পরাগায়ণের ফলে এসব জমিতে বেশি পরিমাণে সরিষা উৎপন্ন হবে। তাতে কৃষকরা লাভবান হবে।


সান নিউজ/বিআইবি/এনকে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা